আবরণী কলা (Epithelial Tissue) প্রাণীদেহের বাহ্যিক ত্বক, অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মুক্ত তল, দেহগহ্বর ও রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ তৈরি করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- ঘন সন্নিবিষ্ট কোষবিন্যাস: কোষগুলি খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ধাত্র প্রায় থাকেই না।
- রক্তনালীবিহীন প্রকৃতি (Avascular): আবরণী কলায় কোনো রক্তজালক থাকে না। নিচের যোগ কলার রক্তজালক থেকে ভিত্তি পর্দার মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি ও অক্সিজেন আসে।
- ভিত্তি পর্দা (Basement Membrane): আবরণী কোষগুলি একটি অকোষীয় পর্দার ওপর বসে থাকে যা গ্লাইকোপ্রোটিন ও কোলাজেন নির্মিত বেসাল ল্যামিনা এবং রেটিকুলার ল্যামিনা দ্বারা গঠিত।
- তিনটি জননস্তর থেকে উৎপত্তি: এটি একটোডার্ম (ত্বক), এন্ডোডার্ম (অন্ত্রের আস্তরণ) এবং মেসোডার্ম (সিলোমিক আস্তরণ) থেকে উৎপন্ন হয়।
| আবরণী কলার প্রকার | কোষীয় রূপতত্ত্ব | দেহের অবস্থান | প্রধান শারীরবৃত্তীয় কাজ |
|---|---|---|---|
| সরল আঁইশাকার (Simple Squamous) | পাতলা, চ্যাপ্টা, অনিয়মিত টালির মতো একস্তরীয় কোষ; কেন্দ্রে চ্যাপ্টা নিউক্লিয়াস। | ফুসফুসের অ্যালভিওলাই, রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াম, বোম্যান্স ক্যাপসুল। | গ্যাসীয় ব্যাপন, পরিস্রাবণ এবং ঘর্ষণ হ্রাস। |
| সরল ঘনকাকার (Simple Cuboidal) | ঘনকের মতো কোষ, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান; কেন্দ্রে গোলাকার নিউক্লিয়াস। | বৃক্কের নেফ্রনের PCT ও DCT, থাইরয়েড ফলিকল, লালাগ্রন্থির নালী। | ক্ষরণ ও শোষণ। PCT-তে ব্রাশ বর্ডার মাইক্রোভিলি শোষণতল বৃদ্ধি করে। |
| সরল স্তম্ভাকার (Simple Columnar) | লম্বা সরু স্তম্ভের ন্যায় কোষ; নিউক্লিয়াস ভূমির কাছে থাকে। | পাকস্থলী ও অন্ত্রের আস্তরণ (অরোমশ); ফ্যালোপিয়ান টিউব ও ব্রঙ্কিওল (রোমশ)। | উৎসেচক ক্ষরণ ও শোষণ। সিলিয়াযুক্ত প্রকারে শ্লেষ্মা বা ডিম্বাণু একমুখী সঞ্চালন। |
| ছদ্ম-স্তরীভূত (Pseudostratified) | একস্তরীয় হলেও কোষের উচ্চতা ও নিউক্লিয়াসের স্তর ভিন্ন হওয়ায় বহুস্তরীয় দেখায়। | শ্বাসনালী (ট্রাকিয়া), ব্রঙ্কাই, এপিডিডাইমিস। | সিলিয়ার সঞ্চালনের মাধ্যমে ধূলিকণা ও শ্লেষ্মা বাইরে ঠেলে দেওয়া। |
| যৌগিক স্তরীভূত (Stratified Squamous) | বহুস্তরীয় কোষ; নিচের কোষ বিভাজনক্ষম, উপরের কোষ চ্যাপ্টা আঁইশাকার। | কেরাটিনযুক্ত: ত্বকের এপিডার্মিস। কেরাটিনবিহীন: মুখবিবর, গলবিল, গ্রাসনালী, যোনি। | ঘর্ষণ, রাসায়নিক ক্ষয় ও জীবাণু আক্রমণ থেকে যান্ত্রিক সুরক্ষা প্রদান। |
| রূপান্তরিত (Transitional / Urothelium) | প্রসারণশীল বহুস্তরীয় স্তর; টান পড়লে কোষগুলি চ্যাপ্টা হয়ে যায়। | রেনাল পেলভিস, মূত্রনালী, মূত্রাশয় (Urinary bladder)। | মূত্র জমার সময় মূত্রাশয়ের প্রাচীর ফেটে যাওয়া রোধ করে প্রসারণ ঘটায়। |
আবরণী কোষগুলি পরস্পরের সাথে তিনটি বিশেষ সন্ধি দ্বারা যুক্ত থাকে:
- দৃঢ় সন্ধি (Tight Junction / Zonula Occludens): কোষের প্লাজমা পর্দাকে এমনভাবে আবদ্ধ করে রাখে যাতে কোষের ফাঁক দিয়ে কোনো বহিঃকোষীয় তরল বা আয়ন নিচের কলায় চুইয়ে পড়তে না পারে।
- অ্যাডেরিং সন্ধি (Desmosomes / Macula Adherens): কোষে ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট বা কেরাটিন তন্তুর সাথে যুক্ত বোতামের মতো কাঠামো, যা যান্ত্রিক টানে কোষগুলিকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- সংযোগ সন্ধি (Gap Junction / Nexus): কনেক্সন নামক ফাঁপা প্রোটিন চ্যানেল দিয়ে গঠিত ছিদ্র, যার মাধ্যমে পাশাপাশি দুটি কোষের মধ্যে সরাসরি সাইটোপ্লাজমীয় যোগাযোগ, আয়ন বিনিময় এবং উদ্দীপনা প্রবাহ সম্পন্ন হয়।