Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 8
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

কোষ: জীবনের একক

কোষ: জীবনের একক অধ্যায়টি সমস্ত সজীব বস্তুর ভিত্তিপ্রস্তর কোষীয় জীববিদ্যার বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করে। এই অধ্যায়ে রবার্ট হুক ও লিউয়েনহুকের আবিষ্কার থেকে শুরু করে স্লাইডেন, শ্যোয়ান ও রুডলফ ফিরশভের কোষ তত্ত্বের রূপরেখা ও এর ব্যতিক্রম তুলে ধরা হয়েছে। প্রোক্যারিয়োটিক ও ইউক্যারিয়োটিক কোষের কাঠামোগত পার্থক্য, প্রোক্যারিয়োটের তিনস্তরীয় আবরণী, মেসোজোম, নগ্ন বৃত্তাকার ডিএনএ এবং ৭০এস রাইবোজোমের বিশদ বিবরণ রয়েছে। ইউক্যারিয়োটিক কোষের ক্ষেত্রে সিঙ্গার ও নিকলসনের ফ্লুইড মোজাইক মডেল, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় পর্দা পরিবহন, মধ্য ল্যামেলা ও উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বস্তু, লাইসোজোম ও ভ্যাকিউল সমন্বিত এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র, অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু হিসেবে মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের পরা-অনুগঠন, ৮০এস রাইবোজোম, সাইটোস্কেলিটন, সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার ৯+২ অ্যাক্সোনিম, সেন্ট্রিওলের ৯+০ কার্টহুইল বিন্যাস এবং নিউক্লিয়াস, নিউক্লিওজোম ও ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থানিক শ্রেণিবিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

আমাদের দেহের প্রতিটি আণুবীক্ষণিক কোষ যেন এক অবিশ্বাস্য স্বয়ংক্রিয় ন্যানো-শহর: যেখানে রয়েছে প্রোটিন তৈরির স্বয়ংক্রিয় অ্যাসেম্বলি লাইন, প্রোটন পাম্প দ্বারা বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি করা জৈব বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঠিকানাযুক্ত রাসায়নিক শুল্ক বিভাগ এবং বর্জ্য পদার্থ হজম করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার রিসাইক্লিং চেম্বার। প্রাণহীন জৈব অণুগুলি কীভাবে একত্রিত হয়ে এই জীবন্ত বিস্ময় সৃষ্টি করে?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

কোষীয় জীববিদ্যা আধুনিক আণবিক জীববিজ্ঞান, জিনতত্ত্ব, অনকোলজি ও ফার্মাকোলজির প্রধান ভিত্তি। ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধি অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ও সংকেত ত্রুটির কারণে ঘটে, আবার লাইসোজোমের উৎসেচকের ত্রুটির কারণে টে-স্যাক্স ও গশের রোগের মতো মারাত্মক সঞ্চয়জনিত ব্যাধি দেখা দেয়। মাইটোকনড্রিয়ার জিনতত্ত্ব মাতৃসূত্রে সংক্রামিত বিপাকীয় মায়োপ্যাথি বুঝতে সাহায্য করে। প্লাজমা পর্দার সোডিয়াম-পটাশিয়াম পাম্পের পরিবহন নীতি স্নায়ু সংবেদন পরিবাহী ক্রিয়া এবং আধুনিক টার্গেটেড ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তির ভিত্তি রচনা করেছে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • জৈব অণুসমূহ: লিপিড, ফসফোলিপিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং নিউক্লিক অ্যাসিডের (DNA ও RNA) প্রাথমিক গঠন
  • জীবের শ্রেণিবিন্যাস: মনেরা (প্রোক্যারিয়োট) এবং প্রোটিস্টা, ছত্রাক, প্ল্যান্টি ও অ্যানিম্যালিয়ার (ইউক্যারিয়োট) মূল পার্থক্য
  • পদার্থবিদ্যার ভিত্তি: ঘনত্ব নতিমাত্রা, ব্যাপন, অভিস্রবণ এবং এটিপি আর্দ্রবিশ্লেষণের মৌলিক ধারণা

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 কোষ তত্ত্ব, প্রোক্যারিয়োটিক কোষের...
2 প্লাজমা পর্দা (ফ্লুইড মোজাইক মডেল),...
3 এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র: ER, গলগি বস্ত...
4 অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত শক্তি রূপান্তরক...
5 রাইবোজোম, সাইটোস্কেলিটন, সিলিয়া, ফ...
6 নিউক্লিয়াস, ক্রোমাটিন, ক্রোমোজোম র...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

কোষ তত্ত্ব, প্রোক্যারিয়োটিক কোষের স্থাপত্য ও কোষের বৈচিত্র্য

১. কোষবিদ্যার ঐতিহাসিক মাইলফলক ও কোষ তত্ত্ব

কোষ হলো সমস্ত সজীব বস্তুর গঠনগত ও কার্যগত একক। কোষবিদ্যার প্রধান ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলি হলো:

  • রবার্ট হুক (১৬৬৫): কর্কের পাতলা ছেদ পর্যবেক্ষণ করে মৌচাকের মতো খোপ খোপ মৃত কোষ প্রাচীরের কাঠামো লক্ষ্য করেন এবং এদের 'কোষ' (Cell) নামকরণ করেন।
  • অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক (১৬৭৪): সর্বপ্রথম নিজস্ব উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সচল জীবন্ত কোষ পর্যবেক্ষণ করেন (ব্যাকটিরিয়া, প্রোটোজোয়া, শুক্রাণু ও লোহিত রক্তকণিকা)।
  • রবার্ট ব্রাউন (১৮৩১): অর্কিড পাতার কোষে সর্বপ্রথম সুগঠিত নিউক্লিয়াস আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
  • ম্যাথিয়াস শ্লাইডেন (১৮৩৮) ও থিওডোর শ্যোয়ান (১৮৩৯): শ্লাইডেন (জার্মান উদ্ভিদবিদ) প্রমাণ করেন যে সমস্ত উদ্ভিদ বিভিন্ন প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত। শ্যোয়ান (জার্মান প্রাণিবিদ) প্রাণীকলায় কোষপর্দা শনাক্ত করেন এবং উদ্ভিদকোষে কোষ প্রাচীর-এর অনন্য উপস্থিতি নির্দেশ করেন। তাঁরা যৌথভাবে ক্লাসিক্যাল কোষ তত্ত্ব (Cell Theory) প্রবর্তন করেন।
  • রুডলফ ফিরশভ (১৮৫৫): ল্যাটিন নীতি 'Omnis cellula-e cellula' (পূর্ববর্তী জীবন্ত কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই নতুন কোষ সৃষ্টি হয়) প্রস্তাব করে আধুনিক কোষ তত্ত্ব পূর্ণাঙ্গ করেন।
২. আধুনিক কোষ তত্ত্ব ও এর ব্যতিক্রমসমূহ

আধুনিক কোষ তত্ত্বের মূল সূত্রগুলি হলো: (১) সমস্ত সজীব জীব এক বা একাধিক কোষ এবং কোষজাত পদার্থ দ্বারা গঠিত। (২) কোষ হলো জীবনের গঠনগত, কার্যগত ও শারীরবৃত্তীয় মৌলিক একক। (৩) পূর্ববর্তী সজীব কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই সমস্ত নতুন কোষ উৎপন্ন হয়। (৪) প্রতিটি কোষের মৌলিক রাসায়নিক গঠন এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়া অভিন্ন।

কোষ তত্ত্বের ব্যতিক্রম: ভাইরাস, ভাইরয়েড ও প্রিয়ন অকোষীয় সত্তা; পোষক কোষের বাইরে এদের কোনো প্রোটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বা বিপাকীয় সক্রিয়তা থাকে না। এছাড়া সিনোসাইটিক শৈবাল (*Vaucheria*) ও সিনোসাইটিক ছত্রাক (*Rhizopus*) হলো অবিভক্ত বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত প্রোটোপ্লাজমীয় ভর যা সাধারণ কোষীয় বিভাজনের নিয়মে পড়ে না।
৩. প্রোক্যারিয়োটিক কোষের পরা-অনুগঠন

মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীবদের (ব্যাকটিরিয়া, সায়ানোব্যাকটিরিয়া, মাইকোপ্লাজমা) প্রোক্যারিয়োটিক কোষ বলা হয়। এদের পর্দাঘেরা অঙ্গাণু ও সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না:

  • কোষীয় আবরণী (Cell Envelope): একটি নিবিড় তিনস্তরীয় প্রতিরক্ষামূলক আবরণী:
    • গ্লাইকোক্যালিক্স: সর্ববহিঃস্থ স্তর; এটি শিথিল মিউসিলেজ যুক্ত হলে স্লাইম স্তর এবং পুরু ও শক্ত হলে ক্যাপসুল গঠন করে (যা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটিরিয়াকে ফ্যাগোসাইটোসিস থেকে রক্ষা করে)।
    • কোষ প্রাচীর: মধ্যবর্তী দৃঢ় স্তর যা পেপটিডোগ্লাইক্যান (মিউরিন) দ্বারা গঠিত; এটি কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি রক্ষা করে এবং অভিস্রবণজনিত ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
    • প্লাজমা পর্দা: অন্তঃস্থ পছন্দমাফিক ভেদ্য ফসফোলিপিড দ্বি-স্তর যা উপাদানের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে।
  • মেসোজোম ও ক্রোমাটোফোর: প্লাজমা পর্দা সাইটোপ্লাজমের ভেতরে প্রবিষ্ট হয়ে থলি, নালিকা বা ল্যামেলা আকারে মেসোজোম গঠন করে। এটি ব্যাকটিরিয়ার কোষীয় শ্বসন, ডিএনএ প্রতিলিপিকরণ, ক্ষরণ এবং কোষ প্রাচীর গঠনে অংশ নেয়। সালোকসংশ্লেষকারী সায়ানোব্যাকটিরিয়ায় রঞ্জকবাহী পর্দার অন্তর্বলনকে ক্রোমাটোফোর বলে।
  • জিনগত বস্তু (নিউক্লিঅয়েড): নিউক্লীয় পর্দা ও হিস্টোন প্রোটিনবিহীন একক নগ্ন বৃত্তাকার দ্বিসূত্রী ডিএনএ (dsDNA), যাকে নিউক্লিঅয়েড বা জিনোফোর বলে। এছাড়া বহু ব্যাকটিরিয়ায় মূল ক্রোমোজোমের বাইরে ছোট বৃত্তাকার স্ব-প্রজননশীল ডিএনএ থাকে যাকে প্লাজমিড বলে (যেমন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী R-প্লাজমিড, জনন সহায়ক F-প্লাজমিড)।
  • রাইবোজোম: পর্দাশূন্য ৭০এস রাইবোজোম (৫০এস বৃহৎ সাবইউনিট এবং ৩০এস ক্ষুদ্র সাবইউনিট নিয়ে গঠিত)। একটি mRNA অণুর সাথে একাধিক রাইবোজোম যুক্ত হয়ে পলিজোম বা পলিরিবোজোম গঠন করে যা দ্রুত প্রোটিন অনুবাদ সম্পন্ন করে।
  • ইনক্লুশন বডি: সঞ্চিত খাদ্য উপাদান ধারণকারী পর্দাশূন্য সাইটোপ্লাজমীয় দানা (যেমন ফসফেট গ্র্যানুল, সায়ানোফাইসিয়ান গ্র্যানুল, গ্লাইকোজেন গ্র্যানুল এবং জলজ ব্যাকটিরিয়ায় প্লবতা প্রদানকারী গ্যাস ভ্যাকিউল)।
  • কোষীয় উপাঙ্গ: ফ্ল্যাজেলা (ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিন নির্মিত সূত্র, হুক ও বেসাল বডি সমন্বিত চলন অঙ্গ), পিলি (পিলিন প্রোটিন নির্মিত নালিকা যা ব্যাকটিরিয়ার কনজুগেশনে যুক্ত হয়) এবং ফিম্ব্রি (দৃঢ় রোঁয়া যা কোনো তলে ব্যাকটিরিয়াকে আটকে থাকতে সাহায্য করে)।

