Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 7
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন

প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায়টিতে বহুকোষী প্রাণীদের কোষীয় পৃথকীকরণ, চার প্রকার মৌলিক প্রাণীকলা এবং মডেল অমেরুদণ্ডী প্রাণী আরশোলার (পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা) সম্পূর্ণ শারীরসংস্থান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে আবরণী কলা, যোগ কলা, পেশী কলা এবং স্নায়ু কলার গঠনগত বিন্যাস, ভিত্তি পর্দা এবং আন্তঃকোষীয় সন্ধি যেমন টাইট জাংশন, ডেসমোজোম এবং গ্যাপ জাংশনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কঙ্কাল কলা হিসেবে তরুণাস্থি এবং অস্থির হ্যাভারশিয়ান তন্ত্রের আণুবীক্ষণিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া অমেরুদণ্ডী আদর্শ প্রাণী আরশোলার কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল, হাইপোগ্নাথাস মস্তক, চর্বণকারী মুখোপাঙ্গ, ক্রপ ও ৬টি দাঁতযুক্ত গিজার্ড, হেপাটিক সিকা, ১৩-প্রকোষ্ঠী পৃষ্ঠীয় হৃৎপিণ্ডযুক্ত মুক্ত সংবহনতন্ত্র, শ্বাসনালী বা ট্রাকিয়া এবং রেচনের জন্য ১০০ থেকে ১৫০টি ম্যালপিজিয়ান নালিকা এবং পুরুষ ও স্ত্রী আরশোলার যৌন দ্বিরূপতা সুস্পষ্টভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

একটি আরশোলা তার মাথা কেটে ফেলার পরও কয়েক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে কীভাবে? কারণ এর স্নায়ুতন্ত্র কেবল মস্তিষ্কে সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিটি দেহখণ্ডে বিন্যস্ত গ্যাংলিয়া দ্বারা স্বায়ত্তশাসিত, এবং এর শ্বসন রক্তনির্ভর নয় বরং সরাসরি দেহাভ্যন্তরে প্রবেশকারী ট্রাকিয়ার নেটওয়ার্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়!

অধ্যায়টির গুরুত্ব

প্রাণীদেহের কলাসংস্থান এবং অঙ্গসংস্থান জানা মানব শারীরবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, হিস্টোপ্যাথোলজি এবং তুলনামূলক প্রাণিবিদ্যার মূল ভিত্তি। আবরণী কলার কোষীয় সন্ধির বিশৃঙ্খলা ত্বকের ফোস্কা ও অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ সৃষ্টি করে, আবার কোলাজেন প্রোটিনের ত্রুটি জন্মগত অস্থিভঙ্গুরতা ঘটায়। হৃৎপেশীর ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কের গ্যাপ জাংশন হৃদস্পন্দনের সমন্বয় সাধনে অপরিহার্য। অন্যদিকে আরশোলার মতো পতঙ্গের মুক্ত সংবহন, সরাসরি ট্র্যাকিওলীয় গ্যাস বিনিময় এবং ইউরিকোটেলিক জল-সংরক্ষণকারী রেচনতন্ত্র স্থলের শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকার অসাধারণ বিবর্তনীয় অভিযোজন প্রমাণ করে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • কোষ জীববিদ্যা: প্লাজমা পর্দার ফ্লুইড মোজাইক মডেল এবং মেমব্রেন ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন
  • প্রাণী জগৎ: আর্থ্রোপোডা পর্বের কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল, সন্ধিল উপাঙ্গ এবং মুক্ত সংবহনতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য
  • প্রাথমিক কলাসংস্থান: বহুকোষী জীবে কোষ থেকে কলা এবং কলা থেকে অঙ্গ গঠনের শ্রমবণ্টন তত্ত্ব
  • জৈব অণু: কোলাজেন, ইলাস্টিন, কন্ড্রোয়েটিন সালফেট এবং কাইটিনের রাসায়নিক ধারণা

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 আবরণী কলা: সরল, যৌগিক, গ্রন্থিময় এ...
2 যোগ কলা: শিথিল, ঘন এবং বিশেষায়িত ক...
3 পেশী কলা ও স্নায়ু কলা: হিস্টোলজি,...
4 আরশোলা (Periplaneta americana): রূপ...
5 আরশোলার অভ্যন্তরীণ শারীরসংস্থান: পৌ...
6 আরশোলার জনন তন্ত্র, পৌরোমেটাবোলাস র...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

আবরণী কলা: সরল, যৌগিক, গ্রন্থিময় এবং আন্তঃকোষীয় সংযোগস্থল

১. আবরণী কলার সাধারণ বৈশিষ্ট্য

আবরণী কলা (Epithelial Tissue) প্রাণীদেহের বাহ্যিক ত্বক, অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মুক্ত তল, দেহগহ্বর ও রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ তৈরি করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • ঘন সন্নিবিষ্ট কোষবিন্যাস: কোষগুলি খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ধাত্র প্রায় থাকেই না।
  • রক্তনালীবিহীন প্রকৃতি (Avascular): আবরণী কলায় কোনো রক্তজালক থাকে না। নিচের যোগ কলার রক্তজালক থেকে ভিত্তি পর্দার মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি ও অক্সিজেন আসে।
  • ভিত্তি পর্দা (Basement Membrane): আবরণী কোষগুলি একটি অকোষীয় পর্দার ওপর বসে থাকে যা গ্লাইকোপ্রোটিন ও কোলাজেন নির্মিত বেসাল ল্যামিনা এবং রেটিকুলার ল্যামিনা দ্বারা গঠিত।
  • তিনটি জননস্তর থেকে উৎপত্তি: এটি একটোডার্ম (ত্বক), এন্ডোডার্ম (অন্ত্রের আস্তরণ) এবং মেসোডার্ম (সিলোমিক আস্তরণ) থেকে উৎপন্ন হয়।
২. সরল ও যৌগিক আবরণী কলার শ্রেণিবিভাগ
আবরণী কলার প্রকার কোষীয় রূপতত্ত্ব দেহের অবস্থান প্রধান শারীরবৃত্তীয় কাজ
সরল আঁইশাকার (Simple Squamous) পাতলা, চ্যাপ্টা, অনিয়মিত টালির মতো একস্তরীয় কোষ; কেন্দ্রে চ্যাপ্টা নিউক্লিয়াস। ফুসফুসের অ্যালভিওলাই, রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াম, বোম্যান্স ক্যাপসুল। গ্যাসীয় ব্যাপন, পরিস্রাবণ এবং ঘর্ষণ হ্রাস।
সরল ঘনকাকার (Simple Cuboidal) ঘনকের মতো কোষ, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান; কেন্দ্রে গোলাকার নিউক্লিয়াস। বৃক্কের নেফ্রনের PCT ও DCT, থাইরয়েড ফলিকল, লালাগ্রন্থির নালী। ক্ষরণ ও শোষণ। PCT-তে ব্রাশ বর্ডার মাইক্রোভিলি শোষণতল বৃদ্ধি করে।
সরল স্তম্ভাকার (Simple Columnar) লম্বা সরু স্তম্ভের ন্যায় কোষ; নিউক্লিয়াস ভূমির কাছে থাকে। পাকস্থলী ও অন্ত্রের আস্তরণ (অরোমশ); ফ্যালোপিয়ান টিউব ও ব্রঙ্কিওল (রোমশ)। উৎসেচক ক্ষরণ ও শোষণ। সিলিয়াযুক্ত প্রকারে শ্লেষ্মা বা ডিম্বাণু একমুখী সঞ্চালন।
ছদ্ম-স্তরীভূত (Pseudostratified) একস্তরীয় হলেও কোষের উচ্চতা ও নিউক্লিয়াসের স্তর ভিন্ন হওয়ায় বহুস্তরীয় দেখায়। শ্বাসনালী (ট্রাকিয়া), ব্রঙ্কাই, এপিডিডাইমিস। সিলিয়ার সঞ্চালনের মাধ্যমে ধূলিকণা ও শ্লেষ্মা বাইরে ঠেলে দেওয়া।
যৌগিক স্তরীভূত (Stratified Squamous) বহুস্তরীয় কোষ; নিচের কোষ বিভাজনক্ষম, উপরের কোষ চ্যাপ্টা আঁইশাকার। কেরাটিনযুক্ত: ত্বকের এপিডার্মিস। কেরাটিনবিহীন: মুখবিবর, গলবিল, গ্রাসনালী, যোনি। ঘর্ষণ, রাসায়নিক ক্ষয় ও জীবাণু আক্রমণ থেকে যান্ত্রিক সুরক্ষা প্রদান।
রূপান্তরিত (Transitional / Urothelium) প্রসারণশীল বহুস্তরীয় স্তর; টান পড়লে কোষগুলি চ্যাপ্টা হয়ে যায়। রেনাল পেলভিস, মূত্রনালী, মূত্রাশয় (Urinary bladder)। মূত্র জমার সময় মূত্রাশয়ের প্রাচীর ফেটে যাওয়া রোধ করে প্রসারণ ঘটায়।
৩. আন্তঃকোষীয় সংযোগস্থল (Cell Junctions)

আবরণী কোষগুলি পরস্পরের সাথে তিনটি বিশেষ সন্ধি দ্বারা যুক্ত থাকে:

  • দৃঢ় সন্ধি (Tight Junction / Zonula Occludens): কোষের প্লাজমা পর্দাকে এমনভাবে আবদ্ধ করে রাখে যাতে কোষের ফাঁক দিয়ে কোনো বহিঃকোষীয় তরল বা আয়ন নিচের কলায় চুইয়ে পড়তে না পারে।
  • অ্যাডেরিং সন্ধি (Desmosomes / Macula Adherens): কোষে ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট বা কেরাটিন তন্তুর সাথে যুক্ত বোতামের মতো কাঠামো, যা যান্ত্রিক টানে কোষগুলিকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • সংযোগ সন্ধি (Gap Junction / Nexus): কনেক্সন নামক ফাঁপা প্রোটিন চ্যানেল দিয়ে গঠিত ছিদ্র, যার মাধ্যমে পাশাপাশি দুটি কোষের মধ্যে সরাসরি সাইটোপ্লাজমীয় যোগাযোগ, আয়ন বিনিময় এবং উদ্দীপনা প্রবাহ সম্পন্ন হয়।

