Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 4
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

প্রাণী রাজ্য

প্রাণী রাজ্য (Kingdom Animalia বা Metazoa) হলো বহুকোশী, পরভোজী (হলোজোয়িক), ইউক্যারিওটিক জীবদের এক বিশাল ও বিস্ময়কর জগৎ, যেখানে দশ লক্ষেরও বেশি জীবিত প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রাণীদের বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক ভিত্তিগুলি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে: কোশীয় বনাম কলা, অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র স্তরের দেহসংগঠন; অপ্রতিসম, অরীয় ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য; দ্বিস্তরী ও ত্রিস্তরী ভ্রূণস্তর; প্রকৃত সিলোমের প্রকৃতি (অ্যাসিলোমেট, সিউডোসিলোমেট ও ইউসিলোমেট); মেটামেরিক খণ্ডীভবন এবং মেসোডার্মাল নটোকর্ডের উপস্থিতি। আদিম পরিফেরা থেকে শুরু করে নিডারিয়া, টেনোফোরা, প্লাটিহেলমিনথিস, অ্যাসকেলমিনথিস, অ্যানেলিডা, আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, একাইনোডার্মাটা এবং হেমিকর্ডাটা পেরিয়ে কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী শ্রেণিগুলির (কনড্রিকথিস, অস্টিকথিস, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ী) অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়। বোর্ড পরীক্ষা ও নিট (NEET) পরীক্ষার জন্য এই অধ্যায়টি অপরিহার্য।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

একটি পূর্ণাঙ্গ তারামাছ জেলিফিশের মতো অরীয় প্রতিসাম্য দেখালেও বিবর্তনের ধারায় এটি কেঁচো বা প্রজাপতির চেয়ে মানুষের অনেক বেশি নিকটাত্মীয় কেন?

অধ্যায়টির গুরুত্ব

প্রাণী ট্যাক্সোনমির জ্ঞান কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চিকিৎসা পরজীবীবিদ্যা (Medical Parasitology), মৎস্যচাষ, রেশমচাষ, মৌমাছিপালন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এর সরাসরি প্রয়োগ রয়েছে। ফিতাকৃমি (Taenia) এবং ফাইলেরিয়া কৃমির (Wuchereria) শারীরস্থান জানা থাকলে কৃমিনাশক ওষুধের সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ সম্ভব হয়। সন্ধিপদীদের শ্বসন ও ট্র্যাকিয়াল তন্ত্রের জ্ঞান ক্ষতিকর পতঙ্গ দমনে সহায়তা করে। এছাড়া মৎস্যের ২-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড থেকে স্তন্যপায়ীর ৪-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ডে রক্তসংবহনের পূর্ণ পৃথকীকরণ বোঝা মানবদেহের হোমিওস্ট্যাসিস ও উষ্ণরক্তী প্রকৃতির শারীরবৃত্তীয় ভিত্তি স্পষ্ট করে তোলে।

পাঠের পূর্বে প্রয়োজনীয় ধারণা

  • ইউক্যারিওটিক প্রাণীকোশের মৌলিক গঠন (কোশপ্রাচীর ও প্লাস্টিডের অনুপস্থিতি)।
  • ভ্রূণস্তর গঠনের ধারণা: এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম।
  • পরভোজী বা হলোজোয়িক পুষ্টি পদ্ধতির সাধারণ নিয়মাবলি।
  • অমেরুদণ্ডী (কেঁচো, মাছি, শামুক) ও মেরুদণ্ডী (মাছ, ব্যাঙ, পাখি) প্রাণীদের সাধারণ ধারণা।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের মূল ভিত্তি:...
2 আদিম নন-কর্ডাটা পর্বসমূহ: পরিফেরা,...
3 কৃমি পর্বসমূহ ও মেটামেরিজম: প্লাটিহ...
4 উন্নত ইউসিলোমেট অমেরুদণ্ডী: আর্থ্রো...
5 কর্ডাটা পর্ব ও আদিম কর্ডাটা: কর্ডাট...
6 চোয়ালযুক্ত মেরুদণ্ডী ও টেট্রাপোডা:...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের মূল ভিত্তি: সংগঠন স্তর, প্রতিসাম্য, ভ্রূণস্তর, সিলোম ও মেটামেরিজম

প্রাণীজগতের দশ লক্ষাধিক প্রজাতির মধ্যে আকৃতি ও দৈহিক গঠনে প্রচুর বৈচিত্র্য থাকলেও কিছু মৌলিক কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এদের পারস্পরিক সম্পর্কের দিশা দেখায়। প্রাণীদের বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণিবিন্যাসে এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলিই মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১. সংগঠন স্তর (Levels of Structural Organisation)
  • কোশীয় স্তর (Cellular Level): কোশগুলি শিথিলভাবে বিন্যস্ত থাকে, কোনো কলা গঠিত হয় না। কোশগুলির মধ্যে শ্রমবণ্টন বর্তমান। উদাহরণ: পরিফেরা পর্ব (স্পঞ্জ)।
  • কলা স্তর (Tissue Level): একই কাজ সম্পন্নকারী কোশগুলি একত্রিত হয়ে সুনির্দিষ্ট কলা গঠন করে। উদাহরণ: নিডারিয়া (সিলেন্টেরটা) ও টেনোফোরা।
  • অঙ্গ স্তর (Organ Level): বিভিন্ন কলা সুসংগঠিত হয়ে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় অঙ্গ গঠন করে। প্রথম দেখা যায় প্লাটিহেলমিনথিস পর্বে।
  • অঙ্গতন্ত্র স্তর (Organ-System Level): একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে সুনির্দিষ্ট তন্ত্র (পৌষ্টিকতন্ত্র, সংবহনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র ইত্যাদি) গঠন করে। অ্যাসকেলমিনথিস থেকে শুরু করে কর্ডাটা পর্যন্ত সমস্ত উন্নত পর্বে এটি দেখা যায়।
২. প্রতিসাম্য (Body Symmetry)
  • অপ্রতিসম (Asymmetrical): দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর কোনো তল দিয়েই দেহটিকে দুটি সমান অর্ধাংশে বিভক্ত করা যায় না। অধিকাংশ স্পঞ্জ (Porifera) এবং প্রাপ্তবয়স্ক শামুক অপ্রতিসম।
  • অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry): দেহের কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর যেকোনো উল্লম্ব তলে ছেদ করলে দেহটি দুটি সদৃশ অর্ধাংশে বিভক্ত হয়। উদাহরণ: নিডারিয়া, টেনোফোরা এবং পূর্ণাঙ্গ একাইনোডার্মাটা (পঞ্চ-অরীয়)।
  • দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য (Bilateral Symmetry): দেহের মধ্য-অনুদৈর্ঘ্য তল (Sagittal plane) বরাবর কেবল একটিমাত্র তলেই দেহটিকে সদৃশ বাম ও ডান অর্ধাংশে ভাগ করা যায়। এর সাথে মস্তকীভবন (Cephalization) যুক্ত। প্লাটিহেলমিনথিস থেকে কর্ডাটা (এবং একাইনোডার্মাটার লার্ভা) দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
৩. ভ্রূণস্তর (Germ Layers)
  • দ্বিস্তরী প্রাণী (Diploblastic): ভ্রূণের পরিস্ফুটনকালে কোশগুলি দুটি প্রাথমিক স্তরে বিন্যস্ত থাকে—বহিঃস্থ এক্টোডার্ম এবং অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম। এদের মাঝে কোশবিহীন জেলির মতো স্তর থাকে যাকে মেসোগ্লিয়া বলে। উদাহরণ: পরিফেরা, নিডারিয়া ও টেনোফোরা।
  • ত্রিস্তরী প্রাণী (Triploblastic): এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝখানে তৃতীয় ভ্রূণস্তর মেসোডার্ম গঠিত হয়। মেসোডার্ম থেকে পেশি, সংবহনকলা ও কঙ্কাল সৃষ্টি হয়। প্লাটিহেলমিনথিস থেকে কর্ডাটা পর্যন্ত সকল প্রাণী ত্রিস্তরী।
৪. সিলোম বা দেহগহ্বর (Coelom)