প্লাজমা পর্দা (ফ্লুইড মোজাইক মডেল), পর্দা পরিবহন ও উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর

১. সিঙ্গার ও নিকলসনের ফ্লুইড মোজাইক মডেল (১৯৭২)

প্লাজমা পর্দা হলো সজীব সাইটোপ্লাজমকে পরিবেষ্টনকারী গতিশীল ও পছন্দমাফিক ভেদ্য আবরণী। ১৯৭২ সালে এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন প্রস্তাবিত ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য:

  • ফসফোলিপিড দ্বি-স্তর: পর্দার মূল কাঠামোটি উভকামী (amphipathic) ফসফোলিপিডের ধারাবাহিক দ্বি-স্তর নিয়ে গঠিত:
    • পোলার হাইড্রোফিলিক মস্তক: গ্লিসারল ও ফসফেট সমন্বিত জলআকর্ষী অংশ, যা বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় জলীয় মাধ্যমের দিকে মুখ করে থাকে।
    • নন-পোলার হাইড্রোফোবিক পুচ্ছ: সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত জলবিকর্ষী অংশ, যা ভেতরের দিকে জলের সংস্পর্শহীন অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।
  • অর্ধ-তরল অবস্থা (Quasi-fluid State): সিস-দ্বিবন্ধনযুক্ত অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতির কারণে ফসফোলিপিড স্তরটি জেলি বা অর্ধ-তরল সান্দ্র অবস্থায় থাকে। এই তারল্যের জন্য লিপিড এবং প্রোটিন অণুগুলি পর্দার একই স্তরে পার্শ্বীয় ব্যাপন (Lateral diffusion) সম্পন্ন করতে পারে। এটি কোষের বৃদ্ধি, ক্ষরণ, এন্ডোসাইটোসিস ও সাইটোকাইনেসিসের জন্য অপরিহার্য।
  • পর্দা প্রোটিন: নিষ্কাশনের সহজতার ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত:
    • ইনটিগ্রাল (অন্তর্নিহিত) প্রোটিন: লিপিড স্তরে আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রোথিত থাকে। যে প্রোটিনগুলি সম্পূর্ণ স্তর ভেদ করে জলীয় চ্যানেল গঠন করে তাদের ট্রান্সমেমব্রেন বা টানেল প্রোটিন বলে।
    • পেরিফেরাল (বহিঃস্থ) প্রোটিন: লিপিড স্তরের বহিঃপৃষ্ঠে বা অন্তঃপৃষ্ঠে শিথিলভাবে অবস্থান করে, যা মৃদু লবণ দ্রবণ দিয়ে সহজে পৃথক করা যায়।
  • গ্লাইকোক্যালিক্স: পর্দার বহিঃতলে লিপিডের সাথে যুক্ত অলিগোস্যাকারাইড শৃঙ্খল (গ্লাইকোলিপিড) এবং প্রোটিনের সাথে যুক্ত শৃঙ্খল (গ্লাইকোপ্রোটিন) কোষ-কোষ শনাক্তকরণ, সংলগ্নতা ও অনাক্রম্যতা রক্ষা করে (যেমন মানুষের ABO রক্তের গ্রুপ অ্যান্টিজেন)।
২. পর্দা পরিবহনের কলাকৌশল

প্লাজমা পর্দা পছন্দমাফিক ভেদ্য হওয়ায় বিভিন্ন উপায়ে দ্রাব ও জলের পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে:

পরিবহন পদ্ধতি চালিকা শক্তি ATP শক্তি বাহক প্রোটিন শারীরবৃত্তীয় উদাহরণ
সরল ব্যাপন (Simple Diffusion) ঘনত্ব নতিমাত্রার অনুকূলে (বেশি থেকে কম ঘনত্ব)। না (নিষ্ক্রিয়)। প্রয়োজন নেই (লিপিড স্তরের ভেতর দিয়ে সরাসরি)। লিপিড-দ্রবণীয় ও ক্ষুদ্র অণু ($\text{O}_2, \text{CO}_2$, স্টেরয়েড, ইথানল)।
অভিস্রবণ (Osmosis) জল বিভব নতিমাত্রা (উচ্চ জল বিভব থেকে নিম্ন জল বিভব)। না (নিষ্ক্রিয়)। অ্যাকোয়াপোরিন চ্যানেল দ্রুত পরিবহন সম্পন্ন করে। মূলরোম দ্বারা জল শোষণ এবং কৈশিক নালীর মাধ্যমে জল পরিবহন।
সহায়ক ব্যাপন (Facilitated Diffusion) তড়িৎ-রাসায়নিক বা ঘনত্ব নতিমাত্রার অনুকূলে। না (নিষ্ক্রিয়)। নির্দিষ্ট চ্যানেল বা পারমিয়েজ প্রোটিনের প্রয়োজন। GLUT-4 বাহক দ্বারা গ্লুকোজ পরিবহন, আয়ন চ্যানেল।
প্রাথমিক সক্রিয় পরিবহন (Primary Active Transport) তড়িৎ-রাসায়নিক নতিমাত্রার বিপরীতে (উচ্চ নতিমাত্রার বিরুদ্ধে)। হ্যাঁ (সরাসরি ATP আর্দ্রবিশ্লেষণ)। নির্দিষ্ট ইলেকট্রোজেনিক পাম্প প্রোটিন (ATPases)। $\text{Na}^+/\text{K}^+$ এটিপেজ পাম্প ($৩\,\text{Na}^+$ বাইরে, $২\,\text{K}^+$ ভেতরে), $\text{Ca}^{2+}$ পাম্প।
৩. উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর ও মধ্য ল্যামেলা

উদ্ভিদ, ছত্রাক ও শৈবালের প্লাজমা পর্দার বাইরে নির্জীব ও দৃঢ় বহিরাবরণী হলো কোষ প্রাচীর:

  • রাসায়নিক গঠন: সেলুলোজ মাইক্রোফাইব্রিল যা হেমিসেলুলোজ, পেকটিন ও কাঠামোগত প্রোটিনের ধাত্রে গ্রথিত থাকে। (ছত্রাকের প্রাচীরে কাইটিন এবং শৈবালে সেলুলোজ, গ্যালাকটান ও ম্যানান থাকে)।
  • প্রাথমিক প্রাচীর (Primary Wall): বর্ধনশীল কচি কোষে গঠিত পাতলা ও নমনীয় স্তর যা কোষ প্রসারণে সক্ষম; কোষ পরিণত হলে এটি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • গৌণ প্রাচীর (Secondary Wall): পরিণত ও অবিভাজনক্ষম কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরের দিকে জমা হয়; এটি পুরু ও দৃঢ় এবং এতে জল-অভেদ্য লিগনিন বা সুবেরিন সঞ্চিত থাকে (যেমন স্ক্লেরেনকাইমা, ট্র্যাকিড)।
  • মধ্য ল্যামেলা (Middle Lamella): সংলগ্ন দুটি উদ্ভিদ কোষের মধ্যবর্তী সিমেন্ট সদৃশ আঠালো স্তর, যা প্রধানত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট দ্বারা গঠিত। ফল পাকার সময় পেকটিনেজ উৎসেচকের ক্রিয়ায় মধ্য ল্যামেলা গলে গেলে ফল নরম হয়।
  • প্লাজমোডেসমাটা (Plasmodesmata): কোষ প্রাচীর ও মধ্য ল্যামেলা ভেদ করে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমকে সংযুক্তকারী আণুবীক্ষণিক নালী (সিমপ্লাস্টিক অবিচ্ছিন্নতা)। এর কেন্দ্রে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের একটি সূক্ষ্ম নালিকা থাকে যাকে ডেস্মোটিউবিউল (Desmotubule) বলে।

এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র: ER, গলগি বস্তু, লাইসোজোম ও কোষগহ্বর

১. এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্রের ধারণা

ইউক্যারিয়োটিক কোষের যেসব পর্দাঘেরা অঙ্গাণু গঠনগতভাবে পৃথক হওয়া সত্ত্বেও ভেসিকুলার প্রবাহের মাধ্যমে একটি ধারাবাহিক ও সুসংহত কার্যপ্রণালী সম্পন্ন করে, তাদের একত্রে এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র (Endomembrane System) বলে। এর প্রধান চারটি অঙ্গাণু হলো: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (ER), গলগি বস্তু, লাইসোজোম এবং ভ্যাকিউল। অপরপক্ষে, মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোম এদের কাজের অসংলগ্নতার কারণে এই তন্ত্রের বাইরে অবস্থান করে।

২. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (ER)

সাইটোপ্লাজমে জালের মতো বিস্তৃত চ্যাপ্টা সিস্টার্নি, থলি ও নালিকা সমন্বিত ঝিল্লি তন্ত্র যা সাইটোপ্লাজমকে লুমিনাল (ER-এর ভেতরে) এবং এক্সট্রা-লুমিনাল (সাইটোসল) দুটি প্রকোষ্ঠে ভাগ করে:

  • অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (RER): পর্দার গায়ে রাইবোফোরিন প্রোটিনের সাহায্যে ৮০এস রাইবোজোম সংলগ্ন থাকে। বহিঃস্থ নিউক্লীয় পর্দার সাথে অবিচ্ছিন্ন। প্রধান কাজ: ক্ষরণকারী প্রোটিন, লাইসোজোমাল উৎসেচক ও পর্দা প্রোটিনের সংশ্লেষ এবং প্রাথমিক ভাঁজকরণ। প্রোটিন ক্ষরণকারী কোষে (অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসিনার কোষ, প্লাজমা কোষ) এটি অত্যন্ত সুগঠিত।
  • মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (SER): রাইবোজোমবিহীন এবং মসৃণ নালিকা দ্বারা গঠিত। প্রধান কাজ: ফসফোলিপিড ও কোলেস্টেরল জাতীয় লিপিড সংশ্লেষ, স্টেরয়েড হরমোন সংশ্লেষ (টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন), যকৃতে সাইটোক্রোম P450 উৎসেচকের সাহায্যে ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থের নির্বিষকরণ (Detoxification), এবং পেশীকোষে ক্যালসিয়াম সঞ্চয় ও নিঃসরণ (পেশীতে একে সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বলে)।
৩. গলগি বস্তু (গলগি কমপ্লেক্স)

১৮৯৮ সালে ক্যামিলো গলগি পেঁচা ও বিড়ালের স্নায়ুকোষে সিলভার নাইট্রেট রঞ্জনের মাধ্যমে এটি আবিষ্কার করেন। নিউক্লিয়াসের নিকটে সমান্তরালভাবে সজ্জিত বাঁকানো চ্যাপ্টা থলি সদৃশ সিস্টার্নি (০.৫ থেকে ১.০ $\mu ext{m}$ ব্যাস) নিয়ে গঠিত:

  • কার্যগত মেরুত্ব (Polarity):
    • সিস তল (গঠনকারী তল / Cis Face): উত্তল তল যা নিউক্লিয়াস ও ER-এর দিকে মুখ করে থাকে; RER থেকে প্রোটিনবাহী ভেসিকল এখানে এসে ফিউজ হয়।
    • ট্রান্স তল (পরিণত তল / Trans Face): অবতল তল যা প্লাজমা পর্দার দিকে মুখ করে থাকে; প্রক্রিয়াকৃত ক্ষরণকারী ভেসিকল ও প্রাথমিক লাইসোজোম এখান থেকে কুঁড়ির মতো নির্গত হয়।
  • প্রধান কার্যাবলি:
    • গ্লাইকোসাইলেশন: প্রোটিনের সাথে শর্করা যুক্ত করে গ্লাইকোপ্রোটিন এবং লিপিডের সাথে শর্করা যুক্ত করে গ্লাইকোলিপিড গঠন করে।
    • পদার্থের বাছাই ও ক্ষরণ: ক্ষরণকারী উৎসেচককে জাইমোজেন দানায় রূপান্তর করা এবং টার্গেট অনুযায়ী নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রেরণ করা (কোষের ট্রাফিক পুলিশ)।
৪. লাইসোজোম