যোগ কলা: শিথিল, ঘন এবং বিশেষায়িত কঙ্কাল কলা (তরুণাস্থি ও অস্থি)

১. যোগ কলার উপাদান ও বিন্যাস

যোগ কলা (Connective Tissue) ভ্রূণের মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন হয় এবং দেহের বিভিন্ন কলা ও অঙ্গকে যুক্ত ও অবলম্বন প্রদান করে। এর তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে:

  • ধাত্র (Ground Substance): হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও মিউকোপলিস্যাকারাইড সমৃদ্ধ সান্দ্র মাধ্যম।
  • তন্তু (Fibers):
    • কোলাজেন তন্তু (শ্বেত তন্তু): কোলাজেন প্রোটিন নির্মিত, নমনীয় কিন্তু অত্যন্ত মজবুত ও টানসহনশীল।
    • ইলাস্টিন তন্তু (পীত তন্তু): ইলাস্টিন প্রোটিন নির্মিত, শাখাযুক্ত এবং রাবারের মতো স্থিতিস্থাপক।
    • রেটিকুলার তন্তু: সূক্ষ্ম জালিকাকার তন্তু যা প্লীহা ও লিম্ফ নোডের কাঠামো ধরে রাখে।
  • কোষসমূহ: ফাইব্রোব্লাস্ট (তন্তু ও ধাত্র প্রস্তুতকারী), ম্যাক্রোফাজ বা হিস্টিওসাইট (ফ্যাগোসাইটোসিস), মাস্ট কোষ (হিস্টামিন, হেপারিন ক্ষরণকারী) এবং প্লাজমা কোষ (অ্যান্টিবডি প্রস্তুতকারী)।
২. শিথিল ও ঘন যোগ কলা
  • অ্যারিওলার কলা (Areolar Tissue): ত্বকের নিচে এবং রক্তনালী ও স্নায়ুর চারপাশের প্যাকিং কলা হিসেবে কাজ করে। এতে কোলাজেন, ইলাস্টিন তন্তু এবং ফাইব্রোব্লাস্ট ও মাস্ট কোষ প্রচুর থাকে।
  • মেদ কলা (Adipose Tissue): চর্বি সঞ্চয়কারী কলা। কোষগুলি হলো অ্যাডিপোসাইট, যার মধ্যে বড় ফ্যাট ড্রপলেট থাকে যা নিউক্লিয়াসকে পরিধির দিকে ঠেলে দেয় (আংটির মতো বা সিগনেট-রিং রূপ)। এটি তাপ কুপরিবাহী হিসেবে দেহ উষ্ণ রাখে এবং যান্ত্রিক আঘাত শোষণ করে।
  • ঘন নিয়মিত যোগ কলা (Dense Regular): সমান্তরালভাবে সজ্জিত ঘন কোলাজেন তন্তু দ্বারা গঠিত:
    • টেন্ডন (Tendon): অনমনীয় ও অত্যন্ত মজবুত তন্তুময় রজ্জু যা রৈখিক পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে।
    • লিগামেন্ট (Ligament): পীত ইলাস্টিক তন্তুযুক্ত স্থিতিস্থাপক রজ্জু যা অস্থিকে অপর অস্থির সাথে সন্ধিস্থলে যুক্ত করে।
৩. বিশেষায়িত কঙ্কাল কলা: তরুণাস্থি বনাম অস্থি
  • তরুণাস্থি (Cartilage): সলিড কিন্তু নমনীয় ধাত্র যাতে কন্ড্রোয়েটিন সালফেট থাকে। তরুণাস্থির কোষগুলিকে কন্ড্রোসাইট বলে, যা ল্যাকিউনা গহ্বরে একক বা গুচ্ছে অবস্থান করে। তরুণাস্থিতে কোনো রক্তনালী থাকে না; বাইরের পেরিকন্ড্রিয়াম থেকে ব্যাপনে পুষ্টি পৌঁছায়।
    • হায়ালিন বা স্বচ্ছ তরুণাস্থি: কাচের মতো স্বচ্ছ; অস্থিসন্ধির প্রান্ত, শ্বাসনালী, নাসাপট ও গলবিলে থাকে।
    • ইলাস্টিক তরুণাস্থি: প্রচুর পীত তন্তুযুক্ত; কানের পিনা এবং এপিগ্লটিসে থাকে।
    • শ্বেত তন্তুময় তরুণাস্থি: আন্তঃকশেরুকা চাকতি (Intervertebral disc) ও পিউবিক সিমফাইসিসে থাকে।
  • অস্থি (Bone): ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সিপ্যাটাইট কেলাস এবং কোলাজেন তন্তুযুক্ত অত্যন্ত শক্ত ও অনমনীয় ধাত্র। পরিণত অস্থিকোষকে অস্টিওসাইট বলে।
    হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র (Haversian System / Osteon): স্তন্যপায়ী প্রাণীর নিরেট অস্থির গাঠনিক একক। প্রতিটি অস্টিয়ন গঠিত হয় একটি অনুদৈর্ঘ্য কেন্দ্রীয় হ্যাভারশিয়ান নালী (রক্তনালী ও স্নায়ুযুক্ত), তাকে ঘিরে থাকা চক্রাকার কেন্দ্রীভূত ল্যামেলি, ল্যামেলির ফাঁকে ল্যাকিউনায় অবস্থিত অস্টিওসাইট এবং অস্টিওসাইটের প্রবর্ধক ধারণকারী ক্যানালিকুলি দিয়ে। পাশাপাশি হ্যাভারশিয়ান নালীগুলি তির্যক ভকম্যানের নালী দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।

পেশী কলা ও স্নায়ু কলা: হিস্টোলজি, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক এবং উদ্দীপনা পরিবহন

১. পেশী কলার প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য

পেশী কলা মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত হয় এবং সংকোচনশীল প্রোটিন মাইক্রোফিলামেন্ট (অ্যাকটিন ও মায়োসিন) ধারণ করে। প্রাণীদেহে পেশী তিন প্রকার:

২. তিন প্রকার পেশীর তুলনামূলক রূপতত্ত্ব
বৈশিষ্ট্য কঙ্কাল পেশী (রৈখিক/ঐচ্ছিক) মসৃণ পেশী (অনৈচ্ছিক) হৃৎপেশী (কার্ডিয়াক)
আকার ও শাখা লম্বা, চোঙাকৃতি ও সম্পূর্ণ শাখাহীন। মাকু আকৃতির, দুই প্রান্ত সরু, শাখাহীন। ছোট চোঙাকৃতি, শাখাযুক্ত জালিকাকার।
ডোরাকাটা দাগ সুস্পষ্ট গাঢ় (A) ও হালকা (I) ব্যান্ডযুক্ত। কোনো দাগ নেই; মসৃণ সাইটোপ্লাজম। অনুপ্রস্থ হালকা ডোরা উপস্থিত।
নিউক্লিয়াস বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত (Syncytial); পরিধির দিকে থাকে। একনিউক্লিয়াসযুক্ত; কেন্দ্রে অবস্থিত। একনিউক্লিয়াসযুক্ত; কেন্দ্রে অবস্থিত।
সংযোগস্থল পৃথক স্নায়ুপ্রান্ত; কোনো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক নেই। কোষের মাঝে গ্যাপ জাংশন থাকে। ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক দ্বারা কোষগুলি জোড়া থাকে।
নিয়ন্ত্রণ ও গতি ঐচ্ছিক; দ্রুত সংকুচিত হয় ও দ্রুত ক্লান্ত হয়। অনৈচ্ছিক; ধীর, দীর্ঘস্থায়ী সংকোচন ও ক্লান্তিহীন। অনৈচ্ছিক; স্বয়ংক্রিয় পেসমেকার নিয়ন্ত্রিত, অবিরাম ছন্দময়।
অবস্থান অস্থির সাথে যুক্ত (বাইসেপস, ট্রাইসেপস)। পাকস্থলী, অন্ত্র, রক্তনালী, মূত্রাশয়ের প্রাচীর। কেবলমাত্র হৃৎপিণ্ডের মায়োকার্ডিয়াম প্রাচীরে।
৩. ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কের গাঠনিক গুরুত্ব

হৃৎপেশীর তন্তুগুলির সংযোগস্থলে গাঢ় অনুপ্রস্থ দাগ দেখা যায়, যাদের ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। এতে দুটি বিশেষ উপাদান থাকে:

  • ডেসমোজোম: অ্যাকটিন তন্তুকে ধরে রেখে যান্ত্রিক টানে সংকোচনকালে কোষগুলিকে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • গ্যাপ জাংশন: এক কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে অন্য কোষে আয়ন ও তড়িৎ প্রবাহ তাত্ক্ষণিকভাবে ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে হৃৎপেশী একটি একক ইলেকট্রিক্যাল সিনসাইটিয়াম হিসেবে ছান্দিকভাবে সংকুচিত হয়।
৪. স্নায়ু কলা: নিউরন ও নিউরোগ্লিয়া

স্নায়ু কলা ভ্রূণের একটোডার্ম থেকে উৎপন্ন হয় এবং উদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিবহনে অংশ নেয়:

  • নিউরন (Neuron): স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যগত একক। একটি মাল্টিপোলার নিউরনের অংশগুলি হলো:
    • কোষদেহ (Cyton / Soma): এতে নিউক্লিয়াস, নিউরোফাইব্রিল এবং প্রোটিন সংশ্লেষণকারী তীব্র ক্ষারগ্রাহী নিসল দানা (Nissl's granules) থাকে।
    • ডেনড্রাইট: সাইটন থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্র শাখাযুক্ত প্রবর্ধক যা সংবেদী উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষে নিয়ে আসে।
    • অ্যাক্সন: সাইটনের অ্যাক্সন হিলক থেকে উৎপন্ন দীর্ঘতম একক প্রবর্ধক। এটি মায়েলিন আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে এবং মাঝে মাঝে আবরণীহীন র‍্যানভিয়ারের পর্ব (Nodes of Ranvier) থাকে যা দ্রুত সল্টেটরি উদ্দীপনা পরিবহনে সাহায্য করে। অ্যাক্সনের শেষপ্রান্তে সিন্যাপটিক নব নিউরোট্রান্সমিটার (অ্যাসিটাইলকোলিন) ধারণ করে।
  • নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia): স্নায়ুতন্ত্রের অহিংস্র, অবিভাজনক্ষম কিন্তু প্রতিরক্ষামূলক ও পুষ্টিপ্রদানকারী কোষ যা মোট স্নায়ুকলা আয়তনের ৫০%-এর বেশি গঠন করে (অ্যাস্ট্রোসাইট, অলিগোডেনড্রোসাইট, মাইক্রোগ্লিয়া)।

আরশোলা (Periplaneta americana): রূপতত্ত্ব, বহিঃকঙ্কাল এবং যৌন রূপভেদ

১. ট্যাক্সোনমি ও সাধারণ পরিচিতি

Periplaneta americana (আমেরিকান আরশোলা) আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি নিশাচর, সর্বভুক এবং দ্রুতগামী (কার্সরিয়াল) প্রাণী। পূর্ণাঙ্গ আরশোলা প্রায় ৩৪ থেকে ৫৩ মিমি দীর্ঘ হয় এবং ডানাগুলি পুরুষের ক্ষেত্রে উদরের শেষপ্রান্ত ছাড়িয়ে বিস্তৃত থাকে।

২. কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল ও দেহাংশ (Tagmata)

সমগ্র দেহ কাইটিন প্রোটিন নির্মিত শক্ত ব্রাউন রঙের প্লেট বা স্ক্লেরাইট (Sclerites) দ্বারা আবৃত। প্রতিটি খণ্ডে চারটি স্ক্লেরাইট থাকে: পৃষ্ঠীয় টার্গাম, অঙ্কীয় স্টার্নাম এবং দুটি পার্শ্বীয় প্লিউরা। পাশাপাশি স্ক্লেরাইটগুলি একটি নমনীয় স্থিতিস্থাপক পর্দা বা আর্থ্রয়েডিয়াল মেমব্রেন দিয়ে যুক্ত থাকে। আরশোলার দেহ তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:

  • মস্তক (Head): ত্রিভুজাকার, দেহের অক্ষের সাথে সমকোণে নিচের দিকে মুখ করা থাকে (হাইপোগ্নাথাস অবস্থা)। এটি ভ্রূণীয় অবস্থায় ৬টি খণ্ডের মিলনে গঠিত। প্রধান অঙ্গসমূহ:
    • পুঞ্জাক্ষি (Compound Eyes): একজোড়া বড় বৃক্কাকার অক্ষি। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে প্রায় ২০০০টি ষড়ভুজাকার ওমাটিডিয়া থাকে, যা মৃদু আলোয় অত্যন্ত সংবেদনশীল কিন্তু কম স্পষ্ট মোজাইক দৃষ্টি তৈরি করে।
    • অ্যান্টেনা (স্পর্শশৃঙ্গ): একজোড়া লম্বা সুতোর মতো খণ্ডযুক্ত মোবাইল অ্যান্টেনা যা স্পর্শ, গন্ধ ও তাপ গ্রাহক ধারণ করে।
    • ফেনিস্ট্রা (Ocellar spots): পুঞ্জাক্ষির গোড়ায় অবস্থিত সরল অক্ষির অবশেষ।
  • বক্ষ (Thorax): তিনটি খণ্ড নিয়ে গঠিত: প্রোথোরাক্স (বৃহৎ ঢাল আকৃতির প্রোনোটাম দ্বারা আবৃত), মেসোথোরাক্স এবং মেটাথোরাক্স।
    • পা (Walking Legs): প্রতিটি বক্ষখণ্ডে একজোড়া করে মোট তিনজোড়া সন্ধিল পা থাকে। প্রতিটি পা পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত: কক্সা, ট্রোক্যান্টার, ফিমার, স্পাইনযুক্ত টিবিয়া এবং পাঁচটি উপখণ্ডযুক্ত টার্সাস যার শেষপ্রান্তে নখর ও অ্যারোলিয়াম থাকে।
    • ডানা (Wings): দুই জোড়া ডানা থাকে:
      • সম্মুখ ডানা (টেগমিনা / এলিট্রা): মেসোথোরাক্স থেকে উৎপন্ন; শক্ত, চামড়ার মতো, অস্বচ্ছ; ওড়ার কাজে লাগে না কিন্তু পেছনের ডানাকে ঢেকে রাখে।
      • পশ্চাৎ ডানা (মেমব্রেনাস ডানা): মেটাথোরাক্স থেকে উৎপন্ন; পাতলা, স্বচ্ছ, ঝিল্লিযুক্ত; ওড়ার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হয়।
  • উদর (Abdomen): প্রাপ্তবয়স্ক ও নিম্ফ উভয় ক্ষেত্রেই ১০টি খণ্ড নিয়ে গঠিত। প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী আরশোলায় বাহ্যিকভাবে ৭টি খণ্ড দেখা যায় (৭ম স্টার্নামটি নৌকা আকৃতির হয়ে ৮ম ও ৯ম স্টার্নামের সাথে মিলে ব্রুড পাউচ তৈরি করে)। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষে ৯টি খণ্ড দৃশ্যমান।
৩. চর্বণকারী মুখোপাঙ্গ (Mandibulate Mouthparts)

মুখোপাঙ্গগুলি মুখছিদ্রের চারদিকে সাজানো থাকে:

  • ল্যাব্রাম (উর্ধ্ব ওষ্ঠ): খাদ্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ম্যান্ডিবল (চোয়াল): একজোড়া শক্ত, কাইটিনযুক্ত ত্রিভুজাকার অংশ যাতে খাদ্য চূর্ণ করার জন্য ধারালো দাঁত থাকে।
  • প্রথম ম্যাক্সিলা: একজোড়া উপাঙ্গ যাতে ৫-খণ্ডযুক্ত স্পর্শ সংবেদী ম্যাক্সিলারি পাল্প থাকে।
  • ল্যাবিয়াম (নিম্ন ওষ্ঠ): দ্বিতীয় ম্যাক্সিলার মিলনে গঠিত যাতে ৩-খণ্ডযুক্ত ল্যাবিয়াল পাল্প থাকে।
  • হাইপোফ্যারিংস (জিহ্বা): মুখছিদ্রের ভেতরে অবস্থিত একটি মাংসল নলাকার অংশ যার গোড়ায় লালা নালী উন্মুক্ত হয়।
৪. আরশোলার যৌন রূপভেদ (Sexual Dimorphism)
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পুরুষ আরশোলা স্ত্রী আরশোলা
অ্যানাল স্টাইল (পুচ্ছশূক) উপস্থিত: ৯ম অঙ্কীয় স্টার্নামে একজোড়া ছোট অখণ্ডিত স্টাইল থাকে। অনুপস্থিত: কোনো অ্যানাল স্টাইল থাকে না।
অ্যানাল সারসি ১০ম পৃষ্ঠীয় টার্গামে উপস্থিত; খণ্ডযুক্ত ও সংবেদী। ১০ম টার্গামে উপস্থিত; পুরুষের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ও চওড়া।
উদরের আকৃতি উদর চ্যাপ্টা ও সরু। উদর চওড়া ও নৌকা আকৃতির।
জনন প্রকোষ্ঠ (Brood Pouch) ক্ষুদ্রাকার, ৯ম ও ১০ম টার্গাম এবং ৯ম স্টার্নাম দ্বারা গঠিত। বৃহৎ ব্রুড পাউচ; ৭ম, ৮ম ও ৯ম স্টার্নাম মিলে গঠিত।
ডানার দৈর্ঘ্য ডানা উদরের শেষপ্রান্ত ছাড়িয়ে অনেকটা পেছনে প্রসারিত থাকে। ডানা ঠিক উদরের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত থাকে।

আরশোলার অভ্যন্তরীণ শারীরসংস্থান: পৌষ্টিক, সংবহন, শ্বসন ও রেচন তন্ত্র

১. পরিপাক তন্ত্র (পৌষ্টিক নালী)

আরশোলার পৌষ্টিক নালী তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত:

  • অগ্রপৌষ্টিক (Stomodaeum): এক্টোডার্মীয় ও কিউটিকলযুক্ত।
    • মুখবিবর ও গলবিল: মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত।
    • ক্রপ (Crop): গ্রাসনালীর পরবর্তী বৃহৎ পাতলা থলি যা বক্ষ ও উদরগহ্বর জুড়ে খাদ্য সাময়িক জমা রাখে।
    • গিজার্ড (Gizzard / Proventriculus): ক্রপের পরবর্তী পুরু পেশল অংশ। ভেতরে কাইটিনের ছয়টি শক্ত দাঁত খাদ্যবস্তু চূর্ণ করে এবং পেছনের ব্রিসল ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে।
  • মধ্যপৌষ্টিক (Mesenteron / Midgut): এন্ডোডার্মীয় ও কিউটিকলহীন প্রকৃত পরিপাক স্থান।
    • হেপাটিক সিকা (Gastric Caeca): গিজার্ড ও মধ্যপৌষ্টিকের সংযোগস্থলে ৬ থেকে ৮টি অন্ধ নলাকার উপবৃদ্ধি থাকে যা পাচক রস ক্ষরণ করে।
    • পেরিট্রফিক মেমব্রেন: মধ্যপৌষ্টিক কোষ থেকে ক্ষরিত পাতলা ছিদ্রযুক্ত পর্দা যা খাদ্যবস্তুকে ঢেকে রেখে অন্ত্রের আবরণীকে ঘর্ষণ থেকে বাঁচায়।
  • পশ্চাৎপৌষ্টিক (Proctodaeum): এক্টোডার্মীয় ও কিউটিকলযুক্ত। ইলিয়াম, কোলন ও চওড়া মলাশয় (রেকটাম) নিয়ে গঠিত। রেকটামের দেয়ালে ছয়টি রেকটাল প্যাপিলা অপাচ্য খাদ্য থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে শুষ্ক মল তৈরি করে।
২. রক্তসংবহন তন্ত্র (মুক্ত সংবহন)