দেহতৃক এবং পৌষ্টিকনালীর মধ্যবর্তী মেসোডার্ম-আবৃত দেহগহ্বরকে সিলোম বলে। সিলোমের উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রাণীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • অ্যাসিলোমেট (Acoelomate): কোনো সিলোম বা দেহগহ্বর থাকে না। দেহতৃক ও পৌষ্টিকনালীর মধ্যবর্তী স্থান কঠিন মেসোডার্মাল প্যারেনকাইমা কলা দ্বারা পূর্ণ থাকে। উদাহরণ: প্লাটিহেলমিনথিস (চ্যাপ্টাকৃমি)।
  • সিউডোসিলোমেট বা ছদ্ম-সিলোমেট (Pseudocoelomate): দেহগহ্বরটি মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে না; বরং ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল গহ্বরে মেসোডার্ম কোশগুলি বিক্ষিপ্ত থলি হিসেবে অবস্থান করে। উদাহরণ: অ্যাসকেলমিনথিস (গোলকৃমি)।
  • ইউসিলোমেট (Eucoelomate / True Coelomate): মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম (প্যারাইটাল ও ভিসেরাল স্তর) দ্বারা সম্পূর্ণ বেষ্টিত প্রকৃত দেহগহ্বর থাকে। অ্যানেলিডা, আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, একাইনোডার্মাটা, হেমিকর্ডাটা ও কর্ডাটা ইউসিলোমেট।
৫. খণ্ডীভবন (Metamerism) ও নটোকর্ড
  • মেটামেরিক খণ্ডীভবন: দেহটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে রৈখিক ক্রমে সজ্জিত একাধিক খণ্ডে (Metameres) বিভক্ত থাকে এবং অন্তত কিছু অঙ্গের পৌনঃপুনিক পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণ: অ্যানেলিডা, আর্থ্রোপোডা ও কর্ডাটা।
  • নটোকর্ড: ভ্রূণাবস্থায় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন পৃষ্ঠীয়, নমনীয়, দণ্ডাকার গঠন। নটোকর্ডযুক্ত প্রাণীরা কর্ডাটা এবং নটোকর্ডবিহীন প্রাণীরা নন-কর্ডাটা।

আদিম নন-কর্ডাটা পর্বসমূহ: পরিফেরা, নিডারিয়া ও টেনোফোরা

আদিম অমেরুদণ্ডী পর্বগুলি বহুকোশী প্রাণীদের বিবর্তনের প্রাথমিক ধারাকে নির্দেশ করে। এখানে শিথিল কোশীয় স্তর (স্পঞ্জ) থেকে কলা স্তরের গঠন এবং বিশেষায়িত শিকারি কোশের (নিডোসাইট) বিকাশ প্রত্যক্ষ করা যায়।

১. পর্ব পরিফেরা (স্পঞ্জ / Sponges)
  • বাসস্থান ও গঠন: প্রধানত সামুদ্রিক (ব্যতিক্রম: মিষ্টি জলের স্পঞ্জ Spongilla), নিশ্চল (আবদ্ধ), অপ্রতিসম প্রাণী যাদের কোশীয় স্তরের সংগঠন বর্তমান।
  • জল সংবহন নালিতন্ত্র (Water Canal System): দেহপ্রাচীরের অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র অস্টিয়া (Ostia) দিয়ে জলদেহে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় গহ্বর স্পঞ্জোসিল (Spongocoel)-এ পৌঁছায় এবং শীর্ষে অবস্থিত বৃহৎ ছিদ্র অস্কুলাম (Osculum) দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। এই জলপ্রবাহ খাদ্য সংগ্রহ, শ্বসন গ্যাস বিনিময় ও বর্জ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
  • কোয়ানোসাইট বা কলার কোশ (Choanocytes): স্পঞ্জোসিল ও নালীগুলির প্রাচীরে অবস্থিত বিশেষায়িত ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোশ। এদের ফ্ল্যাজেলার স্পন্দন জলপ্রবাহ তৈরি করে এবং কলারের সাহায্যে খাদ্যকণা ধরে অন্তঃকোশীয় পরিপাক সম্পন্ন করে।
  • কঙ্কাল ও জনন: দেহ ক্যালকেরিয়াস বা সিলিসিয়াস স্পিকিউল (Spicules) অথবা প্রোটিনযুক্ত স্পঞ্জিন তন্তু দ্বারা সমর্থিত। এরা উভলিঙ্গ (Hermaphrodite)। অযৌন জনন ঘটে খণ্ডীভবন ও গেমিউলের মাধ্যমে; যৌন জননে অভ্যন্তরীণ নিষেক ঘটে এবং মুক্ত সাঁতারু লার্ভা (অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা) সৃষ্টি হয়।
  • উদাহরণ: Sycon (সাইকন), Spongilla (মিষ্টি জলের স্পঞ্জ), Euspongia (স্নানের স্পঞ্জ)।
২. পর্ব নিডারিয়া / সিলেন্টেরটা (Cnidaria)
  • বাসস্থান ও প্রতিসাম্য: জলজ (প্রধানত সামুদ্রিক), নিশ্চল বা মুক্ত সাঁতারু, অরীয় প্রতিসম, দ্বিস্তরী ও কলা স্তরবিশিষ্ট প্রাণী।
  • নিডোসাইট বা নিডোব্লাস্ট (দংশক কোশ): কর্ষিকা ও দেহত্বকে অবস্থিত বিশেষ দংশক কোশ যাতে হিপনোটক্সিন বিষে ভরা নেমাটোসিস্ট (Nematocyst) থাকে। এটি আত্মরক্ষা, শিকার ধরা ও কোনো বস্তুকে আঁকড়ে ধরতে ব্যবহৃত হয়।
  • দেহের গঠন: দেহে একটিমাত্র মুখছিদ্রযুক্ত গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর (সিলেন্টেরন) থাকে যা মুখ ও পায়ু উভয়রূপে কাজ করে। পরিপাক বহিঃকোশীয় ও অন্তঃকোশীয় উভয় প্রকার।
  • পলিমরফিজম বা রূপভেদ (পলিপ ও মেদুসা):
    • পলিপ (Polyp): স্থানু, নলাকার দেহ যা উপরের দিকে মুখ ও কর্ষিকাযুক্ত (যেমন: Hydra, Adamsia)।
    • মেদুসা (Medusa): মুক্ত সাঁতারু, ছাতার মতো গঠন যার নিচের দিকে মুখ ও কর্ষিকা থাকে (যেমন: Aurelia বা জেলিফিশ)।
  • মেটাজেনেসিস (জনুক্রম): পলিপ ও মেদুসা দশার মধ্যে চক্রাকার পর্যায়ক্রম। পলিপ অযৌন জননে মেদুসা তৈরি করে এবং মেদুসা যৌন জননে পলিপ তৈরি করে (যেমন: Obelia)।
  • উদাহরণ: Physalia (পর্তুগিজ যুদ্ধজাহাজ), Adamsia (সমুদ্র অ্যানিমোন), Pennatula (সমুদ্র কলম), Gorgonia (সমুদ্র পাখা), Meandrina (মস্তিষ্ক প্রবাল)।
৩. পর্ব টেনোফোরা (Ctenophora / চিরুনি জেলি)
  • বাসস্থান ও গমন: সম্পূর্ণ সামুদ্রিক, অরীয়/দ্বি-অরীয় প্রতিসম, দ্বিস্তরী প্রাণী। এদের দেহে গমনের জন্য ৮টি সমদূরত্বে অবস্থিত সিলিয়াযুক্ত বহিঃস্থ কম্ব প্লেট (Comb plates / চিরুনি সদৃশ ফলক) থাকে।
  • জীবদ্যুতি (Bioluminescence): দেহে শীতল আলো উৎপন্ন করার অনন্য ক্ষমতা টেনোফোরার একটি প্রধান সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।
  • শিকার গ্রহণ: কর্ষিকায় নিডোসাইট থাকে না; তার বদলে আঠালো কলোব্লাস্ট কোশ (Colloblasts) থাকে যা দিয়ে শিকার ধরে।
  • জনন: কেবল যৌন জনন ঘটে; বহিঃস্থ নিষেক ও সিডিScoped লার্ভার মাধ্যমে পরোক্ষ বিকাশ।
  • উদাহরণ: Pleurobrachia ও Ctenoplana।

কৃমি পর্বসমূহ ও মেটামেরিজম: প্লাটিহেলমিনথিস, অ্যাসকেলমিনথিস ও অ্যানেলিডা

ত্রিস্তরী ভ্রূণস্তর এবং দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্যের উদ্ভবের ফলে প্রাণীদের চলন ও মস্তকীভবন ত্বরান্বিত হয়। এই ধারায় চ্যাপ্টাকৃমি, গোলকৃমি এবং প্রকৃত মেটামেরিজমযুক্ত অঙ্গুরীয়মাল প্রাণীদের বিকাশ ঘটে।