ট্রান্স-গলগি জালিকা থেকে কুঁড়ির মতো উৎপন্ন একক পর্দাঘেরা গোলকাকার অঙ্গাণু, যা কোষের 'পরিপাককারী অঙ্গাণু' হিসেবে পরিচিত:

  • অ্যাসিড হাইড্রোলেজ উৎসেচক: এতে ৫০টিরও বেশি আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচক থাকে (প্রোটিয়েজ, লাইপেজ, নিউক্লিয়েজ, কার্বোহাইড্রেজ ও অ্যাসিড ফসফেটেজ)। এই উৎসেচকগুলি অম্লীয় পরিবেশে (pH ৪.৫ থেকে ৫.০) সর্বাধিক সক্রিয় থাকে, যা লাইসোজোম পর্দার সক্রিয় প্রোটন ($ ext{H}^+$) পাম্প দ্বারা বজায় থাকে।
  • হেটারোফ্যাগি ও অটোফ্যাগি: ফ্যাগোসাইটোসিস দ্বারা গৃহীত বহিরাগত খাদ্য বা জীবাণু ধ্বংস করে (হেটারোফ্যাগি), এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো অঙ্গাণুকে পরিপাক করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে (অটোফ্যাগি)।
  • অটোলাইসিস ('আত্মঘাতী থলি'): রোগাক্রান্ত অবস্থায় বা কোষীয় মৃত্যুর (অ্যাপোপটোসিস) সময় লাইসোজোমগুলি বিদীর্ণ হয়ে সম্পূর্ণ কোষকে পরিপাক করে ফেলে।
৫. ভ্যাকিউল বা কোষগহ্বর

উদ্ভিদ কোষের আয়তনের ৯০% পর্যন্ত স্থান দখলকারী একক পর্দাঘেরা তরলপূর্ণ গহ্বর:

  • টোনোপ্লাস্ট: উদ্ভিদ ভ্যাকিউলের একক পছন্দমাফিক ভেদ্য পর্দা। এতে সক্রিয় পাম্প প্রোটিন থাকে যা সাইটোপ্লাজম থেকে আয়নকে নতিমাত্রার বিপরীতে ভ্যাকিউলের ভেতর টেনে আনে। ফলে ভ্যাকুয়োলে উচ্চ ঘনত্ব সৃষ্টি হয় এবং জল প্রবেশ করে রসস্ফীতি চাপ (Turgor pressure) তৈরি করে যা কাণ্ড ও পাতাকে খাড়া রাখতে সাহায্য করে।
  • ভ্যাকিউলের প্রকারভেদ:
    • রস গহ্বর (Sap Vacuole): জল, খনিজ লবণ, জৈব অ্যাসিড ও জলে দ্রবণীয় অ্যান্থোসায়ানিন রঞ্জক (লাল, নীল বা বেগুনি ফুলের বর্ণ) ধারণ করে।
    • সংকোচনশীল গহ্বর (Contractile Vacuole): মিষ্টি জলের এককোষী জীবে (*Amoeba*) অতিরিক্ত জল বের করে অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ ও রেচনে সাহায্য করে।
    • খাদ্য গহ্বর (Food Vacuole): প্রোটোজোয়ায় ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে গৃহীত খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত শক্তি রূপান্তরকারী অঙ্গাণু: মাইটোকনড্রিয়া ও প্লাস্টিড

১. অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণুর ধারণা ও তাৎপর্য

মাইটোকনড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্ট হলো ইউক্যারিয়োটিক কোষের এমন দুটি অঙ্গাণু যা শক্তিকে কোষে ব্যবহারযোগ্য রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত করে। এদের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু (Semi-autonomous organelles) বলা হয়; কারণ এদের নিজস্ব বৃত্তাকার দ্বিসূত্রী ডিএনএ (dsDNA), ৭০এস রাইবোজোম ও আরএনএ রয়েছে যার সাহায্যে এরা কিছু প্রয়োজনীয় প্রোটিন নিজেরাই তৈরি করতে পারে এবং ব্যাকটিরিয়ার মতো দ্বি-বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। তবে বেশিরভাগ প্রোটিনের জন্য এদের নিউক্লীয় জিনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।

২. মাইটোকনড্রিয়া: পরা-অনুগঠন ও শক্তি রূপান্তর

বায়বীয় শ্বসনের মাধ্যমে কোষের সিংহভাগ এটিপি সংশ্লেষ করায় একে 'কোষের শক্তিঘর' বলা হয়। একটি আদর্শ মাইটোকনড্রিয়া দ্বি-একক পর্দাঘেরা নলাকার বা সসেজ আকৃতির অঙ্গাণু:

  • বহিঃপর্দা: মসৃণ এবং পোরিন নামক বৃহৎ প্রোটিন চ্যানেলের উপস্থিতির কারণে ছোট অণু ও আয়নগুলির জন্য অবাধে ভেদ্য।
  • পেরি-মাইটোকনড্রিয়াল স্থান: বহিঃপর্দা ও অন্তঃপর্দার মধ্যবর্তী তরলপূর্ণ স্থান যেখানে ইলেকট্রন পরিবহনের সময় প্রোটন ($ ext{H}^+$) পাম্প হয়ে জমা হয় এবং প্রোটন নতিমাত্রা সৃষ্টি করে।
  • অন্তঃপর্দা ও ক্রিস্টি: অত্যন্ত পছন্দমাফিক ভেদ্য পর্দা যা ধাত্রের দিকে অসংখ্য আঙুলের মতো বা পাতের মতো ভাঁজ সৃষ্টি করে প্রসারিত হয়, যাদের ক্রিস্টি (Cristae) বলে। ক্রিস্টি ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্র (ETC) এবং এটিপি সংশ্লেষের জন্য তলীয় ক্ষেত্রফল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • অক্সিজোম ($F_0-F_1$ কমপ্লেক্স / এটিপি সিন্থেজ): ক্রিস্টির অন্তঃপৃষ্ঠে প্রোথিত পিন-হেড সদৃশ কণা:
    • $F_0$ ভিত্তি: অন্তঃপর্দায় প্রোথিত হাইড্রোফোবিক প্রোটন চ্যানেল যার ভেতর দিয়ে প্রোটন ধাত্রে প্রবাহিত হয়।
    • $F_1$ শীর্ষ: ধাত্রের দিকে প্রসারিত গোলকাকার ডোমেন যা $ ext{ADP} + ext{Pi}$ থেকে ঘূর্ণন পদ্ধতিতে ATP সংশ্লেষ করে।
  • ম্যাট্রিক্স (ধাত্র): জেলিসদৃশ অভ্যন্তরীণ তরলে ক্রেবস চক্রের (TCA cycle) উৎসেচক, একটি নগ্ন বৃত্তাকার dsDNA, ৭০এস রাইবোজোম এবং আরএনএ অণু থাকে।
৩. প্লাস্টিড: শ্রেণিবিভাগ ও ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন

প্লাস্টিড হলো উদ্ভিদ কোষ ও ইউগ্লিনয়েডে উপস্থিত দ্বি-একক পর্দাঘেরা অঙ্গাণু। রঞ্জকের উপস্থিতির ভিত্তিতে প্লাস্টিড তিন প্রকার:

  • লিউকোপ্লাস্ট: বর্ণহীন সঞ্চয়ী প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের সূর্যালোকবিহীন অঙ্গে থাকে:
    • অ্যামাইলোপ্লাস্ট: কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার সঞ্চয় করে, যেমন আলুর টিউবার।
    • ইলায়োপ্লাস্ট: ফ্যাট, লিপিড ও তেল সঞ্চয় করে, যেমন রেড়ির বীজ।
    • অ্যালিউরোপ্লাস্ট: প্রোটিন দানা সঞ্চয় করে, যেমন ভুট্টার বীজ।
  • ক্রোমোপ্লাস্ট: ফ্যাট-দ্রবণীয় ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক (ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল) ধারণ করে যা ফুল, পাকা ফল (যেমন টমেটোর লাইকোপিন) ও পাতায় হলুদ, কমলা বা লাল বর্ণ সৃষ্টি করে পরাগায়নে সাহায্য করে।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল b ও ক্যারোটিনয়েড ধারণ করে যা সালোকসংশ্লেষে আলোকশক্তি শোষণ করে।
৪. ক্লোরোপ্লাস্টের পরা-অনুগঠন

উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে উপস্থিত লেন্স বা চাকতি আকৃতির অঙ্গাণু (দৈর্ঘ্য ৪–১০ $\mu ext{m}$, প্রস্থ ২–৪ $\mu ext{m}$) যা দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত:

  • স্ট্রোমা বা ধাত্র: অভ্যন্তরীণ তরলপূর্ণ প্রকোষ্ঠ; এতে বৃত্তাকার dsDNA, ৭০এস রাইবোজোম, আরএনএ এবং সালোকসংশ্লেষের অন্ধকার বিক্রিয়া বা ক্যালভিন চক্রের উৎসেচক থাকে, যার মধ্যে প্রধান হলো রুববcurrentিস্কো (Rubisco) যা পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাচুর্যপূর্ণ উৎসেচক।
  • থাইলাকয়েড: স্ট্রোমায় ভাসমান চ্যাপ্টা থলির মতো পর্দাবেষ্টিত গঠন। থাইলাকয়েডের পর্দায় আলোক বিক্রিয়ার ফটোসিস্টেম (PS I ও PS II), ক্লোরোফিল ও ইলেকট্রন বাহক প্রোটিন সজ্জিত থাকে। থাইলাকয়েডের অভ্যন্তরীণ গহ্বরকে লুমেন বলে।
  • গ্রানা (একবচনে Granum): কয়েনের মতো থাইলাকয়েডগুলি একের ওপর এক স্তূপাকারে সজ্জিত হয়ে গ্রানা গঠন করে (প্রতি ক্লোরোপ্লাস্টে ৪০–৬০টি গ্রানা থাকে)। সংলগ্ন গ্রানাগুলি চ্যাপ্টা নলাকার পর্দা দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে যাদের স্ট্রোমা ল্যামেলি (ফ্রেট) বলে।

রাইবোজোম, সাইটোস্কেলিটন, সিলিয়া, ফ্ল্যাজেলা ও সেন্ট্রোজোম

১. রাইবোজোম (প্যালাডে কণা)

১৯৫৩ সালে জর্জ প্যালাডে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ঘন দানাদার কণা হিসেবে এটি আবিষ্কার করেন। রাইবোজোম হলো সমস্ত সজীব কোষে উপস্থিত পর্দাশূন্য রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা (rRNA ও প্রোটিনের মিশ্রণ):

  • ভেদবার্গ একক (Svedberg Unit, S): আল্ট্রাসেন্ট্রিফিউজে অবক্ষেপণের বেগ বা সেডিমেন্টেশন সহগ নির্দেশ করে, যা কণার আকার ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
  • ৭০এস রাইবোজোম: প্রোক্যারিয়োট, মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে। এটি একটি ৫০এস বৃহৎ সাবইউনিট (২৩এস ও ৫এস rRNA + ৩৪টি প্রোটিন) এবং একটি ৩০এস ক্ষুদ্র সাবইউনিট (১৬এস rRNA + ২১টি প্রোটিন) নিয়ে গঠিত।
  • ৮০এস রাইবোজোম: ইউক্যারিয়োটিক সাইটোপ্লাজমে থাকে। এটি একটি ৬০এস বৃহৎ সাবইউনিট (২৮এস, ৫.৮এস ও ৫এস rRNA + ~৪৯টি প্রোটিন) এবং একটি ৪০এস ক্ষুদ্র সাবইউনিট (১৮এস rRNA + ~৩৩টি প্রোটিন) নিয়ে গঠিত।
  • সংযোজন: সাইটোপ্লাজমে সাবইউনিট দুটি পৃথক থাকে; প্রোটিন অনুবাদের সময় ম্যাগনেসিয়াম আয়নের পরিমিত ঘনত্বে ($ ext{Mg}^{2+} pprox 0.001\, ext{M}$) এরা যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ রাইবোজোম গঠন করে।
২. সাইটোস্কেলিটন