আরশোলার রক্তসংবহন মুক্ত প্রকৃতির:

  • হিমোসিল (Haemocoel): রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর যা অনুভূমিক পর্দা দ্বারা তিনটি সাইনাসে বিভক্ত: পৃষ্ঠীয় পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস (হৃৎপিণ্ডযুক্ত), মধ্যবর্তী পেরিভিসেরাল সাইনাস (অন্ত্রযুক্ত) এবং অঙ্কীয় পেরিনিউরাল সাইনাস (স্নায়ুরজ্জুযুক্ত)।
  • হৃৎপিণ্ড: পৃষ্ঠীয় মধ্যরেখা বরাবর বিস্তৃত ১৩টি প্রকোষ্ঠযুক্ত নলাকার হৃৎপিণ্ড (৩টি বক্ষে, ১০টি উদরে)। প্রতি প্রকোষ্ঠে একজোড়া কপাটিকাযুক্ত পার্শ্বীয় ছিদ্র বা অস্টিয়া থাকে। ১২ জোড়া ত্রিকোণাকার অ্যালারি পেশী সংকুচিত হয়ে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করায়।
  • হিমোলিম্ফ: বর্ণহীন রক্ত যাতে কোনো শ্বাসরঞ্জক নেই। এটি কেবল পুষ্টি, হরমোন ও রেচন পদার্থ পরিবহন করে।
৩. শ্বসন তন্ত্র (ট্রাকিয়াল তন্ত্র)

আরশোলায় গ্যাস বিনিময় রক্তের মাধ্যমে হয় না, সরাসরি শ্বাসনালীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:

  • স্পাইরাকল (শ্বাসরন্ধ্র): দেহের পার্শ্বদেশে অবস্থিত ১০ জোড়া রন্ধ্র: ২ জোড়া বক্ষ অঞ্চলে এবং ৮ জোড়া উদরের প্রথম আটটি খণ্ডে। রন্ধ্রগুলি পেশীবহুল স্ফিংক্টার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
  • ট্রাকিয়া ও টেনিডিয়া: স্থিতিস্থাপক নালী যার অভ্যন্তরীণ প্রাচীরে কাইটিনের সর্পিল বলয় বা টেনিডিয়া থাকে, যা নালীকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • ট্র্যাকিওল: অতিক্ষুদ্র শাখানালী যা সরাসরি পেশী ও কলার সংস্পর্শে তরলপূর্ণ অবস্থায় থাকে। বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন সরাসরি ট্র্যাকিওলের তরলে দ্রবীভূত হয়ে কোষে ব্যাপিত হয়।
৪. রেচন তন্ত্র: ম্যালপিজিয়ান নালিকা

আরশোলা জল সংরক্ষণের জন্য ইউরিকোটেলিক প্রাণী:

  • ম্যালপিজিয়ান নালিকা: মধ্যপৌষ্টিক ও পশ্চাৎপৌষ্টিকের সংযোগস্থলে ভাসমান ১০০ থেকে ১৫০টি সূক্ষ্ম হলুদ চুলের মতো নালিকা। এরা হিমোলিম্ফ থেকে দ্রবণীয় পটাশিয়াম ইউরেট ও জল গ্রহণ করে অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিড কেলাসে রূপান্তরিত করে মলের সাথে বের করে দেয়।
  • সহায়ক রেচন অঙ্গ: ফ্যাট বডি (ইউরেট কোষ), নেফ্রোসাইট এবং কিউটিকুলার খোলস মোচন।

আরশোলার জনন তন্ত্র, পৌরোমেটাবোলাস রূপান্তর এবং ব্যাঙের প্রধান অঙ্গসংস্থান

১. পুরুষ আরশোলার জনন তন্ত্র
  • শুক্রাশয় (Testes): উদরের ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ খণ্ডে পার্শ্বদেশে অবস্থিত একজোড়া ৩-খণ্ডিত শুক্রাশয়।
  • ভাস ডিফারেন্স ও ক্ষেপণ নালী: শুক্রাশয় থেকে নির্গত নালীদ্বয় যুক্ত হয়ে একটি একক ক্ষেপণ নালী গঠন করে যা পুরুষ জননছিদ্রে উন্মুক্ত হয়।
  • মাশরুম গ্রন্থি (Utricular Gland): ৬ষ্ঠ ও ৭ম খণ্ডে অবস্থিত ছত্রাকাকার সহায়ক গ্রন্থি যা শুক্রাণুর পুষ্টি দেয় এবং শুক্রাণুথলি বা স্পার্মাটোফোর গঠনে সাহায্য করে।
  • ফ্যালিক গ্রন্থি ও ফ্যালোমিয়ার: জননছিদ্রকে ঘিরে থাকা অপ্রতিসম কাইটিনযুক্ত অংশ যা মিলনের সময় স্ত্রীকে ধারণ করে।
২. স্ত্রী আরশোলার জনন তন্ত্র ও ওওথেকা গঠন
  • ডিম্বাশয় (Ovaries): উদরের ২য় থেকে ৬ষ্ঠ খণ্ডে পার্শ্বদেশে অবস্থিত একজোড়া বড় ডিম্বাশয়। প্রতিটি ডিম্বাশয় ৮টি ডিম্বক নালী বা ওভারিওল নিয়ে গঠিত।
  • স্পার্মাথেকা ও কোল্যাটেরাল গ্রন্থি: ৬ষ্ঠ খণ্ডে অবস্থিত স্পার্মাথেকা মিলনের পর শুক্রাণু জমা রাখে। কোল্যাটেরাল গ্রন্থি ক্ষরণ তৈরি করে যা শক্ত হয়ে ওওথেকা (Ootheca) নামক শক্ত ক্যাপসুল তৈরি করে।
  • ওওথেকা ও নিম্ফ দশা: প্রতিটি ওওথেকায় ১৬টি নিষিক্ত ডিম্বাণু দুই সারিতে সাজানো থাকে। ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হয় তাকে নিম্ফ বলে। নিম্ফ ১৩ বার নির্মোচনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ আরশোলায় পরিণত হয় (পৌরোমেটাবোলাস রূপান্তর)।
৩. ভারতীয় ব্যাঙ (*Rana tigrina*)-এর প্রধান অঙ্গসংস্থান
  • পরিপাক তন্ত্র: অগ্রভাগে যুক্ত দ্বিখণ্ডিত আঠালো জিহ্বা, পিত্তরস ক্ষরণকারী যকৃৎ এবং সাধারণ বহির্গমন পথ ক্লোয়েকা (Cloaca)।
  • সংবহন তন্ত্র: ৩-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)। সহায়ক প্রকোষ্ঠ হিসেবে পৃষ্ঠীয় সাইনাস ভেনোসাস এবং অঙ্কীয় কোনাস আর্টারিওসাস থাকে। রক্তে নিউক্লিয়াসযুক্ত ডিম্বাকার লোহিত কণিকা থাকে।
  • শ্বসন প্রক্রিয়া: তিনভাবে শ্বাসকার্য চালায়: ত্বকীয় শ্বসন (জলে বা শীতঘুমে আর্দ্র ত্বকের মাধ্যমে), মুখবিবরীয় শ্বসন (ডাঙায় বিশ্রামের সময়), এবং ফুসফুসীয় শ্বসন (একজোড়া গোলাপী ফুসফুসের মাধ্যমে)।
  • রেচন ও জনন তন্ত্র: একজোড়া গাঢ় লাল মেসোনেফ্রিক বৃক্ক। পুরুষ ব্যাঙে ১০-১২ জোড়া ভাস এফারেন্সিয়া বিডার্স নালীতে উন্মুক্ত হয়ে মূত্রনালীকে একটি সমন্বিত ইউরোজেনিটাল নালী হিসেবে ক্লোয়েকায় নিয়ে যায়। স্ত্রী ব্যাঙে মূত্রনালী ও ডিম্বনালী পৃথকভাবে ক্লোয়েকায় উন্মুক্ত হয়। ব্যাঙ ইউরিওটেলিক (ইউরিয়া রেচন করে)।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