১. পর্ব প্লাটিহেলমিনথিস (চ্যাপ্টাকৃমি / Flatworms)
  • দৈহিক বৈশিষ্ট্য: পৃষ্ঠ-অঙ্কীয়ভাবে চ্যাপ্টা দেহ (Flatworms), দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, অঙ্গ স্তরবিশিষ্ট এবং সম্পূর্ণ অ্যাসিলোমেট।
  • পরজীবী অভিযোজন: পোষকের অন্ত্রে আটকে থাকার জন্য হুক (Hooks) ও চোষক (Suckers) থাকে। ফিতাকৃমির পৌষ্টিকনালী নেই; এরা সরাসরি দেহত্বক দিয়ে পোষকের পাচিত খাদ্য শোষণ করে।
  • রেচনতন্ত্র: অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ ও রেচনের জন্য বিশেষ সিলিয়াযুক্ত শিখাকোশ বা ফ্লেম সেল (Protonephridia) থাকে।
  • জনন ও পুনরুৎপত্তি: উভলিঙ্গ প্রাণী; অভ্যন্তরীণ নিষেক। Planaria-র অসাধারণ উচ্চ পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা (High regeneration capacity) রয়েছে।
  • উদাহরণ: Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃৎ কৃমি), Planaria।
২. পর্ব অ্যাসকেলমিনথিস / নেমাটোডা (গোলকৃমি / Roundworms)
  • দৈহিক বৈশিষ্ট্য: প্রস্থচ্ছেদে দেহ গোলাকার (Roundworms), দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, অঙ্গতন্ত্র স্তরবিশিষ্ট।
  • ছদ্ম-সিলোম (Pseudocoelom): দেহগহ্বরটি মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম দ্বারা আবৃত নয়; এটি ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে উদ্ভূত।
  • পৌষ্টিকতন্ত্র: সম্পূর্ণ পৌষ্টিকনালী বর্তমান যাতে সুগঠিত ও পেশীবহুল গ্রसनी (Muscular pharynx) থাকে।
  • যৌন দ্বিরূপতা (Sexual Dimorphism): একলিঙ্গ (Dioecious); স্ত্রী কৃমি সাধারণত পুরুষ কৃমির চেয়ে আকারে দীর্ঘ ও মোটা হয়; পুরুষ কৃমির পশ্চাৎ প্রান্ত বাঁকানো এবং তাতে পেনিয়াল স্পিকিউল থাকে।
  • উদাহরণ: Ascaris lumbricoides (মানব অন্ত্রের গোলকৃমি), Wuchereria bancrofti (ফাইলেরিয়া কৃমি - গোদ রোগ সৃষ্টিকারী), Ancylostoma duodenale (হুকওয়ার্ম)।
৩. পর্ব অ্যানেলিডা (অঙ্গুরীয়মাল প্রাণী / Segmented Worms)
  • মেটামেরিক খণ্ডীভবন: দেহটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে অসংখ্য বৃত্তাকার আংটির মতো খণ্ডে বিভক্ত (ল্যাটিন Annulus = আংটি)। ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং প্রকৃত ইউসিলোমেট।
  • গমনাঙ্গ: অনুদৈর্ঘ্য ও বৃত্তাকার পেশী এবং কাইটিননির্মিত সিটি (Setae) থাকে। জলজ অ্যানেলিডা Nereis-এ সাঁতারের জন্য চ্যাপ্টা পার্শ্বীয় উপাঙ্গ প্যারাপোডিয়া (Parapodia) থাকে।
  • সংবহন ও রেচন: বদ্ধ রক্তসংবহনতন্ত্র (রক্তবাহ ও স্পন্দনশীল পার্শ্বীয় হৃৎপিণ্ডযুক্ত); প্লাজমায় হিমোগ্লোবিন দ্রবীভূত থাকে। রেচনের জন্য কুণ্ডলীকৃত নালিকাযুক্ত নেফ্রিডিয়া (Nephridia) থাকে যা অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণও করে।
  • জনন: Nereis একলিঙ্গ এবং এদের লার্ভা হলো ট্রোকোফোর (Trochophore)। কেঁচো (Pheretima) ও জোক (Hirudinaria) উভলিঙ্গ এবং এদের বিকাশ প্রত্যক্ষ।
  • উদাহরণ: Nereis, Pheretima posthuma (কেঁচো), Hirudinaria granulosa (রক্তচোষা জোঁক)।

উন্নত ইউসিলোমেট অমেরুদণ্ডী: আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, একাইনোডার্মাটা ও হেমিকর্ডাটা

ইউসিলোমেট অমেরুদণ্ডী প্রাণীরা দৈহিক অভিযোজন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনে চরম সাফল্য অর্জন করেছে। আর্থ্রোপোডার সন্ধিল কাইটিনাস কঙ্কাল, মোলাস্কার ম্যান্টল-খোলক, একাইনোডার্মাটার জলসংবহনতন্ত্র এবং হেমিকর্ডাটার গলবিলীয় গঠন এর উজ্জ্বল নিদর্শন।

১. পর্ব আর্থ্রোপোডা (সন্ধিপদী প্রাণী / Arthropoda)
  • বিবর্তনীয় প্রাধান্য: প্রাণীজগতের সর্ববৃহৎ পর্ব; পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রাণী প্রজাতি আর্থ্রোপোডার অন্তর্গত। ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, খণ্ডিত ইউসিলোমেট।
  • বহিঃকঙ্কাল ও সন্ধিল উপাঙ্গ: দেহটি জলনিরোধক কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত যা নির্দিষ্ট সময় অন্তর মোচন বা একডাইসিস (Ecdysis) প্রক্রিয়ায় পরিত্যক্ত হয়। দেহে সন্ধিল উপাঙ্গ (Jointed appendages) থাকে।
  • দেহ বিভাজন: দেহটি সাধারণত মস্তক, বক্ষ ও উদর—এই তিনটি অংশে বিভক্ত (অথবা শিরোবক্ষ ও উদর)।
  • শ্বসনতন্ত্র: বিচিত্র শ্বসন অঙ্গ: ফুলকা (চিংড়ি), বুক গিল (রাজকাঁকড়া), বুক লাং (বিছে ও মাকড়সা), এবং শ্বাসনালী বা ট্র্যাকিয়াল তন্ত্র (পতঙ্গশ্রেণি)।
  • সংবহন ও রেচন: মুক্ত সংবহনতন্ত্র; সিলোম রক্তপূর্ণ হিমোসিল (Haemocoel)-এ পরিণত হয়। রেচনের প্রধান অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules); ক্রাস্টেশিয়ায় সবুজ গ্রন্থি (Green glands)।
  • ইন্দ্রিয় ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: পুঞ্জাক্ষি (অম্যাটিডিয়া বিশিষ্ট মোজাইক দৃষ্টি), শুঙ্গ ও ভারসাম্য অঙ্গ স্ট্যাটোসিস্ট থাকে। উপকারী পতঙ্গ: Apis (মৌমাছি), Bombyx (রেশম মথ), Laccifer (লাক্ষা কীট); বাহক: Anopheles, Culex, Aedes মশা; জীবন্ত জীবাশ্ম: Limulus (রাজকাঁকড়া)।
২. পর্ব মোলাস্কা (কম্বোজ বা কোমলদেহী প্রাণী / Mollusca)
  • সাধারণ বৈশিষ্ট্য: প্রাণীজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব। অখণ্ডায়িত কোমল দেহ যা সাধারণত চুননির্মিত খোলক ($CaCO_3$) দ্বারা ঢাকা থাকে।
  • দেহ সংগঠন: দেহটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত: অগ্রবর্তী সংবেদী মস্তক, অঙ্কীয় পেশল পদ (গমনাঙ্গ), এবং পৃষ্ঠীয় আন্তরযন্ত্রীয় কুঁজ (Visceral hump)।
  • ম্যান্টল ও ম্যান্টল গহ্বর: আন্তরযন্ত্রীয় কুঁজের উপর চামড়ার একটি নরম ও স্পঞ্জি ভাঁজ থাকে যাকে ম্যান্টল (Mantle) বলে। কুঁজ ও ম্যান্টলের মধ্যবর্তী স্থানকে ম্যান্টল গহ্বর বলে, যেখানে পালকের মতো ফুলকা টিনিডিয়া (Ctenidia) থাকে যা শ্বসন ও রেচনে সাহায্য করে।
  • র‍্যাদুলা (Radula): মুখের মধ্যে খাদ্য চর্বন বা চেঁছে খাওয়ার জন্য তির্যক কাইটিনাস দাঁতযুক্ত করাতের মতো অঙ্গ র‍্যাদুলা থাকে।
  • উদাহরণ: Pila (আপেল শামুক), Pinctada (মুক্তা শুক্তি), Sepia (কাটলফিশ), Loligo (স্কুইড), Octopus (অক্টোপাস / ডেভিলফিশ), Aplysia (সমুদ্র খরগোশ), Dentalium (হাতির দাঁত শামুক)।
৩. পর্ব একাইনোডার্মাটা (কন্টকত্বকী প্রাণী / Spiny-Skinned)
  • বাসস্থান ও কঙ্কাল: সম্পূর্ণ সামুদ্রিক প্রাণী। ত্বক ক্যালকেরিয়াস অসিকল বা চুনময় কাঁটাযুক্ত অন্তঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত।
  • অনন্য প্রতিসাম্য রূপান্তর: মুক্ত সাঁতারু লার্ভা দশায় দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম হলেও পূর্ণাঙ্গ দশায় রূপান্তরিত হয়ে পঞ্চ-অরীয় প্রতিসাম্য (Pentamerous radial symmetry) লাভ করে। এতে মস্তক থাকে না।
  • জলসংবহনতন্ত্র (Ambulacral System): সিলোম থেকে উদ্ভূত হাইড্রলিক নালিতন্ত্র যাতে ম্যাড্রেপোরাইট, রিং ক্যানেল, রেডিয়াল ক্যানেল এবং শত শত সংকোচনশীল নালীপদ (Tube feet বা Podia) থাকে। এটি গমন, খাদ্য গ্রহণ ও শ্বসনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
  • রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত: কোনো বিশেষায়িত রেচন অঙ্গ থাকে না; নালীপদের পাতলা প্রাচীর দিয়ে অ্যামোনিয়া ব্যাপন প্রক্রিয়ায় নির্গত হয়।
  • উদাহরণ: Asterias (তারামাছ), Echinus (সমুদ্র আর্চিন), Antedon (সমুদ্র লিলি), Cucumaria (সমুদ্র শসা), Ophiura (ভঙ্গুর তারা)।
৪. পর্ব হেমিকর্ডাটা (Hemichordata)
  • শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান: পূর্বে কর্ডাটার উপপর্ব হিসেবে গণ্য হলেও বর্তমানে একে নন-কর্ডাটার একটি পৃথক পর্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। এরা কৃমি সদৃশ সামুদ্রিক প্রাণী।
  • দেহ বিভাজন: নলাকার দেহটি তিনটি অংশে বিভক্ত: অগ্রবর্তী পেশল শুঁড় বা প্রোবোসিস (Proboscis), ক্ষুদ্র কলার (Collar), এবং দীর্ঘ দেহকাণ্ড (Trunk)।
  • স্টোমোকর্ড (Stomochord): কলার অঞ্চলে অন্ননালীর ছাদ থেকে উৎপন্ন একটি ফাঁপা গঠন থাকে যাকে স্টোমোকর্ড বলে; এটি কিন্তু প্রকৃত নটোকর্ড নয়।
  • শ্বসন ও রেচন: বহুসংখ্যক গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্রের মাধ্যমে শ্বসন ঘটে। প্রোবোসিস অঞ্চলে অবস্থিত প্রোবোসিস গ্রন্থি (Glomerulus) দ্বারা রেচন সম্পন্ন হয়।
  • উদাহরণ: Balanoglossus এবং Saccoglossus।