ইউক্যারিয়োটিক সাইটোপ্লাজমে জালের মতো বিস্তৃত প্রোটিন নির্মিত তন্তুময় অভ্যন্তরীণ কাঠামো যা কোষের আকৃতি, যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা রক্ষা করে:

  • মাইক্রোটিউবিউল (২৫ nm ব্যাস): $lpha$- ও $eta$-টিউবুলিন প্রোটিন হেটারোডাইমার দ্বারা গঠিত ফাঁপা ও অনমনীয় নালিকা। কাজ: কোষ বিভাজনে মাইটোটিক স্পিন্ডল গঠন, সেন্ট্রিওল ও সিলিয়ার অক্ষ গঠন এবং কাইনোসিন ও ডাইনিন মোটরের সাহায্যে অঙ্গাণুর পরিবহন পথ তৈরি করা।
  • মাইক্রোফিলামেন্ট (৭ nm ব্যাস): গ্লোবিউলার অ্যাকটিন প্রোটিন পলিমারাইজড হয়ে গঠিত নিরেট ও নমনীয় দ্বিসূত্রী হেলিকাল তন্তু। কাজ: মায়োসিনের সাহায্যে পেশি সংকোচন, সাইটোপ্লাজমীয় ঘূর্ণন (সাইক্লোসিস), অ্যামিবয়েড চলন এবং প্রাণী কোষ বিভাজনে বিভাজন খাঁজ গঠন।
  • ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট (১০ nm ব্যাস): দড়ির মতো পাকানো শক্ত তন্তুময় প্রোটিন পলিমার (যেমন এপিথেলিয়ালে কেরাটিন, ভাইমেন্টিন, নিউরোফিলামেন্ট)। কাজ: কোষকে শক্তিশালী যান্ত্রিক টান-সহনশীলতা প্রদান এবং নিউক্লিয়ার ল্যামিনা গঠন করে নিউক্লিয়াসকে নির্দিষ্ট স্থানে নোঙর করা।
৩. সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা (৯+২ অ্যাক্সোনিম)

কোষপর্দা থেকে নির্গত রোঁয়ার মতো সচল উপাঙ্গ। সিলিয়া আকারে ছোট ও সংখ্যায় অনেক এবং দাঁড় টানার মতো ছন্দে স্পন্দিত হয়; ফ্ল্যাজেলা আকারে দীর্ঘ ও সংখ্যায় কম এবং তরঙ্গের মতো আন্দোলিত হয়:

  • অ্যাক্সোনিমের পরা-অনুগঠন: প্লাজমা পর্দা দ্বারা আবৃত অক্ষসূত্রে মাইক্রোটিউবিউলের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস থাকে:
    • ৯টি প্রান্তীয় ডাবলেট: পরিধি বরাবর বৃত্তাকারে সজ্জিত ৯ জোড়া ডাবলেট মাইক্রোটিউবিউল। প্রতিটি ডাবলেটের সাবফাইবার-A থেকে ডাইনিন বাহু নির্গত হয় যা এটিপি আর্দ্রবিশ্লেষণ করে ডাবলেটগুলির মাঝে পিছলে যাওয়ার বল সৃষ্টি করে।
    • ২টি কেন্দ্রীয় সিঙ্গল: কেন্দ্রে দুটি একক মাইক্রোটিউবিউল যা একটি প্রোটিন নির্মিত কেন্দ্রীয় আবরণী (Central sheath) দ্বারা পরিবেষ্টিত।
    • রেডিয়াল স্পোক: প্রান্তীয় ডাবলেট থেকে কেন্দ্রীয় আবরণী পর্যন্ত ৯টি রেডিয়াল স্পোক প্রসারিত থাকে। সংলগ্ন ডাবলেটগুলি নেক্সিন প্রোটিন লিংক দ্বারা যুক্ত থাকে।
  • বেসাল বডি (কাইনেটোসোম): সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলা কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রোথিত সেন্ট্রিওল সদৃশ বেসাল বডি থেকে উৎপন্ন হয়, যার বিন্যাস হলো ৯+০ ট্রিপলেট (কোনো কেন্দ্রীয় টিউবিউল থাকে না)।
৪. সেন্ট্রোজোম ও সেন্ট্রিওল (৯+০ কার্টহুইল)

প্রাণী কোষে উপস্থিত (উন্নত উদ্ভিদে অনুপস্থিত) অঙ্গাণু যা একে অপরের সাথে সমকোণে অবস্থানকারী দুটি সিলিন্ডার সদৃশ সেন্ট্রিওল এবং চারপাশের অনিয়তাকার প্রোটিন ধাত্র (পেরিসেন্ট্রিওলার উপাদান) নিয়ে গঠিত:

  • কার্টহুইল বিন্যাস (৯+০ বিন্যাস): প্রতিটি সেন্ট্রিওল পরিধিতে সমান দূরত্বে সজ্জিত ৯টি প্রান্তীয় ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউল (A, B, C সাবফাইবার) নিয়ে গঠিত, কেন্দ্রে কোনো টিউবিউল থাকে না (০)। সেন্ট্রিওলের কেন্দ্রে একটি প্রোটিন নির্মিত হাব (Hub) থাকে যা ৯টি রেডিয়াল স্পোকের সাহায্যে প্রান্তীয় ট্রিপলেটের সাথে যুক্ত হয়ে একটি 'গরুর গাড়ির চাকা' বা কার্টহুইলের রূপ দেয়।
  • কোষীয় ভূমিকা: সেন্ট্রিওল প্রাণী কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল বেমতন্তু গঠন করে ক্রোমোজোম পৃথকীকরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার বেসাল বডি সৃষ্টি করে।

নিউক্লিয়াস, ক্রোমাটিন, ক্রোমোজোম রূপতত্ত্ব ও মাইক্রোবডি

১. ইউক্যারিয়োটিক নিউক্লিয়াসের গঠন

১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন কর্তৃক আবিষ্কৃত নিউক্লিয়াস হলো কোষের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় ও বংশগত ক্রিয়ার প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। একটি ইন্টারফেজ নিউক্লিয়াসের প্রধান অংশগুলি হলো:

  • নিউক্লীয় পর্দা (Nuclear Envelope): দুটি সমান্তরাল একক পর্দা সমন্বিত বহিরাবরণী:
    • বহিঃপর্দা: RER-এর সাথে অবিচ্ছিন্ন এবং এর গায়ে রাইবোজোম সংলগ্ন থাকে।
    • অন্তঃপর্দা: ভেতরের তলে নিউক্লিয়ার ল্যামিনা নামক মধ্যবর্তী তন্তুর জালক দ্বারা সমর্থিত থাকে।
    • পেরি-নিউক্লিয়ার স্থান: দুটি পর্দার মাঝে ১০–৫০ nm চওড়া তরলপূর্ণ স্থান।
  • নিউক্লীয় ছিদ্র কমপ্লেক্স (NPCs): দুটি পর্দা মিলিত হয়ে গঠিত প্রায় ১০০ nm ব্যাসের অষ্টভুজাকার ছিদ্র, যা নিউক্লিওপোরিন প্রোটিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে দ্বিমুখী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে (rRNA, mRNA ও রাইবোজোম রপ্তানি এবং হিস্টোন ও পলিমারেজ উৎসেচক আমদানি)।
  • নিউক্লিওলাস: নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত এক বা একাধিক পর্দাশূন্য ঘন গোলাকার অংশ, যা rRNA সংশ্লেষ এবং রাইবোজোম সাবইউনিট উৎপাদনের প্রধান কারখানা। প্রোটিন সংশ্লেষে অতি-সক্রিয় কোষে (যেমন যকৃৎ কোষ, ডিম্বাণু) অত্যন্ত বড় নিউক্লিওলাস দেখা যায়।
  • নিউক্লিওপ্লাজম (নিউক্লিয়ার ম্যাট্রিক্স): স্বচ্ছ কলয়েডাল তরল যাতে নিউক্লিওসাইড, নিউক্লিওটাইড, পলিমারেজ উৎসেচক ও ক্রোমাটিন জালিকা ভাসমান থাকে।
২. ক্রোমাটিনের সংগঠন ও নিউক্লিওজোম

১৮৭৯ সালে ওয়ালথার ফ্লেমিং ক্ষারীয় রঞ্জকে রঞ্জিত হওয়ার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এর নাম দেন ক্রোমাটিন:

  • নিউক্লিওজোম কোর: ক্রোমাটিনের মৌলিক পুনরাবৃত্তিমূলক একক। এতে প্রায় ১৪৬ বেস জোড়া (bp) ডিএনএ একটি ক্ষারীয় হিস্টোন অষ্টক-কে ১.৬৫ বার পেঁচিয়ে অবস্থান করে। হিস্টোন অষ্টকটি দুটি করে $ ext{H}_2 ext{A}, ext{H}_2 ext{B}, ext{H}_3, ext{H}_4$ অণু নিয়ে গঠিত। হিস্টোন প্রোটিনে ধনাত্মক আধানযুক্ত ক্ষারীয় অ্যামিনো অ্যাসিড (লাইসিন ও আর্জিনিন) প্রচুর পরিমাণে থাকায় এরা ঋণাত্মক আধানযুক্ত ডিএনএ ফসফেটের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে।
  • লিঙ্কার ডিএনএ ও $ ext{H}_1$ হিস্টোন: সংলগ্ন নিউক্লিওজোমগুলি ২০–৬০ bp লিঙ্কার ডিএনএ দ্বারা যুক্ত থাকে এবং এর সাথে একটি বহিরাগত $ ext{H}_1$ হিস্টোন যুক্ত হয়ে কাঠামোটিকে সুস্থিত করে (ইলেক্ট্রন অণুবীক্ষণে যা পুঁতির মালার মতো দেখায়)।
  • ইউক্রোমাটিন বনাম হেটারোক্রোমাটিন:
    • ইউক্রোমাটিন: শিথিলভাবে কুন্ডলীকৃত, হালকা রঞ্জিত এবং প্রতিলিপিকরণ ও ট্রান্সক্রিপশনে সক্রিয়।
    • হেটারোক্রোমাটিন: ঘন সন্নিবিষ্টভাবে কুন্ডলীকৃত, গাঢ় রঞ্জিত এবং জিনগতভাবে নিষ্ক্রিয়।
৩. ক্রোমোজোম রূপতত্ত্ব ও সেন্ট্রোমিয়ার ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ

মেটাফেজ দশায় ক্রোমাটিন সর্বাধিক ঘনীভূত হয়ে সুনির্দিষ্ট ক্রোমোজোম রূপ ধারণ করে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড একটি প্রাথমিক খাঁজে যুক্ত থাকে:

  • সেন্ট্রোমিয়ার ও কাইনেটোকোর: প্রাথমিক খাঁজটিকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। সেন্ট্রোমিয়ারের উভয় পাশে চাকতি সদৃশ তিনস্তরীয় প্রোটিন কমপ্লেক্স থাকে যাদের কাইনেটোকোর বলে; বিভাজনকালে বেমতন্তু কাইনেটোকোরেই সংযুক্ত হয়।
  • সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ:
    • মেটাসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় দুটি সমান বাহু ($p = q$) গঠিত হয়; অ্যানাফেজে এটি 'V'-আকৃতি ধারণ করে।
    • সাব-মেটাসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে থাকায় একটি ছোট ($p$) ও একটি দীর্ঘ বাহু ($q$) তৈরি হয়; অ্যানাফেজে এটি 'L'-আকৃতি ধারণ করে।
    • অ্যাক্রোসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ারটি উপ-প্রান্তীয় অবস্থানে থাকায় একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও একটি অত্যন্ত দীর্ঘ বাহু গঠিত হয়; অ্যানাফেজে এটি 'J'-আকৃতি ধারণ করে।
    • টেলোসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ারটি একদম প্রান্তবিন্দুতে অবস্থিত থাকায় ক্রোমোজোমের কেবল একটিই বাহু থাকে; অ্যানাফেজে এটি রড বা 'i'-আকৃতি ধারণ করে।
  • গৌণ খাঁজ ও স্যাটেলাইট ক্রোমোজোম: কিছু ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দ্বিতীয় খাঁজ বা গৌণ খাঁজ থাকে যা নিউক্লিওলার সংগঠক অঞ্চল (NOR) হিসেবে কাজ করে। গৌণ খাঁজের পরবর্তী প্রান্তীয় গোলাকার অংশকে স্যাটেলাইট (SAT ক্রোমোজোম) বলে।
৪. মাইক্রোবডি

সাইটোপ্লাজমে উপস্থিত একক পর্দাঘেরা অতি-ক্ষুদ্র ভেসিকল যাতে বিশেষ বিপাকীয় উৎসেচক থাকে:

  • পারঅক্সিজোম: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড উৎপাদনকারী অক্সিডেজ এবং বিষাক্ত $ ext{H}_2 ext{O}_2$-কে দ্রুত ভেঙে জল ও অক্সিজেনে রূপান্তরকারী ক্যাটালেজ উৎসেচক ধারণ করে ($2\, ext{H}_2 ext{O}_2 o 2\, ext{H}_2 ext{O} + ext{O}_2$ [ক্যাটালেজ])। উদ্ভিদের সবুজ পাতায় এটি ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকনড্রিয়ার সাথে সমন্বয় করে আলোকশ্বসন বা $C_2$ চক্র সম্পন্ন করে।
  • গ্লাইঅক্সিজোম: তৈলবীজের (রেড়ি, সূর্যমুখী) অঙ্কুরোদগমের সময় উপস্থিত থাকে; এতে গ্লাইঅক্সিলেট চক্রের উৎসেচক থাকে যা সঞ্চিত ফ্যাটি অ্যাসিডকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে ভ্রূণের পুষ্টি জোগায়।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

ফিরশভের বায়োজেনেসিস নীতি (Virchow's Law)
Omnis cellula-e cellula (সমস্ত নতুন সজীব কোষ একমাত্র পূর্ববর্তী জীবন্ত কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়)
এটি কোষীয় পর্যায়ে স্বতঃজননবাদ (Abiogenesis) ভুল প্রমাণ করে; ভাইরাস এর একমাত্র অকোষীয় ব্যতিক্রম।
সিঙ্গার-নিকলসন ঝিল্লি তারল্য নীতি (Membrane Fluidity)
অর্ধ-তরল অবস্থা (Quasi-fluid State) = ফসফোলিপিড দ্বি-স্তরের তারল্য (অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড) + প্রোটিনের পার্শ্বীয় ব্যাপন
ঝিল্লির তারল্য কোষের বৃদ্ধি, আন্তঃকোষীয় সংযোগ গঠন, ক্ষরণ, এন্ডোসাইটোসিস ও সাইটোকাইনেসিসের জন্য অপরিহার্য।
এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্রের ক্রিয়ামূলক প্রবাহ (Endomembrane Cascade)
এন্ডোমেমব্রেন প্রবাহ = RER/SER (সংশ্লেষ) -> পরিবহন ভেসিকল -> গলগি বস্তু (গ্লাইকোসাইলেশন/বাছাই) -> লাইসোজোম / ভ্যাকিউল / বহিঃক্ষরণ
মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোম এই ভেসিকুলার প্রবাহের বাইরে থাকায় এন্ডোমেমব্রেনের অংশ নয়।
অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু শর্তাবলী (Semi-Autonomous Criteria)
অর্ধ-স্বায়ত্তশাসন = দ্বি-একক পর্দা আবরণী + নিজস্ব বৃত্তাকার dsDNA + ৭০এস রাইবোজোম + দ্বি-বিভাজন ক্ষমতা
নিজস্ব প্রোটিন সংশ্লেষ করতে পারলেও এদের বেশিরভাগ কাঠামোগত প্রোটিনের জন্য নিউক্লীয় জিনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
মাইক্রোটিউবিউল বিন্যাস নীতি (Microtubule Structural Organization)
অ্যাক্সোনিম (সিলিয়া / ফ্ল্যাজেলা) = ৯ ডাবলেট (প্রান্তীয়) + ২ সিঙ্গল (কেন্দ্রীয়) [৯ + ২] বনাম সেন্ট্রিওল = ৯ ট্রিপলেট (প্রান্তীয়) + ০ কেন্দ্রীয় [৯ + ০]
ডাইনিন মোটর প্রোটিন ডাবলেটের মধ্যে এটিপি চালিত পিছলানো গতি তৈরি করে সিলিয়ার আন্দোলন ঘটায়।
ক্রোমোজোম রূপতত্ত্ব শ্রেণিবিভাগ সূত্র (Chromosome Morphology)
মেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবর্তী সেন্ট্রোমিয়ার, V-আকৃতি) বনাম সাবমেটাসেন্ট্রিক (উপ-মধ্যবর্তী, L-আকৃতি) বনাম অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (উপ-প্রান্তীয়, J-আকৃতি) বনাম টেলোসেন্ট্রিক (প্রান্তীয়, i-আকৃতি)
গৌণ খাঁজের পরবর্তী প্রান্তীয় গোলাকার অংশকে স্যাটেলাইট (স্যাট ক্রোমোজোম) বলা হয়, যা নিউক্লিওলার সংগঠক অঞ্চল (NOR) নির্দেশ করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) সিঙ্গার ও নিকলসন (১৯৭২) প্রস্তাবিত প্লাজমা পর্দার ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি বর্ণনা করো। লিপিড স্তরটিকে কেন 'অর্ধ-তরল' (Quasi-fluid) বলা হয়? (খ) সক্রিয় পরিবহন এবং সহায়ক ব্যাপনের মধ্যে পার্থক্য লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) প্লাজমা পর্দার ফ্লুইড মোজাইক মডেল: [৩ নম্বর]
১৯৭২ সালে এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন কোষপর্দার সার্বজনীন গ্রাহ্য ফ্লুইড মোজাইক মডেল প্রস্তাব করেন:
১. ফসফোলিপিড দ্বি-স্তর: পর্দার মূল কাঠামোটি গঠিত হয় উভকামী (amphipathic) ফসফোলিপিডের ধারাবাহিক দ্বি-স্তর দ্বারা। প্রতিটি ফসফোলিপিড অণুর একটি পোলার হাইড্রোফিলিক (জলআকর্ষী) গ্লিসারল-ফসফেট 'মস্তক' থাকে যা বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় তরলের দিকে মুখ করে থাকে, এবং দুটি নন-পোলার হাইড্রোফোবিক (জলবিকর্ষী) ফ্যাটি অ্যাসিড 'পুচ্ছ' থাকে যা ভেতরের দিকে জলের সংস্পর্শহীন অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।
২. পর্দা প্রোটিন: প্রোটিনগুলি লিপিড সমুদ্রে ভাসমান হিমশৈলীর মতো মোজাইক বিন্যাসে ছড়িয়ে থাকে:
- ইনটিগ্রাল (অন্তর্নিহিত) প্রোটিন: লিপিড স্তরে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ; কিছু প্রোটিন লিপিড স্তরের এপার-ওপার বিস্তৃত হয়ে জলীয় চ্যানেল গঠন করে (টানেল প্রোটিন বা ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন)।
- পেরিফেরাল (বহিঃস্থ) প্রোটিন: পর্দার বহিঃস্থ বা অন্তঃস্থ তলে শিথিলভাবে যুক্ত থাকে।
৩. অর্ধ-তরল (Quasi-fluid) প্রকৃতি: লিপিড স্তরে উপস্থিত সিস-দ্বিবন্ধনযুক্ত অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড অণুগুলির ঘন সন্নিবেশ বাধাগ্রস্ত করে, ফলে পর্দাটি সম্পূর্ণ কঠিন বা সম্পূর্ণ তরল না হয়ে আঠালো অর্ধ-তরল বা জেলির মতো থাকে। এই তারল্যের কারণে লিপিড ও প্রোটিন অণুগুলি পর্দার তলে দ্রুত পার্শ্বীয় ব্যাপন (Lateral diffusion) সম্পন্ন করতে পারে। এটি কোষের বৃদ্ধি, ক্ষরণ, এন্ডোসাইটোসিস, কোষ বিভাজন ও কোষ সংযোগ গঠনের জন্য অপরিহার্য।

(খ) সক্রিয় পরিবহন বনাম সহায়ক ব্যাপন: [২ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যসক্রিয় পরিবহন (Active Transport)সহায়ক ব্যাপন (Facilitated Diffusion)
ঘনত্ব নতিমাত্রাঘনত্ব নতিমাত্রার বিপরীতে ঘটে (কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে)।ঘনত্ব বা তড়িৎ-রাসায়নিক নতিমাত্রার অনুকূলে ঘটে (বেশি থেকে কম ঘনত্বের দিকে)।
শক্তির (ATP) প্রয়োজনীয়তাসরাসরি কোষীয় বিপাকীয় শক্তি বা ATP আর্দ্রবিশ্লেষণ প্রয়োজন।নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া; কোনো ATP শক্তি প্রয়োজন হয় না।
বাহক / চ্যানেল প্রোটিননির্দিষ্ট পাম্প প্রোটিনের প্রয়োজন (যেমন $\text{Na}^+/\text{K}^+$ এটিপেজ পাম্প)।নির্দিষ্ট চ্যানেল প্রোটিন বা পারমিয়েজের প্রয়োজন (যেমন গ্লুকোজ বাহক GLUT-4, অ্যাকোয়াপোরিন)।
বিপাকীয় প্রতিরোধকATP উৎপাদন বন্ধকারী প্রতিরোধক (যেমন সায়ানাইড, ওয়াবেইন) দ্বারা অবদমিত হয়।বিপাকীয় প্রতিরোধক দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয় না।
উদাহরণ 2
(ক) এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র বলতে কী বোঝায়? এর উপাদানগুলির নাম লেখো এবং ব্যাখ্যা করো কেন মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোম এর অন্তর্ভুক্ত নয়। (খ) গলগি বস্তুর মেরুত্ব এবং পোস্ট-ট্রান্সলেশনাল রূপান্তরে এর ভূমিকা লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র: [৩ নম্বর]
- সংজ্ঞা: ইউক্যারিয়োটিক কোষের যেসব পর্দাঘেরা অঙ্গাণু গঠনগতভাবে পৃথক হওয়া সত্ত্বেও ভেসিকুলার পরিবহনের মাধ্যমে একটি অবিচ্ছিন্ন ও সমন্বিত কার্যপ্রণালী সম্পন্ন করে, তাদের একত্রে এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র বলে।
- উপাদান অঙ্গাণুসমূহ:
১. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (ER): ক্ষরণকারী প্রোটিন (RER) এবং লিপিড/স্টেরয়েড (SER) সংশ্লেষ করে।
২. গলগি বস্তু: ER থেকে আগত পদার্থ রূপান্তর, ঘনীভবন, বাছাই ও প্যাকেটজাত করে।
৩. লাইসোজোম: গলগি থেকে উৎপন্ন হয় এবং অ্যাসিড হাইড্রোলেজ ধারণ করে অন্তঃকোষীয় পরিপাক ঘটায়।
৪. ভ্যাকিউল (কোষগহ্বর): বর্জ্য ও রস সঞ্চয় করে কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখে।
- কেন মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোম অন্তর্ভুক্ত নয়:
এই অঙ্গাণুগুলি পর্দাঘেরা হলেও এদের গঠন, উৎপত্তি এবং কার্যাবলি ER-গলগি ভেসিকুলার ট্রাফিকের সাথে সমন্বিত নয়। মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট হলো প্রোক্যারিয়োটিক অন্তঃমিথোজীবী উৎসজাত অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু যাদের নিজস্ব বৃত্তাকার ডিএনএ ও ৭০এস রাইবোজোম রয়েছে। অন্যদিকে পারঅক্সিজোম ক্যাটালেজ উৎসেচকের সাহায্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বিশ্লিষ্ট করে স্বাধীনভাবে কাজ করে।