চারটি মৌলিক প্রাণীকলা সূত্র
প্রাণীদেহ = আবরণী (এক্টো/মেসো/এন্ডোডার্ম) + যোগ কলা (মেসোডার্ম) + পেশী কলা (মেসোডার্ম) + স্নায়ু কলা (এক্টোডার্ম)
আবরণী কলা ভ্রূণের তিনটি জননস্তর থেকেই উৎপন্ন হতে পারে।
কোষীয় সন্ধিত্রয় নীতি (Cell Junctions Triad)
আবরণী বাধা = টাইট জাংশন (ক্ষরণ রোধ) + ডেসমোজোম (যান্ত্রিক অবলম্বন) + গ্যাপ জাংশন (আয়নীয় দ্রুত যোগাযোগ)
গ্যাপ জাংশন কনেক্সিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত নলাকার কনেক্সন দ্বারা তৈরি হয়।
স্তন্যপায়ীর হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র সমীকরণ
অস্টিয়ন = হ্যাভারশিয়ান নালী (রক্তনালী/স্নায়ু) + কেন্দ্রীভূত ল্যামেলি + ল্যাকিউনা (অস্টিওসাইট) + ক্যানালিকুলি
পাশাপাশি দুটি হ্যাভারশিয়ান নালী অনুভূমিক ভকম্যানের নালী (Volkmann's canal) দ্বারা যুক্ত থাকে।
পেশীতন্তুর তুলনামূলক সূত্র
রৈখিক (ডোরাকাটা / সিনসাইশিয়াল / ঐচ্ছিক) বনাম মসৃণ (ডোরাহীন / মাকু-আকৃতি / অনৈচ্ছিক) বনাম হৃৎপেশী (ডোরাকাটা / শাখাযুক্ত / ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক)
হৃৎপেশীর ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক যান্ত্রিক ডেসমোজোম ও বৈদ্যুতিক গ্যাপ জাংশনের সমন্বয়।
আরশোলার পৌষ্টিক নালীর অঞ্চল বিভাজন
পৌষ্টিক নালী = অগ্রপৌষ্টিক [কিউটিকল, ক্রপ, গিজার্ড (৬ দাঁত)] + মধ্যপৌষ্টিক [৬-৮ হেপাটিক সিকা, শোষণ] + পশ্চাৎপৌষ্টিক [কিউটিকল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা, রেকটাল প্যাপিলা]
অগ্র ও পশ্চাৎপৌষ্টিক এক্টোডার্মীয় হওয়ায় প্রতিবার খোলস ত্যাগের সময় এদের কিউটিকলও পরিত্যক্ত হয়।
আরশোলার যৌন দ্বিরূপতা নির্ণায়ক সূত্র
পুরুষ আরশোলা = ১০ম টার্গাম (অ্যানাল সারসি) + ৯ম স্টার্নাম (একজোড়া অ্যানাল স্টাইল); স্ত্রী আরশোলা = কেবল ১০ম টার্গাম (অ্যানাল সারসি) [অ্যানাল স্টাইল অনুপস্থিত]
অ্যানাল সারসি স্পর্শ ও বায়ুর কম্পন অনুভব করে; অ্যানাল স্টাইল মিলনে সহায়তা করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(a) কোষের আকার ও রূপতত্ত্বের ভিত্তিতে সরল আবরণী কলার শ্রেণিবিভাগ করো। প্রতিটি প্রকারের একটি করে অবস্থান ও কাজ উল্লেখ করো। (b) প্রাণীদেহে গ্যাপ জাংশনের (সংযোগ সন্ধি) গঠন ও শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব আলোচনা করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(a) সরল আবরণী কলার শ্রেণিবিভাগ: [৩ নম্বর]
সরল আবরণী কলা একস্তরীয় কোষ দিয়ে গঠিত যা একটি অকোষীয় ভিত্তি পর্দার ওপর সাজানো থাকে:
১. সরল আঁইশাকার (Simple Squamous): চ্যাপ্টা, পাতলা, অনিয়মিত সীমানাযুক্ত টালির মতো কোষ। কোষের কেন্দ্রে চ্যাপ্টা নিউক্লিয়াস থাকে। অবস্থান: ফুসফুসের অ্যালভিওলাই, রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াম, বোম্যান্স ক্যাপসুল। কাজ: গ্যাসীয় ব্যাপন ও পরিশ্রাবণ স্তর গঠন।
২. সরল ঘনকাকার (Simple Cuboidal): দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতায় সমান ঘনকের ন্যায় কোষ। কেন্দ্রে গোলাকার নিউক্লিয়াস থাকে। অবস্থান: বৃক্কের নেফ্রনের প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকা (PCT), লালাগ্রন্থির নালী। কাজ: ক্ষরণ ও শোষণ (PCT-তে মাইক্রোভিলিযুক্ত ব্রাশ বর্ডার শোষণতল বহুগুণ বৃদ্ধি করে)।
৩. সরল স্তম্ভাকার (Simple Columnar): লম্বা, সরু স্তম্ভের ন্যায় কোষ। ডিম্বাকৃতি নিউক্লিয়াসগুলি কোষের ভূমির কাছাকাছি অবস্থান করে। অবস্থান: পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের অভ্যন্তরীণ আবরণ (অরোমশ); ডিম্বনালী বা ফ্যালোপিয়ান টিউব ও ব্রঙ্কিওল (রোমশ/সিলিয়েটেড)। কাজ: উৎসেচক ও শ্লেষ্মা ক্ষরণ, পুষ্টি শোষণ এবং রোমশ প্রকারে নির্দিষ্ট দিকে ডিম্বাণু বা শ্লেষ্মা সঞ্চালন।

(b) গ্যাপ জাংশনের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব: [২ নম্বর]
- গঠন: গ্যাপ জাংশন হলো পাশাপাশি দুটি কোষের মধ্যে অবস্থিত নলাকার আণুবীক্ষণিক চ্যানেল। প্রতিটি চ্যানেল কনেক্সিন নামক ছয়টি ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন দ্বারা গঠিত একটি ফাঁপা সিলিন্ডার বা কনেক্সন (Connexon) দ্বারা তৈরি। দুটি কোষের কনেক্সন পরস্পর যুক্ত হয়ে ১.৫–২.০ ন্যানোমিটার ব্যাসের হাইড্রোফিলিক ছিদ্র তৈরি করে।
- শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব: এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সংলগ্ন কোষগুলির সাইটোপ্লাজমের মধ্যে সরাসরি সংযোগ ঘটে। ফলে অজৈব আয়ন ($ ext{Na}^+, ext{K}^+, ext{Ca}^{2+}$), দ্বিতীয় বার্তাবাহক ($ ext{cAMP}$) ও ছোট অণু দ্রুত চলাচল করতে পারে। এর ফলে হৃৎপেশী এবং মসৃণ পেশীতে উদ্দীপনা তরঙ্গের মতো মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং পেশীস্তর একটি একক কার্যকর ইলেকট্রিক্যাল সিনসাইটিয়াম হিসেবে সংকুচিত হতে পারে।
উদাহরণ 2
(a) স্তন্যপায়ীর নিরেট অস্থির আণুবীক্ষণিক গঠনে হ্যাভারশিয়ান তন্ত্রের (অস্টিয়ন) বিশদ বিবরণ দাও। (b) ধাত্রের গঠন ও রক্তনালীর উপস্থিতির ভিত্তিতে অস্থি ও তরুণাস্থির মধ্যে পার্থক্য লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(a) হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র বা অস্টিয়নের গঠন: [৩ নম্বর]
স্তন্যপায়ী প্রাণীর নিরেট অস্থির প্রধান গাঠনিক একক হলো হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র বা অস্টিয়ন (Osteon):
১. হ্যাভারশিয়ান নালী (Central Canal): প্রতিটি অস্টিয়নের কেন্দ্রে অক্ষ বরাবর একটি অনুদৈর্ঘ্য নালী থাকে, যাকে হ্যাভারশিয়ান নালী বলে। এতে রক্তজালক, লসিকানালী এবং স্নায়ুতন্তু অবস্থান করে।
২. কেন্দ্রীভূত ল্যামেলি (Concentric Lamellae): হ্যাভারশিয়ান নালীটিকে কেন্দ্র করে চক্রাকারে ৪ থেকে ২০টি শক্ত স্তরীভূত স্তর বিন্যস্ত থাকে। এই স্তরগুলি কোলাজেন তন্তু এবং ক্যালসিয়াম ফসফেট (হাইড্রক্সিপ্যাটাইট) কেলাস দ্বারা গঠিত।
৩. ল্যাকিউনা (Lacunae): ল্যামেলির মধ্যবর্তী স্থানে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরলপূর্ণ গহ্বর থাকে, এদের ল্যাকিউনা বলে। প্রতিটি ল্যাকিউনার ভেতর একটি করে পরিণত অস্থিকোষ বা অস্টিওসাইট অবস্থান করে।
৪. ক্যানালিকুলি (Canaliculi): প্রতিটি ল্যাকিউনা থেকে অসংখ্য সূক্ষ্ম, শাখাযুক্ত আণুবীক্ষণিক নালী চারদিকে বিস্তৃত থাকে। এদের মধ্য দিয়ে অস্টিওসাইটের সাইটোপ্লাজমীয় প্রবর্ধকগুলি প্রবেশ করে পাশাপাশি কোষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং রক্ত থেকে পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে।
৫. ভকম্যানের নালী (Volkmann's Canal): অনুপ্রস্থ বা তির্যক নালী যা পাশাপাশি দুটি হ্যাভারশিয়ান নালীকে এবং পেরিঅস্টিয়ামের সাথে কেন্দ্রীয় নালীকে সংযুক্ত করে।