কর্ডাটা পর্ব ও আদিম কর্ডাটা: কর্ডাটার ৪টি মূল বৈশিষ্ট্য, ইউরোকর্ডাটা ও সাইক্লোস্টোমাটা

পর্ব কর্ডাটা প্রাণী বিবর্তনের শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে। অন্তঃকঙ্কাল, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুতন্ত্র ও উন্নত রক্তসংবহন কর্ডাটাদের ক্ষিপ্র চলন ও পরিবেশগত আধিপত্যের চাবিকাঠি প্রদান করেছে।

১. কর্ডাটার চারটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য (Fundamental Chordate Hallmarks)
  1. পৃষ্ঠীয় নটোকর্ড (Notochord): ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন স্থিতিস্থাপক, কঠিন, দণ্ডাকার গঠন যা স্নায়ুরজ্জু ও পৌষ্টিকনালীর মাঝখানে পৃষ্ঠদেশে অবস্থান করে। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থিময় বা অস্থিময় মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।
  2. পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু (Dorsal Hollow Nerve Cord): নটোকর্ডের উপরে পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত এক্টোডার্মাল ফাঁপা স্নায়ুনালী। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এর অগ্রভাগ মস্তিষ্ক এবং পশ্চাৎভাগ সুষুম্নাকাণ্ড গঠন করে। (নন-কর্ডাটাতে স্নায়ুরজ্জু অঙ্কীয়, নিরেট ও জোড় প্রকৃতির)।
  3. গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র (Pharyngeal Gill Slits): গলবিলের পার্শ্বপ্রাচীরে অবস্থিত জোড় ছিদ্র যা গলবিলকে পরিবেশের সাথে যুক্ত করে। জলজ কর্ডাটায় এটি আজীবন শ্বসনে সাহায্য করে; স্তলজ মেরুদণ্ডীতে ভ্রূণাবস্থায় উপস্থিত থাকলেও পরে ইউস্টেশিয়ান নালী ও মধ্যকর্ণে রূপান্তরিত হয়।
  4. পায়ু-পশ্চাৎ পুচ্ছ (Post-anal Tail): পায়ুছিদ্রের পরবর্তী অংশে অবস্থিত লেজ যা পেশী ও কঙ্কাল উপাদানযুক্ত। এটি সন্তরণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। (নন-কর্ডাটায় পায়ু সর্বদা দেহের শেষ প্রান্তে থাকে)।
২. কর্ডাটার উপপর্বসমূহ (Subphyla of Chordata)
  • উপপর্ব ইউরোকর্ডাটা বা টিউনিকাটা (Urochordata): সম্পূর্ণ সামুদ্রিক; প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণী নিশ্চল এবং টিউনিসিন (সেলুলোজ সদৃশ) নির্মিত শক্ত আবরণে ঢাকা। নটোকর্ড কেবলমাত্র মুক্ত সাঁতারু লার্ভার লেজে থাকে এবং রূপান্তরের সময় অবলুপ্ত হয় (রেট্রোগ্রেসিভ মেটামরফোসিস)। উদাহরণ: Ascidia, Salpa, Doliolum।
  • উপপর্ব সেফালোকর্ডাটা (Cephalochordata): সামুদ্রিক, মাছের মতো প্রাণী। এদের নটোকর্ড মস্তক থেকে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং আজীবন স্থায়ী। উদাহরণ: Branchiostoma (অ্যাম্ফিঅক্সাস বা ল্যান্সলেট)।
  • [ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটাকে একত্রে প্রোটোকর্ডাটা (Protochordata) বা অ্যাক্রেনিয়া বলা হয়।]
  • উপপর্ব ভার্টিব্রাটা বা ক্রেনিয়াটা (Vertebrata): এদের মস্তিষ্কের সুরক্ষার জন্য করোটি (Cranium) থাকে। ভ্রূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থিময় বা অস্থিময় মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এদের ভেন্ট্রাল পেশল হৃৎপিণ্ড (২, ৩ বা ৪ প্রকোষ্ঠী) এবং রেচনের জন্য বৃক্ক থাকে। সুতরাং: 'সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডাটা, কিন্তু সকল কর্ডাটা মেরুদণ্ডী নয়'।
৩. চোয়ালবিহীন শ্রেণি: সাইক্লোস্টোমাটা (Class Cyclostomata)
  • গঠন ও স্বভাব: প্রকৃত মাছের বহিঃপরজীবী। চোয়ালবিহীন, গোলাকার চোষক মুখছিদ্র বিশিষ্ট ইল মাছের মতো লম্বাটে দেহ। দেহে যুগ্ম পাখনা ও আঁশ থাকে না।
  • শ্বসন ও সংবহন: শ্বসনের জন্য ৬ থেকে ১৫ জোড়া ফুলকাছিদ্র থাকে। করোটি ও মেরুদণ্ড তরুণাস্থিময়। সংবহনতন্ত্র বদ্ধ এবং হৃৎপিণ্ড ২-প্রকোষ্ঠী।
  • অ্যানাড্রোমাস পরিযান (Anadromous Migration): এরা সামুদ্রিক হলেও ডিম পাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে শত মাইল উজানে মিষ্টি জলের নদীতে পরিযান করে। ডিম পাড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক মাছ মারা যায়। এদের লার্ভা অ্যামোসিট (Ammocoetes) নদীতে রূপান্তরিত হয়ে পুনরায় সমুদ্রে ফিরে আসে।
  • উদাহরণ: Petromyzon (ল্যাম্প্রে), Myxine (হ্যাগফিশ)।

চোয়ালযুক্ত মেরুদণ্ডী ও টেট্রাপোডা: তরুণাস্থিযুক্ত ও অস্থিযুক্ত মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ী

চোয়ালযুক্ত মেরুদণ্ডী (Gnathostomata) দুটি প্রধান সুপারক্লাসে বিভক্ত: সুপারক্লাস পিসেস (পাখনাযুক্ত জলজ মৎস্য) এবং সুপারক্লাস টেট্রাপোডা (চারটি পদযুক্ত স্থলজ মেরুদণ্ডী)। জলে সন্তরণশীল মাছ থেকে উষ্ণরক্তী স্তন্যপায়ীর বিকাশ প্রাণীকূলের সর্বশ্রেষ্ঠ শারীরবৃত্তীয় সাফল্য।