(খ) গলগি বস্তুর মেরুত্ব ও রূপান্তর ভূমিকা: [২ নম্বর]
- গঠনগত মেরুত্ব (Morphological Polarity): গলগি বস্তু চ্যাপ্টা থলির মতো সিস্টার্নি নিয়ে গঠিত যার দুটি স্পষ্ট বিপরীতমুখী তল থাকে:
১. সিস তল (Cis face বা ফর্মিং তল): উত্তল তল যা নিউক্লিয়াস ও RER-এর দিকে মুখ করে থাকে; RER থেকে আগত ট্রানজিশন ভেসিকলগুলি সিস তলে যুক্ত হয়।
২. ট্রান্স তল (Trans face বা ম্যাচিওরিং তল): অবতল তল যা প্লাজমা পর্দার দিকে মুখ করে থাকে; এখান থেকে প্রক্রিয়াকৃত ক্ষরণকারী ভেসিকল ও প্রাথমিক লাইসোজোম মুক্ত হয়।
- পোস্ট-ট্রান্সলেশনাল রূপান্তর (গ্লাইকোসাইলেশন): প্রোটিন ও লিপিড সিস থেকে ট্রান্স সিস্টার্নিতে অতিক্রম করার সময় গলগির গ্লাইকোসিলট্রান্সফারেজ উৎসেচক শর্করা শৃঙ্খল যুক্ত করে প্রোটিনকে গ্লাইকোপ্রোটিনে এবং লিপিডকে গ্লাইকোলিপিডে রূপান্তরিত করে। এছাড়া প্রো-হরমোনকে সক্রিয় হরমোনে রূপান্তরিত করে (যেমন প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিন)।
উদাহরণ 3
(ক) একটি মাইটোকনড্রিয়ার পরা-অনুগঠন বর্ণনা করো। একে কেন 'অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু' এবং 'কোষের শক্তিঘর' বলা হয়? (খ) মাইটোকনড্রিয়ার ক্রিস্টি এবং ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েডের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) মাইটোকনড্রিয়ার পরা-অনুগঠন ও তাৎপর্য: [৩ নম্বর]
মাইটোকনড্রিয়া হলো সসেজ আকৃতির বা নলাকার দ্বি-একক পর্দাঘেরা অঙ্গাণু (ব্যাস ০.২–১.০ $\mu\text{m}$, দৈর্ঘ্য ১.০–৪.১ $\mu\text{m}$):
১. বহিঃপর্দা: মসৃণ, ছিদ্রযুক্ত; পোরিন নামক প্রোটিন চ্যানেলের উপস্থিতির কারণে এটি ছোট অণু ও আয়নের জন্য অবাধে ভেদ্য।
২. অন্তঃপর্দা ও ক্রিস্টি: এটি অত্যন্ত পছন্দমাফিক ভেদ্য এবং ম্যাট্রিক্সের দিকে অসংখ্য আঙুলের মতো বা পাতের মতো ভাঁজ সৃষ্টি করে যাদের ক্রিস্টি (Cristae) বলে। ক্রিস্টি ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্র (ETC) এবং এটিপি সংশ্লেষের জন্য তলীয় ক্ষেত্রফল বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
৩. অক্সিজোম ($F_0-F_1$ কমপ্লেক্স / এলিমেন্টারি পার্টিকেল): ক্রিস্টির অন্তঃগাত্রে অসংখ্য পিন-হেড সদৃশ কণা প্রোথিত থাকে। এর ভিত্তি ($F_0$) পর্দার মধ্যে প্রোটন চ্যানেল গঠন করে এবং গোলকাকার শীর্ষ ($F_1$) ধাত্রের দিকে প্রসারিত থেকে ATP সিন্থেজ উৎসেচক হিসেবে কাজ করে।
৪. ম্যাট্রিক্স (ধাত্র): জেলিসদৃশ অভ্যন্তরীণ তরলে ক্রেবস চক্রের উৎসেচক, একক বৃত্তাকার দ্বিসূত্রী ডিএনএ (dsDNA), ৭০এস রাইবোজোম, আরএনএ এবং ডাইভ্যালেন্ট ক্যাটায়ন ($\text{Mg}^{2+}, \text{Ca}^{2+}$) থাকে।
- কেন 'কোষের শক্তিঘর': ক্রেবস চক্র এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড ও পাইরুভেট জারিত করে কোষের প্রয়োজনীয় সিংহভাগ এটিপি (ATP) এখানেই তৈরি হয়।
- কেন 'অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত': নিজস্ব বৃত্তাকার ডিএনএ, ৭০এস রাইবোজোম ও আরএনএ থাকায় এটি কিছু প্রোটিন নিজে সংশ্লেষ করতে পারে এবং দ্বি-বিভাজনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে; কিন্তু বেশিরভাগ প্রোটিনের জন্য নিউক্লীয় জিনের ওপর নির্ভরশীল।

(খ) মাইটোকনড্রিয়াল ক্রিস্টি বনাম ক্লোরোপ্লাস্ট থাইলাকয়েড: [২ নম্বর]
পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্যমাইটোকনড্রিয়ার ক্রিস্টিক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড
উৎপত্তি ও অবস্থানমাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ধাত্রের দিকে অন্তর্বলিত হয়ে গঠিত হয়।ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় অবস্থিত স্বাধীন, থলির মতো দ্বি-স্তর বিশিষ্ট গঠন যা স্তূপাকারে গ্রানা গঠন করে।
রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিকোনো সালোকসংশ্লেষীয় রঞ্জক থাকে না; সাইটোক্রোম ও ইলেকট্রন বাহক প্রোটিন থাকে।ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল b ও ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক ফটোসিস্টেমের মধ্যে সজ্জিত থাকে।
প্রধান শারীরবৃত্তীয় ভূমিকাঅক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করে $\text{O}_2$ গ্রহণ ও ATP তৈরি করে।সালোকসংশ্লেষীয় ফসফোরাইলেশন ঘটায়, জল বিশ্লিষ্ট করে $\text{O}_2$ নির্গমন করে এবং ATP ও NADPH তৈরি করে।
অভ্যন্তরীণ গহ্বরইন্ট্রাক্রিস্টাল স্থান যা আন্তঃপর্দা স্থানের সাথে অবিচ্ছিন্ন।থাইলাকয়েড লুমেন যেখানে প্রোটন সঞ্চিত হয়ে প্রোটন নতিমাত্রা তৈরি করে।
উদাহরণ 4
(ক) ইউক্যারিয়োটিক সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার অভ্যন্তরীণ অক্ষের (অ্যাক্সোনিম) ৯+২ বিন্যাস বর্ণনা করো এবং সেন্ট্রিওলের ৯+০ বিন্যাসের সাথে তুলনা করো। (খ) সাইটোস্কেলিটনের তিনটি প্রধান উপাদান ও তাদের কাজ উল্লেখ করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) সিলিয়া/ফ্ল্যাজেলার অ্যাক্সোনিম (৯+২) বনাম সেন্ট্রিওল (৯+০): [৩ নম্বর]
- সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার ৯+২ অ্যাক্সোনিম:
১. প্রান্তীয় ডাবলেট: প্লাজমা পর্দা দ্বারা ঘেরা সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলার কেন্দ্রে অক্ষসূত্র বা অ্যাক্সোনিম থাকে। পরিধি বরাবর বৃত্তাকারে ৯ জোড়া প্রান্তীয় ডাবলেট মাইক্রোটিউবিউল সজ্জিত থাকে। প্রতিটি ডাবলেটের সাবফাইবার-A (সম্পূর্ণ, ১৩টি প্রোটোফিলামেন্ট) এবং সাবফাইবার-B (অসম্পূর্ণ, ১০টি প্রোটোফিলামেন্ট) থাকে। সাবফাইবার-A থেকে দুটি ডাইনিন প্রোটিন বাহু নির্গত হয় যা এটিপেজ সক্রিয়তার সাহায্যে ডাবলেটগুলির মাঝে চলন ঘটায়।
২. কেন্দ্রীয় সিঙ্গল: কেন্দ্রে দুটি একক মাইক্রোটিউবিউল থাকে যা একটি প্রোটিন নির্মিত কেন্দ্রীয় আবরণী (Central sheath) দ্বারা ঘেরা।
৩. রেডিয়াল স্পোক ও নেক্সিন লিংক: প্রতিটি প্রান্তীয় ডাবলেট থেকে ৯টি রেডিয়াল স্পোক কেন্দ্রীয় আবরণী পর্যন্ত প্রসারিত থাকে। সংলগ্ন ডাবলেটগুলি নেক্সিন প্রোটিন সেতু দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- সেন্ট্রিওলের ৯+০ কার্টহুইল বিন্যাস:
সেন্ট্রোজোমের দুটি সেন্ট্রিওল একে অপরের সাথে সমকোণে অবস্থান করে। সেন্ট্রিওলে কোনো কেন্দ্রীয় মাইক্রোটিউবিউল থাকে না (০); পরিধিতে সমান দূরত্বে ৯টি প্রান্তীয় ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউল (A, B, C সাবফাইবার) থাকে। কেন্দ্রে একটি প্রোটিন নির্মিত হাব (Hub) থাকে যা ৯টি স্পোকের মাধ্যমে ট্রিপলেটের সাথে যুক্ত হয়ে একটি 'গরুর গাড়ির চাকা' (Cartwheel) সদৃশ রূপ দেয়। সেন্ট্রিওল বিভাজনকালে বেমতন্তু গঠন করে এবং সিলিয়া/ফ্ল্যাজেলার বেসাল বডি তৈরি করে।