(b) অস্থি ও তরুণাস্থির পার্থক্য: [২ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যঅস্থি (Bone)তরুণাস্থি (Cartilage)
ধাত্রের প্রকৃতিক্যালসিয়াম লবণ ও ওসিন প্রোটিন সমৃদ্ধ অত্যন্ত শক্ত ও অনমনীয়।কন্ড্রোয়েটিন সালফেট প্রোটিন সমৃদ্ধ নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক।
জীবন্ত কোষঅস্টিওসাইট, ল্যাকিউনার ভেতর এককভাবে থাকে এবং ক্যানালিকুলি উপস্থিত।কন্ড্রোসাইট, ল্যাকিউনায় একক বা ২-৪টির গুচ্ছে থাকে; ক্যানালিকুলি অনুপস্থিত।
রক্তনালীহ্যাভারশিয়ান ও ভকম্যানের নালীর মাধ্যমে রক্তনালীসমৃদ্ধ।সম্পূর্ণ রক্তনালীহীন (অ্যাভাস্কুলার); পেরিকন্ড্রিয়াম থেকে ব্যাপনে পুষ্টি পায়।
হ্যাভারশিয়ান তন্ত্রস্তন্যপায়ীর নিরেট অস্থিতে উপস্থিত।সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
উদাহরণ 3
(a) রৈখিক পেশী, মসৃণ পেশী এবং হৃৎপেশীর মধ্যে গাঠনিক ও শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য ছকের সাহায্যে লেখো। (b) ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক কী এবং হৃৎপেশীতে এর বিশেষ তাৎপর্য কী? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(a) পেশীকলাত্রয়ের তুলনামূলক ছক: [৩ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যরৈখিক পেশী (ঐচ্ছিক)মসৃণ পেশী (অনৈচ্ছিক)হৃৎপেশী
তন্তুর আকার ও শাখালম্বা, নলাকার ও শাখাহীন।মাকু-আকৃতির (দুই প্রান্ত চোখা), শাখাহীন।ছোট নলাকার ও শাখাযুক্ত জালিকাকার।
ডোরাকাটা দাগসুস্পষ্ট গাঢ় ও হালকা অনুপ্রস্থ ডোরা (সারকোমিয়ার) বর্তমান।সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (মসৃণ)।অনুপ্রস্থ ডোরা উপস্থিত কিন্তু হালকা।
নিউক্লিয়াসের সংখ্যা ও অবস্থানবহুনিউক্লিয়াসযুক্ত সিনসাইটিয়াম; নিউক্লিয়াস পরিধির দিকে থাকে।একনিউক্লিয়াসযুক্ত; নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে অবস্থিত।একনিউক্লিয়াসযুক্ত (কদাচিৎ দ্বি-নিউক্লিয়াস); কেন্দ্রে অবস্থিত।
নিয়ন্ত্রণ ও সংকোচনঐচ্ছিক (সোমাটিক স্নায়ুতন্ত্র); দ্রুত সংকোচনশীল ও দ্রুত ক্লান্ত হয়।অনৈচ্ছিক (স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র); ধীর, দীর্ঘস্থায়ী ও ক্লান্তিহীন।অনৈচ্ছিক (মায়োজেনিক পেসমেকার); ছান্দিক ও কখনোই ক্লান্ত হয় না।
ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কঅনুপস্থিত।অনুপস্থিত।উপস্থিত (কোষ সংযোগস্থলে)।

(b) ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক ও এর তাৎপর্য: [২ নম্বর]
- সংজ্ঞা ও গঠন: ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক হলো দুটি সংলগ্ন হৃৎপেশী কোষের প্রান্তিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বিশেষ ধরনের আঁকাবাঁকা অনুপ্রস্থ পর্দা। এটি মূলত দুটি বিশেষ কোষীয় সন্ধির সংমিশ্রণ: (১) ডেসমোজোম, যা সংকোচনকালে কোষগুলিকে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেয়, এবং (২) গ্যাপ জাংশন, যা এক কোষ থেকে অন্য কোষে সরাসরি আয়ন প্রবাহের পথ তৈরি করে।
- তাৎপর্য: গ্যাপ জাংশনের কারণে হৃৎস্পন্দনের বৈদ্যুতিক সংকেত মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হৃৎপেশী পৃথক পৃথক কোষ হিসেবে নয়, বরং একটি অবিচ্ছিন্ন কার্যকর ইলেকট্রিক্যাল সিনসাইটিয়াম (Functional Syncytium) হিসেবে একযোগে সংকুচিত হতে পারে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যাবশ্যক।
উদাহরণ 4
(a) আরশোলার (Periplaneta americana) পৌষ্টিক নালীর গঠন বর্ণনা করো। ক্রপ, গিজার্ড, হেপাটিক সিকা ও রেকটাল প্যাcodeলার কাজ উল্লেখ করো। (b) আরশোলার রেচনে ম্যালপিজিয়ান নালিকার ভূমিকা আলোচনা করো। [৩.৫ + ১.৫ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(a) আরশোলার পৌষ্টিক তন্ত্রের বিবরণ: [৩.৫ নম্বর]
আরশোলার পৌষ্টিক নালী তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
১. অগ্রপৌষ্টিক (Stomodaeum): এক্টোডার্মীয় এবং ভেতরে কাইটিনের কিউটিকল দ্বারা আবৃত। মুখছিদ্র থেকে শুরু হয়ে গলবিল ও সরু গ্রাসনালীর পর গঠিত হয়:
- ক্রপ (Crop): গ্রাসনালী প্রসারিত হয়ে বক্ষ ও উদরগহ্বর জুড়ে একটি পাতলা প্রাচীরযুক্ত থলি তৈরি করে। এটি সাময়িকভাবে খাদ্য সঞ্চয় করে এবং লালারস দ্বারা আংশিক পরিপাক সম্পন্ন করে।
- গিজার্ড বা পেষণী (Gizzard / Proventriculus): ক্রপের পরবর্তী পুরু পেশীযুক্ত শঙ্কু আকৃতির অংশ। এর ভেতরের কিউটিকল স্তরটি অত্যন্ত পুরু হয়ে ছয়টি শক্ত কাইটিনের তৈরি দাঁত গঠন করে। এই দাঁতগুলি শক্ত খাদ্যবস্তুকে পিষে মিহি গুঁড়ো করে এবং পেছনের ব্রিসল ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে।
২. মধ্যপৌষ্টিক (Mesenteron / Midgut): এন্ডোডার্মীয় এবং কিউটিকলহীন প্রকৃত পাকস্থলী।
- হেপাটিক সিকা (Gastric Caeca): গিজার্ড ও মধ্যপৌষ্টিকের সংযোগস্থলে ৬ থেকে ৮টি অন্ধ আঙুলের মতো নলাকার উপবৃদ্ধি থাকে। এগুলি বিভিন্ন পাচক উৎসেচক ক্ষরণ করে। মধ্যপৌষ্টিক খাদ্য পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন করে।
৩. পশ্চাৎপৌষ্টিক (Proctodaeum): এক্টোডার্মীয় ও কিউটিকলযুক্ত। এটি ইলিয়াম, কোলন এবং চওড়া মলাশয় (রেকটাম) নিয়ে গঠিত।
- রেকটাল প্যাপিলা (Rectal Papillae): মলাশয়ের অভ্যন্তরীণ প্রাচীরে ছয়টি অনুদৈর্ঘ্য গ্রন্থিময় খাঁজ থাকে, যা অপাচ্য খাদ্যাবশেষ থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ পুনর্শোষণ করে শুষ্ক মল তৈরি করে।

(b) রেচনে ম্যালপিজিয়ান নালিকার ভূমিকা: [১.৫ নম্বর]
- অবস্থান: মধ্যপৌষ্টিক ও পশ্চাৎপৌষ্টিকের সংযোগস্থলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, হলুদ বর্ণের চুলের মতো অন্ধ নালিকা হিমোলিম্ফে ভাসমান থাকে।
- রেচন কৌশল: ম্যালপিজিয়ান নালিকার গ্রন্থিময় রোমশ কোষগুলি হিমোলিম্ফ থেকে দ্রবণীয় পটাশিয়াম ইউরেট ও জল শোষণ করে। নালিকার ভেতরে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তা অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিড কেলাসে রূপান্তরিত হয়। এই ইউরিক অ্যাসিড পশ্চাৎপৌষ্টিকের মাধ্যমে মলের সাথে দেহ থেকে নির্গত হয়। এটি জল অপচয় সম্পূর্ণ রোধ করে শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে (ইউরিকোটেলিক অভিযোজন)।
উদাহরণ 5
(a) আরশোলার মুক্ত রক্তসংবহন তন্ত্রের বর্ণনা দাও। ১৩-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ডের কাজ ব্যাখ্যা করো। (b) পুরুষ ও স্ত্রী আরশোলার মধ্যে তিনটি প্রধান বাহ্যিক রূপতাত্ত্বিক পার্থক্য উল্লেখ করো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(a) আরশোলার রক্তসংবহন তন্ত্র: [৩ নম্বর]
- মুক্ত সংবহনতন্ত্র: আরশোলার রক্ত নির্দিষ্ট রক্তনালী বা কৌশিক নালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রক্ত সরাসরি দেহগহ্বর বা হিমোসিল (Haemocoel)-এ মুক্তভাবে প্রবাহিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ রক্তে নিমজ্জিত থাকে।
- হিমোসিলের বিভাগ: দুটি ছিদ্রযুক্ত পর্দা (পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় মধ্যচ্ছদা) দ্বারা হিমোসিল তিনটি সাইনাসে বিভক্ত: পৃষ্ঠীয় পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস (হৃৎপিণ্ড ধারণ করে), মধ্যবর্তী বৃহত্তম পেরিভিসেরাল সাইনাস (পৌষ্টিক নালী ও জননাঙ্গ ধারণ করে), এবং অঙ্কীয় পেরিনিউরাল সাইনাস (স্নায়ুরজ্জু ধারণ করে)।
- ১৩-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড: পৃষ্ঠীয় টার্গামের ঠিক নিচে মধ্যরেখা বরাবর একটি দীর্ঘ, পেশীবহুল নলাকার হৃৎপিণ্ড থাকে। এটি ১৩টি ফানেল আকৃতির প্রকোষ্ঠ দিয়ে গঠিত (৩টি বক্ষে ও ১০টি উদরে)। প্রতিটি প্রকোষ্ঠের দুই পাশে একজোড়া কপাটিকাযুক্ত ছিদ্র থাকে যাকে অস্টিয়া (Ostia) বলে।
- অ্যালারি পেশী (Alary Muscles): ১২ জোড়া ত্রিকোণাকার অ্যালারি পেশী পৃষ্ঠীয় মধ্যচ্ছদাকে টার্গামের সাথে যুক্ত রাখে। এদের সংকোচনে পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস প্রসারিত হয় এবং অস্টিয়ার মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে সম্মুখ ধমনী দিয়ে সাইনাসে পাম্প হয়।