১. সুপারক্লাস পিসেস: কনড্রিকথিস বনাম অস্টিকথিস
বৈশিষ্ট্যশ্রেণি কনড্রিকথিস (তরুণাস্থিময় মৎস্য)শ্রেণি অস্টিকথিস (অস্থিময় মৎস্য)
অন্তঃকঙ্কালসম্পূর্ণ তরুণাস্থিময়; নটোকর্ড আজীবন স্থায়ীসম্পূর্ণ অস্থিময় কঙ্কাল
মুখছিদ্রের অবস্থানদেহের অঙ্কদেশে অবস্থিতদেহের অগ্রপ্রান্তে অবস্থিত
ফুলকারন্ধ্র ও কানকো৫-৭ জোড়া পৃথক ফুলকারন্ধ্র; কানকো (Operculum) অনুপস্থিত৪ জোড়া ফুলকা যা অস্থিময় কানকো দ্বারা ঢাকা থাকে
আঁশের প্রকৃতিদাঁতের মতো আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড আঁশপাতলা, গোলাকার সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁশ
পটকা (Air bladder)অনুপস্থিত; ডুবে যাওয়া এড়াতে সর্বদা সাঁতার কাটতে হয়উপস্থিত; প্লবতা নিয়ন্ত্রণকারী হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ
নিষেক ও ক্লাস্পারঅভ্যন্তরীণ; পুরুষ মাছে পেলভিক পাখনায় ক্লাস্পার থাকে; জরায়ুজঅধিকাংশের বহিঃস্থ নিষেক; ক্লাস্পার অনুপস্থিত; অণ্ডজ
উদাহরণScoliodon (হাঙর), Pristis (করাত মাছ), Torpedo (তড়িৎ মাছ), TrygonLabeo rohita (রুই), Catla, Exocoetus (উড়ুক্কু মাছ), Hippocampus (সমুদ্র ঘোড়া)
২. শ্রেণি উভচর (Class Amphibia)
  • দ্বৈত জীবন: প্রথম চতুষ্পদী প্রাণী; জলে ও ডাঙ্গায় উভয় স্থানে বাস করতে পারে। দেহ মস্তক ও ধড়ে বিভক্ত (গ্রীবা অনুপস্থিত)।
  • ত্বক ও শ্বসন: ত্বক স্যাঁতসেঁতে, গ্রন্থিময় এবং আঁশবিহীন। শ্বসন ঘটে ফুসফুস (Pulmonary), আর্দ্র ত্বক (Cutaneous) এবং মুখবিবরীয় গলবিলের মাধ্যমে (লার্ভায় ফুলকা)।
  • সংবহন ও ক্লোয়েকা: হৃৎপিণ্ড ৩-প্রকোষ্ঠী (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়); শীতলরক্তী (Poikilothermous)। পৌষ্টিকনালী, রেচননালী ও জনননালী একটি সাধারণ প্রকোষ্ঠ ক্লোয়েকা (অবসারণী)-তে উন্মুক্ত হয়। বহিঃস্থ নিষেক; ব্যাঙাচি লার্ভার মাধ্যমে রূপান্তর ঘটে।
  • উদাহরণ: Bufo (কুনোব্যাঙ), Rana tigrina (সোনা ব্যাঙ), Hyla (গেছো ব্যাঙ), Salamandra, Ichthyophis (পদবিহীন উভচর)।
৩. শ্রেণি সরীসৃপ (Class Reptilia)
  • বুকে হেঁটে চলা প্রাণী: প্রধানত ডাঙ্গার প্রাণী; বুক ঘষে বা হামাগুড়ি দিয়ে চলে (ল্যাটিন Repere = বুকে হাঁটা)। ত্বক শুষ্ক ও শৃঙ্গায়িত এপিডার্মাল আঁশ বা স্কুট দ্বারা আবৃত।
  • হৃৎপিণ্ড: সাধারণত ৩-প্রকোষ্ঠী (নিলয় অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত), কিন্তু কুমিরের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪-প্রকোষ্ঠী। শীতলরক্তী।
  • ক্লিডোয়িক ডিম: প্রথম প্রকৃত অ্যামনিওট প্রাণী; স্থলেই পুরু ক্যালকেরিয়াস খোলকযুক্ত কুসুমসমৃদ্ধ ডিম (Cleidoic egg) পাড়ে। অভ্যন্তরীণ নিষেক।
  • উদাহরণ: Chelone (কচ্ছপ), Testudo, Chameleon, Calotes (গিরগিটি), Crocodilus (কুমির), Hemidactylus (টিকটিকি); বিষধর সাপ: Naja (কেউটে/গোখরো), Bangarus (কালাচ), Vipera (চন্দ্রবোড়া)।
৪. শ্রেণি পক্ষী (Class Aves)
  • উড্ডয়ন অভিযোজন: অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত; দেহ পালক দ্বারা আবৃত। চোয়াল দাঁতবিহীন শৃঙ্গায়িত চঞ্চুতে পরিণত।
  • নিউম্যাটিক অস্থি: দীর্ঘ অস্থিগুলি বায়ুপূর্ণ ও ফাঁপা (নিউম্যাটিক অস্থি), যা দেহের ওজন কমিয়ে উড়তে সাহায্য করে।
  • পরিপাক ও শ্বসন: পৌষ্টিকনালীতে খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য ক্রপ (Crop) এবং পেশল গিজার্ড (Gizzard) থাকে। ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত ৯টি বায়ুথলি (Air sacs) যুক্ত থাকে যা অবিচ্ছিন্ন একমুখী শ্বসন নিশ্চিত করে।
  • হৃৎপিণ্ড ও তাপমাত্রা: হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪-প্রকোষ্ঠী এবং ডান অ্যাওর্টিক আর্চ থাকে। এরা উষ্ণরক্তী বা এন্ডোথার্মিক (Homoiothermous)—দেহের তাপমাত্রা সর্বদা স্থির (~৪০-৪২° সে.) থাকে।
  • উদাহরণ: Corvus (কাক), Columba livia (পায়রা), Psittacula (টিয়া), Struthio (উটপাখি), Pavo cristatus (ময়ূর - ভারতের জাতীয় পাখি), Aptenodytes (পেঙ্গুইন)।
৫. শ্রেণি স্তন্যপায়ী (Class Mammalia)
  • অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
    • স্তনগ্রন্থি (Mammary Glands): প্রধান বৈশিষ্ট্য; স্ত্রী প্রাণীতে দুগ্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থাকে যা দিয়ে শাবককে পুষ্টি জোগায়।
    • লোমযুক্ত ত্বক: দেহ এপিডার্মাল রোম বা লোম দ্বারা আবৃত থাকে যা তাপ সংরক্ষণে সাহায্য করে। ত্বকে ঘর্মগ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি থাকে।
    • কর্ণছত্র (Pinna): বহিঃকর্ণে মাংসল কর্ণছত্র উপস্থিত।
    • হেটেরোডন্ট দন্তবিন্যাস: চোয়ালে চার প্রকার দাঁত (ইনসিসর, ক্যানাইন, প্রিমোলার, মোলার) চোয়ালের গর্তে প্রোথিত থাকে (থেকোডন্ট) এবং জীবনে দুবার গজায় (ডাইফায়োডন্ট)।
  • শারীরবৃত্ত: বক্ষ ও উদর গহ্বরের মাঝে পেশল মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম থাকে যা শ্বসনে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪-প্রকোষ্ঠী এবং বাম অ্যাওর্টিক আর্চ থাকে। পরিণত লোহিত রক্তকণিকা (RBC) গোল, দ্বি-অবতল এবং নিউক্লিয়াসবিহীন (ব্যতিক্রম: উট ও লামা)। উষ্ণরক্তী।
  • প্রসব ও জনন: একলিঙ্গ; অভ্যন্তরীণ নিষেক। অধিকাংশই জরায়ুজ (Viviparous) অর্থাৎ সরাসরি সন্তান প্রসব করে এবং প্লাসেন্টা থাকে। ব্যতিক্রম: আদিম স্তন্যপায়ী Ornithorhynchus (প্লাটিপাস) ডিম পাড়ে (অণ্ডজ স্তন্যপায়ী)।
  • উদাহরণ: অণ্ডজ: Ornithorhynchus (হাঁসচঞ্চু প্লাটিপাস); জরায়ুজ: Macropus (ক্যাঙ্গারু), Pteropus (বাদুড়), Camelus (উট), Macaca (বানর), Rattus (ইঁদুর), Canis (কুকুর), Felis (বিড়াল), Elephas (হাতি), Delphinus (ডলফিন), Balaenoptera (নীল তিমি), Panthera tigris (বাঘ - জাতীয় পশু)।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