(খ) সাইটোস্কেলিটনের উপাদান ও কার্যাবলি: [২ নম্বর]
সাইটোস্কেলিটন হলো সাইটোপ্লাজমে জালের মতো বিস্তৃত প্রোটিন নির্মিত তন্তুময় জটিল কাঠামো:
১. মাইক্রোটিউবিউল (২৫ nm ব্যাস): $\alpha$- ও $\beta$-টিউবুলিন হেটারোডাইমার প্রোটিন দ্বারা গঠিত ফাঁপা নালিকা। কাজ: কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল বেমতন্তু গঠন, অঙ্গাণুর চলাচল এবং সিলিয়া-ফ্ল্যাজেলার অক্ষ গঠন।
২. মাইক্রোফিলামেন্ট (৭ nm ব্যাস): অ্যাকটিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত নিরেট ও নমনীয় তন্তু। কাজ: মায়োসিনের সাথে যুক্ত হয়ে পেশি সংকোচন, সাইটোপ্লাজমীয় চলন (সাইক্লোসিস) এবং সাইটোকাইনেসিসে বিভাজন খাঁজ (Cleavage furrow) তৈরি করা।
৩. ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট (১০ nm ব্যাস): কেরাটিন, ভাইমেন্টিন বা ল্যামিন প্রোটিন নির্মিত দড়ির মতো মজবুত তন্তু। কাজ: কোষকে উচ্চ যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করা, কোষীয় অঙ্গাণুগুলিকে নির্দিষ্ট স্থানে নোঙর করা এবং নিউক্লীয় পর্দার কাঠামো রক্ষা করা।
উদাহরণ 5
(ক) ইউক্যারিয়োটিক নিউক্লিয়াসের গঠন বর্ণনা করো: নিউক্লীয় পর্দা, নিউক্লীয় ছিদ্র ও নিউক্লিওলাস। (খ) সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমের শ্রেণিবিভাগ করো এবং অ্যানাফেজ দশায় এদের আকৃতি নির্দেশ করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) ইউক্যারিয়োটিক নিউক্লিয়াসের গঠন: [৩ নম্বর]
১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন কর্তৃক আবিষ্কৃত নিউক্লিয়াস হলো কোষের বংশগতি ও নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র:
১. নিউক্লীয় পর্দা (Nuclear Envelope): দুটি সমান্তরাল একক পর্দা দ্বারা গঠিত; বহিঃপর্দা RER-এর সাথে অবিচ্ছিন্ন এবং এর গায়ে রাইবোজোম যুক্ত থাকে। অন্তঃপর্দার ভেতরের দিকে মধ্যবর্তী তন্তুর তৈরি নিউক্লীয় ল্যামিনা থাকে যা ক্রোমাটিনকে ধরে রাখে। দুটি পর্দার মাঝে ১০ থেকে ৫০ ন্যানোমিটার চওড়া তরলপূর্ণ পেরি-নিউক্লিয়ার স্থান থাকে যা নিউক্লিওপ্লাজমকে সাইটোপ্লাজম থেকে পৃথক রাখে।
২. নিউক্লীয় ছিদ্র কমপ্লেক্স (NPCs): দুটি পর্দা পরস্পর মিলিত হয়ে প্রায় ১০০ nm ব্যাসের অসংখ্য অষ্টভুজাকার ছিদ্র তৈরি করে। নিউক্লিওপোরিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত এই ছিদ্রগুলি সক্রিয়ভাবে ও পছন্দমাফিক অণু পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে: নিউক্লিয়াস থেকে mRNA, tRNA ও রাইবোজোম সাবইউনিট সাইটোপ্লাজমে পাঠায় এবং সাইটোপ্লাজম থেকে হিস্টোন প্রোটিন ও পলিমারেজ উৎসেচক নিউক্লিয়াসে গ্রহণ করে।
৩. নিউক্লিওলাস: নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত এক বা একাধিক ঘন, গোলাকার পর্দাশূন্য অংশ। এটি হলো রাইবোজোমাল আরএনএ (rRNA) সংশ্লেষ এবং রাইবোজোম সাবইউনিট সমাবেশের প্রধান কেন্দ্র। প্রোটিন সংশ্লেষে সক্রিয় কোষে বড় ও স্পষ্ট নিউক্লিওলাস থাকে।

(খ) সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ: [২ নম্বর]
কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজটিকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে, যার দুপাশে বেমতন্তু সংযোগকারী চাকতি সদৃশ কাইনেটোকোর থাকে। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোম চার প্রকার:
১. মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম: সেন্ট্রোমিয়ারটি ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, ফলে দুটি বাহু সমান হয়। অ্যানাফেজ দশায় এটি 'V'-আকৃতি ধারণ করে।
২. সাব-মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম: সেন্ট্রোমিয়ারটি কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে, যার ফলে একটি সামান্য ছোট বাহু ($p$) এবং একটি দীর্ঘ বাহু ($q$) গঠিত হয়। অ্যানাফেজে এটি 'L'-আকৃতি ধারণ করে।
৩. অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম: সেন্ট্রোমিয়ারটি একটি প্রান্তের খুব কাছাকাছি (উপ-প্রান্তীয়) অবস্থান করে, ফলে একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র বাহু এবং একটি অত্যন্ত দীর্ঘ বাহু তৈরি হয়। অ্যানাফেজে এটি 'J'-আকৃতি ধারণ করে।
৪. টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম: সেন্ট্রোমিয়ারটি একদম প্রান্তবিন্দুতে অবস্থিত থাকে, ফলে ক্রোমোজোমটির কেবল একটিই বাহু থাকে। অ্যানাফেজে এটি রড বা 'i'-আকৃতি ধারণ করে।
উদাহরণ 6
নিম্নলিখিত বিবরণগুলি থেকে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, কোষীয় অঙ্গাণু বা গঠনটি শনাক্ত করো: (১) জার্মান উদ্ভিদবিদ যিনি ১৮৩৮ সালে পর্যবেক্ষণ করেন যে সমস্ত উদ্ভিদ বিভিন্ন প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত। (২) ব্যাকটিরিয়ার প্লাজমা পর্দার অন্তর্বলন যা শ্বসন, ক্ষরণ ও কোষ প্রাচীর গঠনে সাহায্য করে। (৩) উদ্ভিদ কোষের কেন্দ্রীয় গহ্বরকে বেষ্টনকারী একক অর্ধভেদ্য পর্দা যা নতিমাত্রার বিপরীতে আয়ন পরিবহন করে। (৪) জর্জ প্যালাডে কর্তৃক আবিষ্কৃত পর্দাশূন্য রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা যা প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটায়। (৫) ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের দুপাশে অবস্থিত চাকতি সদৃশ প্রোটিন কাঠামো যা বেমতন্তুকে যুক্ত করে। [১ x ৫ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
শনাক্তকরণ: [প্রতিটিতে ১ নম্বর]
১. ম্যাথিয়াস শ্লাইডেন (Matthias Schleiden): জার্মান উদ্ভিদবিদ যিনি ১৮৩৮ সালে বহু উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেন যে সমস্ত উদ্ভিদকলা বিভিন্ন কোষ দ্বারা গঠিত এবং থিওডোর শ্যোয়ানের সাথে ক্লাসিক্যাল কোষ তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
২. মেসোজোম (Mesosome): ব্যাকটিরিয়া কোষপর্দার নলাকার, থলির মতো বা ল্যামেলার অন্তর্বলন যা শ্বসন, ডিএনএ প্রতিলিপিকরণ, ক্ষরণ এবং তলীয় ক্ষেত্রফল বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে।
৩. টোনোপ্লাস্ট (Tonoplast): উদ্ভিদ কোষের কেন্দ্রীয় রস গহ্বরকে বেষ্টনকারী একক পছন্দমাফিক ভেদ্য পর্দা, যা সাইটোপ্লাজম থেকে আয়নকে ভ্যাকুয়োলে সক্রিয়ভাবে পাম্প করে রসস্ফীতি চাপ বজায় রাখে।
৪. রাইবোজোম (প্যালাডে কণা): ১৯৫৩ সালে জর্জ প্যালাডে কর্তৃক আবিষ্কৃত পর্দাশূন্য রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা (৭০এস ও ৮০এস) যা এমআরএনএ-এর নির্দেশ অনুযায়ী পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরি করে।
৫. কাইনেটোকোর (Kinetochore): মেটাফেজ ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের ওপর গঠিত প্রোটিন নির্মিত চাকতি যা প্রোমেটাফেজে স্পিন্ডল বেমতন্তুর সাথে যুক্ত হয় এবং অ্যানাফেজে ক্রোমাটিডের মেরুমুখী চলন ঘটায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোমকে এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পর্দাঘেরা অঙ্গাণু হলেও মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ও পারঅক্সিজোম এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্রের অংশ নয়; কারণ এদের উৎপত্তি, বিপাকীয় উৎসেচক এবং কার্যাবলি ER-গলগি-লাইসোজোমের সমন্বিত ভেসিকুলার প্রবাহের সাথে যুক্ত নয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর এবং মধ্য ল্যামেলার রাসায়নিক উপাদানকে একই বিবেচনা করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর মূলত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং পেকটিন দ্বারা গঠিত। কিন্তু সংলগ্ন দুটি কোষ প্রাচীরের সংযোগকারী মধ্য ল্যামেলা প্রধানত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট দ্বারা গঠিত।

সাধারণ ভুল ধারণা

সিলিয়ার ৯+২ বিন্যাস এবং সেন্ট্রিওলের ৯+০ বিন্যাসকে গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ইউক্যারিয়োটিক সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার অভ্যন্তরীণ অক্ষ বা অ্যাক্সোনিমে ৯টি প্রান্তীয় ডাবলেট এবং ২টি কেন্দ্রীয় সিঙ্গল মাইক্রোটিউবিউল (৯+২) থাকে। অন্যদিকে সেন্ট্রিওল ও বেসাল বডিতে ৯টি প্রান্তীয় ট্রিপলেট থাকে এবং কেন্দ্রে কোনো মাইক্রোটিউবিউল থাকে না (৯+০ কার্টহুইল)।

সাধারণ ভুল ধারণা

লাইসোজোমের মতো রাইবোজোমও একক পর্দা দ্বারা আবৃত বলে ধরে নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

রাইবোজোম কোনো পর্দা দ্বারা আবৃত নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে পর্দাশূন্য রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন (rRNA ও প্রোটিন) দ্বারা গঠিত কণা যা প্রোক্যারিয়োট (৭০এস) এবং ইউক্যারিয়োট (৮০এস) উভয়েই উপস্থিত।

সাধারণ ভুল ধারণা

পেরিফেরাল বা বহিঃস্থ প্রোটিন লিপিড দ্বি-স্তরের এপার-ওপার বিস্তৃত থাকে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

পেরিফেরাল প্রোটিনগুলি লিপিড দ্বি-স্তরের বহিঃপৃষ্ঠে বা অন্তঃপৃষ্ঠে শিথিলভাবে যুক্ত থাকে। কেবলমাত্র ইনটিগ্রাল বা অন্তর্নিহিত প্রোটিনগুলি (যেমন টানেল প্রোটিন) লিপিড স্তরের গভীরে প্রোথিত থাকে বা এপার-ওপার প্রসারিত থাকে।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

কোষ: জীবনের একক (অধ্যায় ৮) - কোষীয় স্থাপত্য ও অঙ্গাণুবিদ্যা ফ্লুইড মোজাইক পর্দা | এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র | মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট | নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম ১. ফ্লুইড মোজাইক পর্দা ও এন্ডোমেমব্রেন Fluid Mosaic Bilayer (পর্দা দ্বিস্তর) CHANNEL ফসফোলিপিড দ্বি-স্তর + ইনটিগ্রাল প্রোটিন সিঙ্গার ও নিকলসন মডেল (১৯৭২) Endomembrane Trafficking Flow RER Ribosomes GOLGI Cis -> Trans LYSOSOME Hydrolases RER (প্রোটিন) + SER (লিপিড/স্টেরয়েড) গলগি বস্তু: সিস ও ট্রান্স তল (গ্লাইকোসাইলেশন) লাইসোজোম (অ্যাসিড হাইড্রোলেজ) + টোনোপ্লাস্ট এন্ডোমেমব্রেন পরিবহন প্রবাহ ২. মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট Mitochondrion: Double Membrane মাইটোকনড্রিয়া: ক্রিস্টি + ম্যাট্রিক্স + 70S ATP সিন্থেজ (F0-F1 পার্টিকেল / অক্সিজোম) অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গাণু (Semi-autonomous) Chloroplast: Thylakoid Stacks ক্লোরোপ্লাস্ট: গ্রানা থাইলাকয়েড + স্ট্রোমা রুববcurrentিস্কো (Rubisco) + বৃত্তাকার dsDNA দ্বি-একক পর্দা ও অন্তঃমিথোজীবিতা ৩. নিউক্লিয়াস ও সাইটোস্কেলিটন Nucleus & Chromosome Morphology Meta Sub-M Acro Telo নিউক্লীয় ছিদ্র (পেরি-নিউক্লিয়ার স্থান) নিউক্লিওলাস: rRNA সংশ্লেষ স্থল ক্রোমোজোম: মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক... Cilia (9+2) vs Centriole (9+0) সিলিয়া/ফ্ল্যাজেলা: 9+2 অ্যাক্সোনিম সেন্ট্রিওল: 9+0 ট্রিপলেট কার্টহুইল কাইনেটোকোর + স্যাটেলাইট ক্রোমোজোম