(b) পুরুষ ও স্ত্রী আরশোলার পার্থক্য (যৌন দ্বিরূপতা): [২ নম্বর]
বৈশিষ্ট্যপুরুষ আরশোলাস্ত্রী আরশোলা
অ্যানাল স্টাইল (পুচ্ছশূক)উপস্থিত: ৯ম উদরীয় স্টার্নামে একজোড়া অখণ্ডিত কাঁটার মতো স্টাইল থাকে।অনুপস্থিত: অ্যানাল স্টাইল থাকে না।
অ্যানাল সারসি১০ম টার্গামে উপস্থিত, তুলনামূলকভাবে ছোট।১০ম টার্গামে উপস্থিত, অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও চওড়া।
উদরের আকৃতি ও ব্রুড পাউচউদর সরু, চ্যাপ্টা; কোনো ব্রুড পাউচ থাকে না।উদর চওড়া ও নৌকা আকৃতির; ৭ম, ৮ম ও ৯ম স্টার্নাম মিলে ব্রুড পাউচ গঠন করে।
ডানার বিস্তারডানা উদরের শেষ প্রান্ত ছাড়িয়ে অনেকটা পেছনে বিস্তৃত থাকে।ডানা উদরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
উদাহরণ 6
নিম্নলিখিত বিবরণগুলি থেকে সংশ্লিষ্ট কলা বা অঙ্গের নাম শনাক্ত করো: (i) আবরণী কলার সংলগ্ন কোষগুলির মধ্যে তরল পদার্থের চুইয়ে পড়া রোধকারী সুদৃঢ় বন্ধন। (ii) শিথিল যোগ কলার যে কোষগুলি হিস্টামিন, সেরোটোনিন ও হেপারিন নিঃসরণ করে। (iii) রক্তনালী ও অন্ত্রের প্রাচীরে অবস্থিত মাকু আকৃতির অনৈচ্ছিক পেশী। (iv) স্ত্রী আরশোলার যে সহায়ক গ্রন্থি ওওথেকার শক্ত খোলস তৈরি করে। (v) ব্যাঙের মুখবিবরের আর্দ্র, সংবহনযুক্ত গ্যাস বিনিময়কারী আবরণী স্তর। [১ x ৫ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
সঠিক শনাক্তকরণ: [প্রতিটিতে ১ নম্বর]
১. টাইট জাংশন বা দৃঢ় সন্ধি (Zonula Occludens): এটি পাশাপাশি দুটি আবরণী কোষের প্লাজমা পর্দাকে এমনভাবে সংযুক্ত করে যা বহিঃকোষীয় তরলের চুইয়ে পড়া সম্পূর্ণরূপে রোধ করে।
২. মাস্ট কোষ (Mast Cells): অ্যারিওলার কলায় অবস্থিত দানাযুক্ত কোষ যা প্রদাহ সৃষ্টিতে হিস্টামিন, রক্তনালী সংকোচনে সেরোটোনিন এবং রক্ততঞ্চনরোধে হেপারিন ক্ষরণ করে।
৩. মসৃণ পেশী কলা (Smooth Muscle Tissue): এককেন্দ্রিক, মাকু আকৃতির ডোরাবিহীন অনৈচ্ছিক পেশী যা ভিসেরাল অঙ্গের প্রাচীর গঠন করে।
৪. কোল্যাটেরাল গ্রন্থি (Collateral Glands): স্ত্রী আরশোলার একজোড়া শাখান্বিত গ্রন্থি যা স্ক্লেরোপ্রোটিন ক্ষরণ করে ওওথেকার শক্ত লালচে-বাদামি আবরণী গঠন করে।
৫. বুকোফ্যারিঞ্জিয়াল আবরণী (Buccopharyngeal Epithelium): ব্যাঙের মুখবিবরের আর্দ্র, পাতলা, রক্তজালকসমৃদ্ধ রোমশ স্তর যা স্থলে অবস্থানের সময় ত্বকের পাশাপাশি দ্রুত গ্যাসীয় ব্যাপনে সহায়তা করে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

টেন্ডন ও লিগামেন্টের গঠন এবং কাজের মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

টেন্ডন হলো শ্বেত কোলাজেন তন্তুর ঘন নিয়মিত যোগ কলা যা পেশীকে অস্থির সাথে শক্তভাবে যুক্ত করে। লিগামেন্ট হলো পীত ইলাস্টিক তন্তুর সমন্বয়ে গঠিত স্থিতিস্থাপক যোগ কলা যা অস্থিকে অপর অস্থির সাথে যুক্ত করে।

সাধারণ ভুল ধারণা

অ্যানাল স্টাইল এবং অ্যানাল সারসির অবস্থান এবং উপস্থিতি গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

অ্যানাল সারসি হলো খণ্ডযুক্ত সংবেদী অঙ্গ যা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় আরশোলারই ১০ম পৃষ্ঠীয় টার্গামে উপস্থিত থাকে। কিন্তু অ্যানাল স্টাইল বা পুচ্ছশূক হলো অখণ্ডিত কাঁটার মতো উপাঙ্গ যা কেবলমাত্র পুরুষ আরশোলার ৯ম অঙ্কীয় স্টার্নামে পাওয়া যায়।

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে অস্থি ও তরুণাস্থি উভয়ের ধাত্রই নমনীয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

তরুণাস্থির ধাত্র কন্ড্রোয়েটিন সালফেটের উপস্থিতির জন্য নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক। পক্ষান্তরে অস্থির ধাত্রে প্রচুর পরিমাণে অজৈব ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সিপ্যাটাইট কেলাস থাকায় তা অত্যন্ত শক্ত ও অনমনীয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

আরশোলার রক্ত (হিমোলিম্ফ) মানুষের মতো অক্সিজেন পরিবহন করে বলে ধরে নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আরশোলার হিমোলিম্ফ বর্ণহীন এবং এতে কোনো শ্বাসরঞ্জক (হিমোগ্লোবিন বা হিমোসায়ানিন) থাকে না। আরশোলার কোষে কোষে অক্সিজেন সরাসরি শ্বাসনালী বা ট্রাকিয়া এবং ট্র্যাকিওল জালিকাতন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবাহিত হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

আবরণী কলা কেবলমাত্র একটোডার্ম জননস্তর থেকে উৎপন্ন হয় মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আবরণী কলা অনন্য কারণ এটি ভ্রূণের তিনটি প্রাথমিক জননস্তর থেকেই উদ্ভূত হতে পারে: একটোডার্ম (ত্বকের এপিডার্মিস), এন্ডোডার্ম (পরিপাক নালীর অভ্যন্তরীণ আবরণী), এবং মেসোডার্ম (সিলোমিক দেহগহ্বর ও রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াম)।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন (অধ্যায় ৭) - কলাস্থান ও আরশোলার শারীরস্থান আবরণী, যোগ, পেশী ও স্নায়ু কলা | হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র | পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা শারীরসংস্থান ১. প্রাণীকলা ও কোষীয় সংযোগ Epithelial Tissue (আবরণী) আবরণী কলা (সরল, স্তরীভূত, গ্রন্থিময়) Connective Tissue (যোগ কলা) যোগ কলা (অ্যারিওলার, মেদ, তরুণাস্থি, অস্থি) Muscular Tissue (পেশী কলা) পেশী কলা (ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক, হৃৎপেশী) Nervous Tissue (স্নায়ু কলা) স্নায়ু কলা (নিউরন ও নিউরোগ্লিয়া) Cell Junctions (কোষীয় সংযোগস্থল) দৃঢ় সন্ধি (Tight): ক্ষরণ রোধ সংযোগ সন্ধি (Gap): আয়ন পরিবহন অ্যাডেরিং সন্ধি (Desmosome): দৃঢ়তা ২. হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র ও নিউরন অস্থির অস্টিয়ন (Haversian System) Canal কেন্দ্রীয় নালী + ল্যামেলি + অস্টিওসাইট মাল্টিপোলার নিউরন: ডেনড্রাইট + অ্যাক্সন মায়েলিন আবরণী ও র‍্যানভিয়ারের পর্ব ক্যানালিকুলি: পুষ্টি পরিবহন সিন্যাপস: নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ ৩. আরশোলার পৌষ্টিক ও সংবহন তন্ত্র Alimentary Canal (পৌষ্টিক নালী) CROP GIZZARD অগ্রপৌষ্টিক: মুখ, ক্রপ, গিজার্ড (৬ দাঁত) হেপাটিক সিকা (৬-৮) + মধ্যপৌষ্টিক ম্যালপিজিয়ান নালিকা (১০০-১৫০): ইউরিকোটেলিক ১৩-প্রকোষ্ঠী পৃষ্ঠীয় হৃৎপিণ্ড ও অ্যালারি পেশী Sexual Dimorphism (যৌন রূপভেদ) Male Cockroach (পুরুষ আরশোলা) যৌন দ্বিরূপতা: অ্যানাল স্টাইল (পুরুষ) Female Cockroach (স্ত্রী আরশোলা) অ্যানাল সারসি (উভয় লিঙ্গে উপস্থিত) - No Anal Styles