অ্যাসিলোমেট (প্লাটিহেলমিনথিস) বনাম সিউডোসিলোমেট (অ্যাসকেলমিনথিস) বনাম ইউসিলোমেট (অ্যানেলিডা-কর্ডাটা)
দেহগহ্বর সনাক্তকরণ সূত্র: মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম অনুপস্থিত ও প্যারেনকাইমা পূর্ণ = অ্যাসিলোমেট। ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্ট বিক্ষিপ্ত মেসোডার্মাল থলি = সিউডোসিলোমেট। মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম দ্বারা উভয় দিকে সম্পূর্ণ আবৃত প্রকৃত গহ্বর = ইউসিলোমেট।
পূর্ণাঙ্গ পঞ্চ-অরীয় প্রতিসাম্য + লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য = পর্ব একাইনোডার্মাটা
প্রতিসাম্য রূপান্তর উপপাদ্য: লার্ভার দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রমাণ করে একাইনোডার্মারা বিবর্তনীয়ভাবে দ্বিপার্শ্বীয় ডিউটেরোস্টোমিয়া গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত; পূর্ণাঙ্গ তারামাছের অরীয় প্রতিসাম্য একটি দ্বিতীয় পর্যায়ের রূপান্তর।
অ্যাম্বুলাক্রাল জলসংবহন পথ: ম্যাড্রেপোরাইট → স্টোন ক্যানেল → রিং ক্যানেল → রেডিয়াল ক্যানেল → অ্যাম্পুলা → নালীপদ (Podia)
তারামাছের হাইড্রলিক চলন সমীকরণ: ম্যাড্রেপোরাইট দিয়ে প্রবেশ করা জল অ্যাম্পুলার সংকোচনের মাধ্যমে নালীপদে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে পাথরে সাকশন বা চোষণ বল তৈরি হয় এবং প্রাণীটি গমন সম্পন্ন করে।
কর্ডাটার ৪ মৌলিক স্তম্ভ: পৃষ্ঠীয় নটোকর্ড + ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু + গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র + পায়ু-পশ্চাৎ পুচ্ছ
কর্ডাটা সনাক্তকারী সমীকরণ: জীবনের যেকোনো দশায় এই চারটি অঙ্গের উপস্থিতি প্রাণীটিকে সমগ্র নন-কর্ডাটা অমেরুদণ্ডী গোষ্ঠী থেকে পৃথক করে কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত করে।
কনড্রিকথিস (প্ল্যাকয়েড আঁশ + অঙ্কীয় মুখ + কানকো নেই + পটকা নেই) বনাম অস্টিকথিস (সাইক্লয়েড আঁশ + অগ্র মুখ + কানকো আছে + পটকা আছে)
মৎস্য দ্বি-বিভাজন নীতি: তরুণাস্থিময় মাছে প্লবতা নিয়ন্ত্রক পটকা না থাকায় এদের ডুবে যাওয়া ঠেকাতে অবিরাম সাঁতার কাটতে হয়; অস্থিময় মাছ পটকার গ্যাসে স্থিরভাবে ভেসে থাকতে পারে।
হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ বিবর্তন: মৎস্য (২ প্রকোষ্ঠ, একক সংবহন) → উভচর/সরীসৃপ (৩ প্রকোষ্ঠ, অসম্পূর্ণ দ্বি-সংবহন) → পক্ষী/স্তন্যপায়ী (৪ প্রকোষ্ঠ, সম্পূর্ণ দ্বি-সংবহন)
উষ্ণরক্তী হওয়ার শারীরবৃত্তীয় নীতি: হৃৎপিণ্ডের ৪টি সম্পূর্ণ পৃথক প্রকোষ্ঠ বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্তকে মিশতে দেয় না, ফলে কলাকোশে সর্বাধিক মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছে উচ্চ বিপাকীয় তাপ ও এন্ডোথার্মি বজায় রাখে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
(ক) অ্যাসিলোমেট, সিউডোসিলোমেট এবং ইউসিলোমেটের তুলনামূলক পার্থক্য ছকের মাধ্যমে লেখো। (খ) মেটামেরিক খণ্ডীভবন কী এবং কোন কোন পর্বে এটি দেখা যায়? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) দেহগহ্বর বা সিলোমের তুলনামূলক পার্থক্য (মান ৩)
বৈশিষ্ট্যঅ্যাসিলোমেট (Acoelomate)সিউডোসিলোমেট (Pseudocoelomate)ইউসিলোমেট (Eucoelomate)
সংজ্ঞাদেহে কোনো গহ্বর নেই; দেহতৃক ও অন্ত্রের মাঝে কঠিন প্যারেনকাইমা কলা থাকে।দেহগহ্বর উপস্থিত কিন্তু তা মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম দ্বারা আবৃত নয়।মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রকৃত দেহগহ্বর।
ভ্রূণীয় উৎপত্তিভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল মেসোডার্মাল কোশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে ভরাট হয়ে যায়।ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল স্থায়ীভাবে দেহগহ্বররূপে থেকে যায়।মেসোডার্মের বিদারণ (Schizocoely) বা আন্ত্রিক থলি (Enterocoely) থেকে উৎপন্ন।
আন্তরযন্ত্রীয় সঞ্চালনকঠিন প্যারেনকাইমার কারণে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের স্বাধীন সঞ্চালন অসম্ভব।অঙ্গগুলি তরলপূর্ণ ছদ্ম-গহ্বরে শিথিলভাবে অবস্থান করে।অঙ্গগুলি মেসেন্টারি দ্বারা ঝুলন্ত থাকে এবং স্বাধীন পেরিস্টালসিস ঘটে।
উদাহরণপ্লাটিহেলমিনথিস (যেমন: ফিতাকৃমি, যকৃৎকৃমি)।অ্যাসকেলমিনথিস (যেমন: অ্যাসকারিস, ফাইলেরিয়া)।অ্যানেলিডা, আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, কর্ডাটা।
(খ) মেটামেরিক খণ্ডীভবন ও উদাহরণ (মান ২)

মেটামেরিক খণ্ডীভবন (Metamerism): যে দৈহিক গঠনে প্রাণীর দেহটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবেই সমরূপ খণ্ডে (Metameres) বিভক্ত থাকে এবং প্রতিটি খণ্ডে নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গের (যেমন: রক্তনালী, স্নায়ুগ্রন্থি, নেফ্রিডিয়া) পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে মেটামেরিজম বলে।

যেসব পর্বে দেখা যায়: মেটামেরিজম প্রাণীজগতের তিনটি প্রধান পর্বে দেখা যায়—

  1. অ্যানেলিডা: যেমন কেঁচো (Pheretima)—স্পষ্ট বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ খণ্ড বর্তমান।
  2. আর্থ্রোপোডা: যেমন আরশোলা, শতপদী—বাহ্যিক খণ্ডীভবন বিশিষ্ট।
  3. কর্ডাটা: যেমন মানুষ—অভ্যন্তরীণ খণ্ডীভবন (মেরুদণ্ডের কশেরুকা, পাঁজরা ও সুষুম্নীয় স্নায়ু)।
উদাহরণ 2
(ক) চিত্রসহ নিডোসাইট কোশের গঠন ও কার্যপদ্ধতি লেখো। (খ) ওবেলিয়ার মেটাজেনেসিস প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। [নম্বর বিভাজন: ২.৫ + ২.৫ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) নিডোসাইট কোশের গঠন ও কার্যপদ্ধতি (মান ২.৫)

নিডোসাইট (Cnidocyte): নিডারিয়া পর্বের কর্ষিকা ও এক্টোডার্মে অবস্থিত শিকার ও আত্মরক্ষার বিশেষায়িত কোশ।

  • গঠন: এর ভিতরে তরলপূর্ণ ক্যাপসুল থাকে যাকে নেমাটোসিস্ট বলে। এতে ফেনল ও প্রোটিন মিশ্রিত বিষাক্ত হিপনোটক্সিন তরল থাকে। ক্যাপসুলের ভিতর একটি প্যাঁচানো ফাঁপা সূত্রক থাকে যার গোড়ায় তীক্ষ্ণ কাঁটা (Barbs) থাকে। কোশের মুখে একটি ঢাকনা (Operculum) এবং বাইরে সংবেদী রোম নিডোসিল (Cnidocil) থাকে।
  • কার্যপদ্ধতি: শিকার বা শত্রু নিডোসিল স্পর্শ করলেই কোশের মধ্যে অভিস্রবণ চাপ বৃদ্ধি পায়। ঢাকনা খুলে যায় এবং প্যাঁচানো সূত্রকটি উল্টে গিয়ে প্রচণ্ড বেগে শিকারের দেহে বিঁধে যায় এবং হিপনোটক্সিন ক্ষরণ করে শিকারকে অবশ করে ফেলে। একবার ব্যবহৃত নিডোসাইট বিনষ্ট হয় এবং ইন্টারস্টিশিয়াল কোশ থেকে নতুন নিডোসাইট জন্মায়।
(খ) ওবেলিয়ার মেটাজেনেসিস (জনুক্রম) (মান ২.৫)

মেটাজেনেসিস: নিডারিয়া পর্বের কিছু সদস্যে (যেমন Obelia) স্থানু অযৌন পলিপ এবং মুক্ত সাঁতারু যৌন মেদুসা দশার মধ্যে যে পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে, তাকে মেটাজেনেসিস বলে।