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
কোষ হলো সমস্ত সজীব জীবের মৌলিক গঠনগত ও কার্যগত একক; এককোষী জীব স্বাধীন অস্তিত্ব ও জীবনের সকল অত্যাবশ্যক ক্রিয়া সম্পাদনে সক্ষম।
মূল বিষয় 2
শ্লাইডেন (১৮৩৮) ও শ্যোয়ান (১৮৩৯) কোষ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন এবং ১৮৫৫ সালে রুডলফ ফিরশভ 'Omnis cellula-e cellula' (পূর্ববর্তী জীবন্ত কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই নতুন কোষ সৃষ্টি হয়) তত্ত্ব যোগ করে আধুনিক কোষ তত্ত্ব পূর্ণাঙ্গ করেন। ভাইরাস এর উল্লেখযোগ্য অকোষীয় ব্যতিক্রম।
মূল বিষয় 3
প্রোক্যারিয়োটিক কোষে পর্দাঘেরা অঙ্গাণু ও সুগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত; এদের জিনগত বস্তু নগ্ন বৃত্তাকার dsDNA সমন্বিত নিউক্লিঅয়েড, অতিরিক্ত প্লাজমিড, তিনস্তরীয় আবরণী (গ্লাইকোক্যালিক্স, পেপটিডোগ্লাইক্যান প্রাচীর, প্লাজমা পর্দা), মেসোজোম ও ৭০এস রাইবোজোম দ্বারা গঠিত।
মূল বিষয় 4
সিঙ্গার ও নিকলসনের (১৯৭২) ফ্লুইড মোজাইক মডেল অনুসারে প্লাজমা পর্দা হলো একটি অর্ধ-তরল (Quasi-fluid) ফসফোলিপিড দ্বি-স্তর যার মধ্যে ইনটিগ্রাল ও পেরিফেরাল প্রোটিন বরফশৈলীর মতো অবস্থান করে এবং পার্শ্বীয় ব্যাপন প্রদর্শন করে।
মূল বিষয় 5
উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন ও প্রোটিন নির্মিত। সংলগ্ন কোষ প্রাচীরগুলিকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট নির্মিত মধ্য ল্যামেলা সংযুক্ত রাখে এবং প্লাজমোডেসমাটা সাইটোপ্লাজমীয় সংযোগ রক্ষা করে।
মূল বিষয় 6
এন্ডোমেমব্রেন তন্ত্র সমন্বিত কার্যসম্পাদনকারী চারটি অঙ্গাণু নিয়ে গঠিত: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (RER প্রোটিন সংশ্লেষ, SER লিপিড/স্টেরয়েড সংশ্লেষ), গলগি বস্তু (প্যাকেজিং ও গ্লাইকোসাইলেশন), লাইসোজোম (অ্যাসিড হাইড্রোলেজ দ্বারা অন্তঃকোষীয় পরিপাক) এবং ভ্যাকিউল (টোনোপ্লাস্ট দ্বারা রসস্ফীতি চাপ বজায় রাখা)।
মূল বিষয় 7
মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট হলো অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত দ্বি-একক পর্দাঘেরা অঙ্গাণু; উভয়ের নিজস্ব বৃত্তাকার dsDNA, ৭০এস রাইবোজোম ও দ্বি-বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্তঃমিথোজীবী তত্ত্বকে সমর্থন করে।
মূল বিষয় 8
মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে যার ওপর অক্সিজোম (F0-F1 এটিপি সিন্থেজ) অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ঘটায়; ক্লোরোপ্লাস্টের ধাত্রে থাইলাকয়েডের গ্রানা থাকে যা সালোকসংশ্লেষীয় ফসফোরাইলেশন ঘটায়।
মূল বিষয় 9
রাইবোজোম হলো পর্দাশূন্য রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা (প্রোক্যারিয়োটে ৭০এস এবং ইউক্যারিয়োটে ৮০এস), যা জর্জ প্যালাডে আবিষ্কার করেন।
মূল বিষয় 10
সাইটোস্কেলিটন মাইক্রোটিউবিউল (টিউবুলিন), মাইক্রোফিলামেন্ট (অ্যাকটিন) ও ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট নিয়ে গঠিত। সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলায় ৯+২ অ্যাক্সোনিম এবং সেন্ট্রিওলে ৯+০ ট্রিপলেট কার্টহুইল বিন্যাস দেখা যায়।
মূল বিষয় 11
ইউক্যারিয়োটিক নিউক্লিয়াস দ্বি-স্তরীয় নিউক্লীয় পর্দা, নিউক্লীয় ছিদ্র, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস (rRNA তৈরির কেন্দ্র) এবং ক্রোমাটিন জালিকা নিয়ে গঠিত।
মূল বিষয় 12
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোম চার প্রকার: মেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবর্তী, V-আকৃতি), সাব-মেটাসেন্ট্রিক (উপ-মধ্যবর্তী, L-আকৃতি), অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (উপ-প্রান্তীয়, J-আকৃতি) এবং টেলোসেন্ট্রিক (প্রান্তীয়, i-আকৃতি)।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
ভাইরাসকে কেন ক্লাসিক্যাল কোষ তত্ত্বের (Cell Theory) ব্যতিক্রম বলে গণ্য করা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ভাইরাসকে কোষ তত্ত্বের ব্যতিক্রম বলা হয় কারণ: (১) এরা অকোষীয় (Acellular); এদের সাইটোপ্লাজম, কোষপর্দা বা কোনো বিপাকীয় অঙ্গাণু নেই, কেবল প্রোটিন খোলকের ভেতর ডিএনএ বা আরএনএ থাকে। (২) পোষক কোষের বাইরে এরা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও জড়বস্তুর মতো আচরণ করে। (৩) এরা পূর্ববর্তী কোনো ভাইরাস কোষের বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় না, বরং পোষক কোষের জৈব রাসায়নিক কলকব্জা দখল করে নতুন উপাদান সংযোজনের মাধ্যমে একত্রিত হয়।
2
ফসফোলিপিড দ্বি-স্তরের 'অর্ধ-তরল' অবস্থা প্রাণী কোষকে বিদীর্ণ না হয়ে কীভাবে সাইটোকাইনেসিস ও এন্ডোসাইটোসিস সম্পন্ন করতে সাহায্য করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: অর্ধ-তরল অবস্থার কারণে ফসফোলিপিড অণুগুলি স্তরের মধ্যে অবাধে স্থান পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাস করতে পারে। প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিসের সময় অ্যাকটিন-মায়োসিন রিং সংকুচিত হয়ে পর্দাটিকে ভেতরের দিকে টেনে খাঁজ তৈরি করে, যা তরলতার কারণে ছিঁড়ে না গিয়ে সহজে সংযুক্ত হয়ে দুটি কোষে বিভক্ত হয়। একইভাবে এন্ডোসাইটোসিসে পর্দা ভেতরের দিকে প্রবিষ্ট হয়ে ভেসিকল তৈরি করার সময় হাইড্রোফোবিক পুচ্ছগুলি তাৎক্ষণিকভাবে জোড়া লেগে কোনো ছিদ্র না রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিল হয়ে যায়।
3
লাইসোজোমকে কেন 'আত্মঘাতী থলি' (Suicide bags) বলা হয়, এবং সাধারণ অবস্থায় কোষটি কেন লাইসোজোমের উৎসেচক দ্বারা ধ্বংস হয় না?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: লাইসোজোমের সবগুলো থলি কোনো কারণে একসাথে ফেটে গেলে (অটোলাইসিস) ভেতরের অ্যাসিড হাইড্রোলেজ উৎসেচকগুলি সমগ্র কোষের প্রোটিন, লিপিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড পরিপাক করে কোষটিকে ধ্বংস করে দেয়, তাই একে আত্মঘাতী থলি বলে। সাধারণ অবস্থায় কোষ রক্ষা পায় দুটি কারণে: (১) লাইসোজোমের একক পর্দাটি অত্যন্ত পুরু এবং এর ভেতরের তল গ্লাইকোসিলেটেড থাকায় এটি উৎসেচকের আক্রমণ প্রতিরোধ করে। (২) লাইসোজোমের উৎসেচকগুলি কেবল অম্লীয় পরিবেশে (pH ৪.৫–৫.০) সক্রিয় থাকে; কোনো কারণে একটি লাইসোজোম থেকে উৎসেচক সাইটোপ্লাজমে লিক করলেও সাইটোপ্লাজমের প্রশম পরিবেশে (pH ৭.২) উৎসেচকগুলি সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
4
অন্তঃমিথোজীবী তত্ত্ব (Endosymbiotic Theory) কী, এবং মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন কীভাবে এই তত্ত্বকে প্রমাণ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: লিন মারগুলিস প্রস্তাবিত অন্তঃমিথোজীবী তত্ত্ব অনুসারে, সুপ্রাচীনকালে অবাত শ্বসনকারী পূর্বপুরুষ ইউক্যারিয়োটিক কোষ কর্তৃক মুক্তজীবী বায়বীয় ব্যাকটিরিয়া এবং সালোকসংশ্লেষকারী সায়ানোব্যাকটিরিয়া গলধকরণ ও স্থায়ী সহাবস্থানের মাধ্যমেই যথাক্রমে মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি ঘটে। প্রমাণসমূহ: (১) এদের উভয়ই দ্বি-একক পর্দাঘেরা যার অন্তঃপর্দার গঠন ব্যাকটিরিয়ার পর্দার মতো। (২) উভয়ের নিজস্ব নগ্ন বৃত্তাকার dsDNA রয়েছে যা ব্যাকটিরিয়ার জিনোমের সমতুল্য। (৩) এদের রাইবোজোম ব্যাকটিরিয়ার মতো ৭০এস প্রকৃতির যা ক্লোরামফেনিকল অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা অবদমিত হয়। (৪) কোষের মধ্যে এরা ব্যাকটিরিয়ার মতো স্বাধীনভাবে দ্বি-বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
5
মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশায় সেন্ট্রোমিয়ার ও কাইনেটোকোর কীভাবে কাজ করে, এবং সেন্ট্রোমিয়ারবিহীন ক্রোমোজোম খণ্ডকের পরিণতি কী হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার হলো ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজ যা দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে একত্রে ধরে রাখে। কাইনেটোকোর হলো সেন্ট্রোমিয়ারের হেটারোক্রোমাটিনের ওপর সজ্জিত তিনস্তরীয় চাকতি সদৃশ প্রোটিন কাঠামো। বিভাজনকালে বিপরীত মেরু থেকে আগত স্পিন্ডল বেমতন্তু কাইনেটোকোরের সাথে সংযুক্ত হয়। অ্যানাফেজ দশায় কাইনেটোকোরে অবস্থিত মোটর প্রোটিন মাইক্রোটিউবিউল বিশ্লিষ্ট করে ক্রোমাটিড দুটিকে টেনে দুই বিপরীত মেরুতে নিয়ে যায়। কোনো ক্রোমোজোম খণ্ডে সেন্ট্রোমিয়ার না থাকলে (অ্যাসেন্ট্রিক খণ্ডক) সেখানে কাইনেটোকোর তৈরি হয় না, ফলে বেমতন্তু যুক্ত হতে পারে না এবং কোষ বিভাজনের সময় খণ্ডকটি সাইটোপ্লাজমে হারিয়ে গিয়ে বিনষ্ট হয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

কোষ: জীবনের একক অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।