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
প্রাণীকলা প্রধানত চার প্রকার: আবরণী কলা (সুরক্ষা ও ক্ষরণ), যোগ কলা (সংযোজন ও অবলম্বন), পেশী কলা (সংকোচন ও চলন) এবং স্নায়ু কলা (উদ্দীপনা পরিবহন ও সমন্বয়)।
মূল বিষয় 2
আবরণী কলা অকোষীয় ভিত্তি পর্দার ওপর অবস্থান করে এবং এতে রক্তনালী থাকে না। সরল আবরণী কলার মধ্যে রয়েছে আঁইশাকার (ব্যাপন), ঘনকাকার (ক্ষরণ ও শোষণ), স্তম্ভাকার (শোষণ ও নিঃসরণ) এবং রোমশ (রেণু/শ্লেষ্মা সঞ্চালন)। যৌগিক আবরণী কলা বহুতলীয় যান্ত্রিক সুরক্ষা প্রদান করে।
মূল বিষয় 3
আবরণী কলার কোষীয় সংযোগস্থলে দৃঢ় সন্ধি বা টাইট জাংশন (ক্ষরণ রোধ), অ্যাডেরিং সন্ধি বা ডেসমোজোম (যান্ত্রিক সংযুক্তি) এবং সংযোগ সন্ধি বা গ্যাপ জাংশন (আয়ন ও সংকেত অণু দ্রুত বিনিময়) অবস্থান করে।
মূল বিষয় 4
যোগ কলা ধাত্র, তন্তু (কোলাজেন, ইলাস্টিন) ও কোষ দ্বারা গঠিত। শিথিল যোগ কলায় অ্যারিওলার ও মেদ কলা; ঘন নিয়মিত যোগ কলায় টেন্ডন (পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে) ও লিগামেন্ট (অস্থিকে অস্থির সাথে যুক্ত করে) থাকে।
মূল বিষয় 5
কঙ্কাল কলায় তরুণাস্থির ধাত্র নমনীয় ও কন্ড্রোসাইটযুক্ত। অস্থির ধাত্র ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সিপ্যাটাইট ও কোলাজেনযুক্ত অনমনীয়; স্তন্যপায়ী অস্থির প্রধান একক হলো হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র (অস্টিয়ন) যাতে কেন্দ্রীয় নালী, কেন্দ্রীভূত ল্যামেলি, ল্যাকিউনা, অস্টিওসাইট ও ক্যানালিকুলি থাকে।
মূল বিষয় 6
পেশী কলা তিন প্রকার: রৈখিক বা ঐচ্ছিক পেশী (বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত সিনসাইটিয়াম, ডোরাকাটা), মসৃণ বা অনৈচ্ছিক পেশী (মাকু-আকৃতির, এককেন্দ্রিক, ডোরাহীন), এবং হৃৎপেশী (শাখাযুক্ত, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কযুক্ত, অনৈচ্ছিক কিন্তু ছান্দিক)।
মূল বিষয় 7
স্নায়ু কলা গঠিত হয় উদ্দীপনক্ষম নিউরন (সাইটন, ডেনড্রাইট, অ্যাক্সন ও সিন্যাপটিক নব) এবং অহিংস্র সহায়ক নিউরোগ্লিয়া কোষ দিয়ে, যা স্নায়ুতন্ত্রের অর্ধেকের বেশি আয়তন গঠন করে।
মূল বিষয় 8
পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা (আরশোলা) কাইটিনযুক্ত স্ক্লেরাইট (পৃষ্ঠীয় টার্গাম, অঙ্কীয় স্টার্নাম, পার্শ্বীয় প্লিউরা) দিয়ে আবৃত। এর মাথা হাইপোগ্নাথাস, প্রায় ২০০০ ওমাটিডিয়াযুক্ত পুঞ্জাক্ষি এবং চর্বণকারী মুখোপাঙ্গ ধারণ করে।
মূল বিষয় 9
আরশোলার পৌষ্টিক নালী অগ্রপৌষ্টিক (মুখ, গলবিল, গ্রাসনালী, ক্রপ ও ৬টি দাঁতযুক্ত গিজার্ড), ৬-৮টি হেপাটিক সিকা, মধ্যপৌষ্টিক এবং পশ্চাৎপৌষ্টিক (ইলিয়াম, কোলন, মলাশয় ও ৬টি রেকটাল প্যাপিলা) নিয়ে গঠিত।
মূল বিষয় 10
আরশোলার মধ্য ও পশ্চাৎপৌষ্টিকের সংযোগস্থলে ১০০-১৫০টি সূক্ষ্ম হলুদ ম্যালপিজিয়ান নালিকা থাকে, যা হিমোলিম্ফ থেকে ইউরিক অ্যাসিড নিষ্কাশন করে রেচনে সহায়তা করে (ইউরিকোটেলিক প্রাণী)।
মূল বিষয় 11
সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির; হিমোসিল গহ্বরে বর্ণহীন হিমোলিম্ফ থাকে এবং পিঠের দিকে ১৩টি প্রকোষ্ঠযুক্ত একটি নলাকার হৃৎপিণ্ড থাকে যা অ্যালারি পেশীর সাহায্যে রক্ত পাম্প করে।
মূল বিষয় 12
যৌন দ্বিরূপতা সুস্পষ্ট: পুরুষ আরশোলার ৯ম স্টার্নামে একজোড়া অখণ্ডিত অ্যানাল স্টাইল বা পুচ্ছশূক থাকে, যা স্ত্রী আরশোলায় থাকে না। উভয় লিঙ্গেই ১০ম টার্গামে খণ্ডযুক্ত অ্যানাল সারসি থাকে। স্ত্রী আরশোলা ওওথেকার ভেতরে ১৬টি ডিম্বাণু আবদ্ধ করে।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
সাধারণ সংবহনশীল অবস্থায় কোনো দৃশ্যমান তন্তু না থাকা সত্ত্বেও রক্তকে কেন আবরণী বা পেশী কলার বদলে বিশেষায়িত যোগ কলা হিসেবে গণ্য করা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: রক্তকে বিশেষ যোগ কলা বলা হয় কারণ: (১) এটি অন্যান্য সব যোগ কলার মতোই ভ্রূণের মেসোডার্মীয় মেসেনকাইম থেকে উৎপন্ন হয়। (২) এটি যোগ কলার মৌলিক কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে বহিঃকোষীয় ধাত্রে (রক্তরস বা প্লাজমা) বিভিন্ন রক্তকোষ বা উপাদান ছড়ানো থাকে। (৩) সাধারণ অবস্থায় রক্তে তন্তু দেখা না গেলেও রক্তরসে দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেন প্রোটিন থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধার সময় দ্রুত পলিমারাইজড হয়ে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন তন্তুর জালক তৈরি করে।
2
ছদ্ম-স্তরীভূত স্তম্ভাকার আবরণী কলা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে কীভাবে বহুস্তরীয় রূপের বিভ্রম সৃষ্টি করে এবং এটি মানবদেহে কোথায় অপরিহার্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ছদ্ম-স্তরীভূত (Pseudostratified) আবরণী কলায় কোষগুলির উচ্চতা অসমান হওয়ায় এবং নিউক্লিয়াসগুলি বিভিন্ন উচ্চতায় সজ্জিত থাকায় একে বহুস্তরীয় দেখায়। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে প্রতিটি কোষই সরাসরি ভিত্তি পর্দার ওপর সংলগ্ন থাকে, অর্থাৎ এটি একস্তরীয় কলা। এটি মানবদেহের শ্বাসনালীতে (ট্রাকিয়া ও ব্রঙ্কাই) অবস্থিত থাকে, যেখানে এর সিলিয়া বা রোমশ স্তর শ্লেষ্মায় আটকে থাকা ধূলিকণা ও জীবাণুকে ক্রমাগত ওপরের দিকে ঠেলে বাইরে পাঠাতে সাহায্য করে।
3
পূর্ণবয়স্ক মানুষের অস্থি ভেঙে গেলে দ্রুত জোড়া লাগলেও সন্ধির আর্টিকুলার তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা অত্যন্ত ধীরগতিতে সারে বা প্রায় সারেই না কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: তরুণাস্থি সম্পূর্ণ রক্তনালীহীন বা অ্যাভাস্কুলার কলা। এর কন্ড্রোসাইট কোষগুলি ঘন ও আধা-কঠিন ধাত্রের ল্যাকিউনার মধ্যে আটকে থাকে এবং দূরবর্তী পেরিকন্ড্রিয়াম বা সাইনোভিয়াল তরল থেকে ধীর ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি পায়। অন্যদিকে অস্থির হ্যাভারশিয়ান ও ভকম্যানের নালীজুড়ে রক্তনালীর প্রাচুর্য থাকে, যা অস্থি ভাঙলে দ্রুত কোলাজেন, ক্যালসিয়াম ও অস্টিওব্লাস্ট কোষ সরবরাহ করে অস্থি সন্ধানের জন্য ক্যালাস গঠন করতে পারে।
4
বর্ণহীন রক্ত এবং মুক্ত সংবহন থাকা সত্ত্বেও আরশোলা কীভাবে তীব্র শারীরিক তৎপরতা এবং দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা বজায় রাখে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শারীরিক সক্রিয়তা রক্তে হিমোগ্লোবিন দ্বারা দ্রবণীয় অক্সিজেন পরিবহনের গতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আরশোলায় গ্যাস বিনিময় রক্তসংবহনের ওপর একেবারেই নির্ভরশীল নয়। ১০ জোড়া বহিস্থ স্পাইরাকলের মাধ্যমে বায়ু সরাসরি ট্রাকিয়া নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে এবং সূক্ষ্ম ট্র্যাকিওলের মাধ্যমে প্রতিটি পেশীকোষের সাইটোপ্লাজমে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় অক্সিজেন পৌঁছে যায়। এই প্রত্যক্ষ ও দ্রুত ব্যাপন ব্যবস্থার কারণে আরশোলা রক্তের সাহায্য ছাড়াই পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
5
আরশোলার পৌরোমেটাবোলাস রূপান্তরের তাৎপর্য কী এবং এর নিম্ফ বা অপরিণত দশা পূর্ণাঙ্গ আরশোলা থেকে কোন দুটি প্রধান বিষয়ে আলাদা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আরশোলার রূপান্তর ধারাবাহিক বা অসম্পূর্ণ (পৌরোমেটাবোলাস), যাতে কোনো পিউপা দশা থাকে না। ডিম থেকে নির্গত বাচ্চাটিকে নিম্ফ বলা হয় যা দেখতে ক্ষুদ্রাকার পূর্ণাঙ্গ আরশোলার মতোই। এই নিম্ফ ১৩ বার খোলস মোচন বা নির্মোচনের (Ecdysis) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। নিম্ফ পূর্ণাঙ্গ আরশোলা থেকে দুটি ক্ষেত্রে ভিন্ন: (১) নিম্ফে কোনো উড়তে সক্ষম ডানা থাকে না (কেবলমাত্র শেষের দিকের নিম্ফে উইং প্যাড দেখা যায়), এবং (২) নিম্ফে প্রজনন অঙ্গ ও বহিঃজননেন্দ্রিয় অপরিপক্ব ও নিষ্ক্রিয় থাকে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।