  • পলিপ কলোনির ব্লাস্টোস্টাইল থেকে অযৌন মুকুলোদগম (Strobilation) প্রক্রিয়ায় ছাতার মতো মুক্ত মেদুসা উৎপন্ন হয়।
  • মেদুসাগুলি একলিঙ্গ; এরা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জলে মুক্ত করে এবং যৌন জননের মাধ্যমে জাইগোট গঠন করে।
  • জাইগোট থেকে রোমশ মুক্ত সাঁতারু প্ল্যানুলা লার্ভা (Planula larva) সৃষ্টি হয়, যা কোনো বস্তুতে আবদ্ধ হয়ে পুনরায় শাখা-প্রশাখাযুক্ত পলিপ কলোনি গঠন করে।
ওবেলিয়ার জনুক্রম: পলিপ (অযৌন, 2n) $\xrightarrow{\text{মুকুলোদগম}}$ মেদুসা (যৌন, 2n) $\xrightarrow{\text{গ্যামেট}}$ জাইগোট $\to$ প্ল্যানুলা লার্ভা $\to$ পলিপ কলোনি
উদাহরণ 3
(ক) প্রাণীজগতে পর্ব আর্থ্রোপোডার সর্বাধিক প্রজাতি বৈচিত্র্য ও সাফল্যের তিনটি কারণ লেখো। (খ) চিংড়ি, বিছে, আরশোলা ও রাজকাঁকড়ার শ্বসন অঙ্গের নাম উল্লেখ করো। [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) আর্থ্রোপোডার সাফল্যের কারণ (মান ৩)
  1. কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল: দেহ কাইটিন ও প্রোটিন মিশ্রিত জলনিরোধক শক্ত আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। এটি স্থলভাগে বাস করার সময় দেহ থেকে জল বাষ্পীভবন রোধ করে (Desiccation প্রতিরোধ) এবং শিকারী প্রাণীদের আক্রমণ থেকে অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে সুরক্ষা দেয়।
  2. সন্ধিল উপাঙ্গ ও মস্তকীভবন: সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গগুলি হাঁটা, সাঁতার কাটা, খাদ্য চর্বণ এবং স্পর্শ অনুভূতির জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। এদের বিভিন্ন দেহখণ্ড একত্রিত হয়ে মস্তক, বক্ষ ও উদর—এই তিন বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
  3. উচ্চ প্রজনন হার ও ইউরিকোটেলিক রেচন: বিপুল সংখ্যায় ডিম পাড়া, লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গের খাদ্যের পৃথকীকরণ (আন্তঃপ্রজাতি দ্বন্দ্ব হ্রাস) এবং জল সংরক্ষণে সক্ষম ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ স্থলভাগে এদের আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করেছে।
(খ) চার প্রকার সন্ধিপদীর শ্বসন অঙ্গ (মান ২)
প্রাণীশ্রেণিনির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ
চিংড়ি (Prawn)Crustaceaফুলকা (Gills বা Branchiae)
রাজকাঁকড়া (Limulus)Merostomataবুক গিল (Book Gills)
বিছে / মাকড়সা (Scorpion)Arachnidaবুক লাং (Book Lungs)
আরশোলা / পতঙ্গ (Insecta)Insectaশ্বাসনালী বা ট্র্যাকিয়াল তন্ত্র (Tracheal system)
উদাহরণ 4
(ক) একাইনোডার্মাটার জলসংবহনতন্ত্রের (Ambulacral system) পথটি ছকের সাহায্যে দেখাও এবং এর দুটি শারীরবৃত্তীয় কাজ লেখো। (খ) পরিফেরার জল সংবহন নালিতন্ত্রের সাথে একাইনোডার্মাটার জলসংবহনতন্ত্রের দুটি মূল পার্থক্য লেখো। [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) একাইনোডার্মাটার জলসংবহনতন্ত্রের পথ ও কাজ (মান ৩)

জলের প্রবাহ পথ: সমুদ্রের জল ছিদ্রযুক্ত চালুনি সদৃশ ম্যাড্রেপোরাইট (Madreporite) $\to$ স্টোন ক্যানেল $\to$ মুখের চারপাশের রিং ক্যানেল $\to$ পাঁচটি বাহুর মধ্যে প্রবেশকারী রেডিয়াল ক্যানেল $\to$ পার্শ্বীয় নালী $\to$ পেশীবহুল অ্যাম্পুলা $\to$ সাকারযুক্ত নালীপদ (Tube feet / Podia)।

দুটি শারীরবৃত্তীয় কাজ:

  1. গমন (Locomotion): অ্যাম্পুলার সংকোচনে নালীপদে জলপ্রবাহ তৈরি হয় এবং সাকারের সাহায্যে পাথরে আটকে প্রাণীটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
  2. খাদ্য গ্রহণ ও শ্বসন: নালীপদ দিয়ে শামুক বা ঝিনুকের খোলক বলপূর্বক টেনে খুলে ধরে এবং পাতলা নালীপদ দিয়ে গ্যাস বিনিময় সম্পন্ন হয়।
(খ) পরিফেরা বনাম একাইনোডার্মাটার নালিতন্ত্রের পার্থক্য (মান ২)
বৈশিষ্ট্যপরিফেরার নালিতন্ত্র (Water Canal)একাইনোডার্মাটার নালিতন্ত্র (Water Vascular)
উৎপত্তিগত প্রকৃতিদেহপ্রাচীর ভাঁজ হয়ে গঠিত; সিলোমীয় নয়।প্রকৃত সিলোম (এন্টেরোসিল) থেকে উদ্ভূত উন্নত হাইড্রলিক তন্ত্র।
আস্তরণকারী কোশফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোয়ানোসাইট কোশ দ্বারা আবৃত।সিলিয়াযুক্ত পেরিটোনিয়াল আবরণী দ্বারা আবৃত।
প্রবেশ ও নির্গমনহাজার হাজার অস্টিয়া দিয়ে প্রবেশ করে, অস্কুলাম দিয়ে বের হয়।একটিমাত্র ম্যাড্রেপোরাইট দিয়ে জল প্রবেশ ও বের হয়।
গমনে ভূমিকাগমনে কোনো ভূমিকা নেই (স্পঞ্জ নিশ্চল)।নালীপদের সাহায্যে গমনাঙ্গ হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ 5
(ক) তরুণাস্থিময় মাছ (Chondrichthyes) এবং অস্থিময় মাছের (Osteichthyes) মধ্যে পাঁচটি প্রধান পার্থক্য লেখো। (খ) ক্লাস্পার (Claspers) কী এবং এটি কোন মাছে পাওয়া যায়? [নম্বর বিভাজন: ৪ + ১ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) কনড্রিকথিস বনাম অস্টিকথিসের পার্থক্য (মান ৪)
বৈশিষ্ট্যকনড্রিকথিস (Chondrichthyes)অস্টিকথিস (Osteichthyes)
১. অন্তঃকঙ্কালসম্পূর্ণ তরুণাস্থিময়; নটোকর্ড আজীবন থাকে।সম্পূর্ণ অস্থিময়; কশেরুকা গঠিত হয়।
২. মুখছিদ্রদেহের অঙ্কদেশে অবস্থিত।দেহের অগ্রপ্রান্তে (Terminal) অবস্থিত।
৩. ফুলকারন্ধ্র ও কানকো৫-৭ জোড়া পৃথক ফুলকারন্ধ্র; কানকো নেই।৪ জোড়া ফুলকারন্ধ্র; কানকো (Operculum) দ্বারা ঢাকা।
৪. আঁশদাঁতের মতো ধারালো প্ল্যাকয়েড আঁশ।চ্যাপ্টা, গোলাকার সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁশ।
৫. পটকা (Air bladder)অনুপস্থিত; ভেসে থাকতে অবিরাম সাঁতার কাটতে হয়।উপস্থিত; প্লবতা রক্ষাকারী হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ।
৬. নিষেকঅভ্যন্তরীণ নিষেক; অধিকাংশ জরায়ুজ।অধিকাংশের বহিঃস্থ নিষেক; অণ্ডজ।
(খ) ক্লাস্পার (মান ১)

ক্লাস্পার (Clasper): পুরুষ তরুণাস্থিময় মাছের (যেমন পুরুষ হাঙর বা ডগফিশ) শ্রোণী পাখনার (Pelvic fin) ভিতরের প্রান্ত রূপান্তরিত হয়ে যে তরুণাস্থিময় খাঁজযুক্ত সঙ্গম অঙ্গ গঠন করে, তাকে ক্লাস্পার বলে। অভ্যন্তরীণ নিষেকের সময় এটি শুক্রাণু স্ত্রী মাছের অবসারনীতে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে।

উদাহরণ 6
(ক) মৎস্য থেকে স্তন্যপায়ী পর্যন্ত মেরুদণ্ডীদের হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যার ক্রমবিকাশ ও রক্ত পৃথকীকরণ ছকের মাধ্যমে দেখাও। (খ) পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীরা কীভাবে তাদের দেহের তাপমাত্রা স্থির (উষ্ণরক্তী) রাখতে পারে? [নম্বর বিভাজন: ৩ + ২ = ৫]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
(ক) মেরুদণ্ডী হৃৎপিণ্ডের বিবর্তন (মান ৩)
মেরুদণ্ডী শ্রেণিপ্রকোষ্ঠ সংখ্যাসংবহন প্রকৃতিরক্তের মিশ্রণ ও পৃথকীকরণ
মৎস্য (Pisces)২ প্রকোষ্ঠ (১টি অলিন্দ ও ১টি নিলয়)একক সংবহন (হৃৎপিণ্ড $\to$ ফুলকা $\to$ দেহ $\to$ হৃৎপিণ্ড)কোনো পৃথকীকরণ নেই; হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল দূষিত (ভেনাস) রক্ত প্রবাহিত হয়।
উভচর (Amphibia)৩ প্রকোষ্ঠ (২টি অলিন্দ ও ১টি নিলয়)অসম্পূর্ণ দ্বি-সংবহনআংশিক মিশ্রণ; একক নিলয়ে বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত কিছুটা মিশ্রিত হয়।
সরীসৃপ (Reptilia)৩ প্রকোষ্ঠ (নিলয় অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত; কুমিরে ৪ প্রকোষ্ঠ)অসম্পূর্ণ দ্বি-সংবহনঅসম্পূর্ণ মধ্য-নিলয় পর্দার কারণে মিশ্রণ কম; কুমিরে সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ।
পক্ষী ও স্তন্যপায়ী৪ প্রকোষ্ঠ (সম্পূর্ণ পৃথক ২টি অলিন্দ ও ২টি নিলয়)সম্পূর্ণ দ্বি-সংবহন (পালমোনারি ও সিস্টেমিক)সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ; বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত বিন্দুমাত্র মেশে না।
(খ) পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর উষ্ণরক্তী (Homoiothermic) প্রকৃতির শারীরবৃত্তীয় কারণ (মান ২)
  1. সম্পূর্ণ ৪-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড: বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত এবং দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত সম্পূর্ণ পৃথক নালীতে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিটি কলায় সর্বাধিক মাত্রায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায়।
  2. উচ্চ বিপাকীয় হার (High Metabolic Rate): কলাকোশে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে তীব্র গতিতে গ্লুকোজ ও ফ্যাটের মাইটোকন্ড্রিয়াল জারণ ঘটে, যার ফলে প্রচুর বিপাকীয় তাপ উৎপন্ন হয়।
  3. দেহের কুপরিবাহী আবরণ: পাখির পালক এবং স্তন্যপায়ীর লোম ও ত্বকের নিচের মেদস্তর (Subcutaneous fat / Blubber) বাইরের পরিবেশে তাপ অপচয় রোধ করে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্থির (~৩৭°-৪২° সে.) বজায় রাখে।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

তারামাছের প্রাপ্তবয়স্ক দশায় অরীয় প্রতিসাম্য দেখে একে নিডারিয়ার মতো আদিম অরীয় প্রাণী মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

একাইনোডার্মাটার মুক্ত সাঁতারু লার্ভা সম্পূর্ণ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং এরা ডিউটেরোস্টোমীয় ত্রিস্তরী প্রাণী। এরা পতঙ্গ বা শামুকের চেয়েও কর্ডাটা পর্বের বেশি নিকটবর্তী। পূর্ণাঙ্গ তারামাছের অরীয় প্রতিসাম্য একটি গৌণ রূপান্তর মাত্র।

সাধারণ ভুল ধারণা

সকল কর্ডাটা প্রাণীরই মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া আছে বলে বিশ্বাস করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

ইউরোকর্ডাটা (যেমন অ্যাসিডিয়া) এবং সেফালোকর্ডাটা (যেমন অ্যাম্ফিঅক্সাস)-র নটোকর্ড থাকে কিন্তু কোনো মেরুদণ্ড থাকে না। কেবল ভার্টিব্রাটা উপপর্বে নটোকর্ড মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। তাই মনে রাখতে হবে: 'সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডাটা, কিন্তু সকল কর্ডাটা মেরুদণ্ডী নয়'।

সাধারণ ভুল ধারণা

গোলকৃমিকে (অ্যাসকেলমিনথিস) চ্যাপ্টাকৃমির মতো অ্যাসিলোমেট মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চ্যাপ্টাকৃমির সিলোম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (অ্যাসিলোমেট)। গোলকৃমির দেহে ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্ট একটি স্পষ্ট দেহগহ্বর থাকে যাকে সিউডোসিলোম (ছদ্ম-সিলোম) বলা হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

সকল সরীসৃপের হৃৎপিণ্ডই ৩-প্রকোষ্ঠী বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

টিকটিকি, সাপ ও কচ্ছপের হৃৎপিণ্ড ৩-প্রকোষ্ঠী হলেও ব্যতিক্রমীভাবে কুমিরের (Crocodile, Alligator) হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪-প্রকোষ্ঠী (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।

সাধারণ ভুল ধারণা

সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীই সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে (জরায়ুজ) বলে ধরে নেওয়া।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

আদিম প্রোটোথেরিয়া উপশ্রেণির প্লাটিপাস (Ornithorhynchus) এবং একিডনা ডিম পাড়ে (অণ্ডজ স্তন্যপায়ী), কিন্তু শাবককে দুধ পান করানোর জন্য স্তনগ্রন্থি থাকায় এরা স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

AK প্রাণী রাজ্য: শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি ও প্রধান পর্বসমূহ ডব্লিউবিসিএইচএসই একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যা — একক ১: জীবজগতের বৈচিত্র্য (অধ্যায় ৪) ১. শ্রেণিবিন্যাসের মূল ভিত্তি (Basis of Classification) • দেহসংগঠন স্তর: কোশীয় (Porifera) → কলা (Cnidaria) → অঙ্গ (Platyhelminthes) → অঙ্গতন্ত্র • প্রতিসাম্য: অপ্রতিসম (স্পঞ্জ) | অরীয় (নিডারিয়া, টেনোফোরা, একাইনোডার্মাটা পূর্ণাঙ্গ) | দ্বিপার্শ্বীয় • সিলোম: অ্যাসিলোমেট (চ্যাপ্টাকৃমি) | সিউডোসিলোমেট (গোলকৃমি) | সিলোমেট (অ্যানেলিডা-কর্ডাটা) ২. নন-কর্ডাটা পর্বসমূহের বিশেষত্ব (Non-Chordata Phyla) • Porifera & Cnidaria: কোয়ানোসাইট (কলার কোশ) ও নিডোসাইট (দংশক কোশ; পলিপ ও মেদুসা) • Helminthes: শিখাকোশ (Flame cells in Platyhelminthes) | সিউডোসিলোম ও যৌন দ্বিরূপতা (Aschelminthes) • Annelida & Arthropoda: মেটামেরিজম ও নেফ্রিডিয়া | বৃহত্তম পর্ব, সন্ধিপদ, কাইটিনাস কিউটিকল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা • Mollusca & Echinodermata: ম্যান্টল ও র‍্যাদুলা (Radula) | জল সংবহনতন্ত্র (Ambulacral), কন্টকত্বকী দেহ ৩. কর্ডাটা পর্ব ও মেরুদণ্ডী শ্রেণিবিভাগ (Chordata & Vertebrata) • কর্ডাটার ৪ বৈশিষ্ট্য: পৃষ্ঠীয় ফাঁপা নার্ভকর্ড, নটোকর্ড, গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র, পায়ু-পশ্চাৎ পুচ্ছ • প্রোটোকর্ডাটা: ইউরোকর্ডাটা (লার্ভার পুচ্ছে নটোকর্ড) | সেফালোকর্ডাটা (আজীবন শীর্ষ থেকে পুচ্ছ নটোকর্ড) • মেরুদণ্ডী (Vertebrata): তরুণাস্থিযুক্ত/অস্থিযুক্ত মৎস্য (প্ল্যাকয়েড/সাইক্লয়েড আঁশ) → উভচর → সরীসৃপ → পক্ষী → স্তন্যপায়ী WBCHSE • প্রাণীজগৎ

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের মূল ভিত্তি হলো সংগঠন স্তর (কোশীয়, কলা, অঙ্গ, অঙ্গতন্ত্র), প্রতিসাম্য (অপ্রতিসম, অরীয়, দ্বিপার্শ্বীয়), ভ্রূণস্তর (দ্বিস্তরী ও ত্রিস্তরী), এবং সিলোমের প্রকৃতি (অ্যাসিলোমেট, সিউডোসিলোমেট, ইউসিলোমেট)।
মূল বিষয় 2
পরিফেরা (স্পঞ্জ) হলো কোশীয় স্তরের অপ্রতিসম প্রাণী; এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য অস্টিয়া, অস্কুলাম ও কোয়ানোসাইট (কলার কোশ) সমন্বিত জল সংবহন নালিতন্ত্র।
মূল বিষয় 3
নিডারিয়া পর্বে নিডোসাইট (দংশক কোশ), পলিপ ও মেদুসা দশার রূপভেদ এবং ওবেলিয়ায় মেটাজেনেসিস (জনুক্রম) দেখা যায়।
মূল বিষয় 4
টেনোফোরা হলো সম্পূর্ণ সামুদ্রিক, জীবদ্যুতি প্রদর্শনকারী এবং গমনাঙ্গের জন্য ৮টি সিলিয়াযুক্ত কম্ব প্লেট বিশিষ্ট প্রাণী।
মূল বিষয় 5
প্লাটিহেলমিনথিস হলো পৃষ্ঠ-অঙ্কীয়ভাবে চ্যাপ্টা, ত্রিস্তরী ও অ্যাসিলোমেট প্রাণী, যাদের রেচন ও অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ ঘটে শিখাকোশের (Flame cells) মাধ্যমে।
মূল বিষয় 6
অ্যাসকেলমিনথিস (গোলকৃমি) অঙ্গতন্ত্র স্তরবিশিষ্ট এবং ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্ট ছদ্ম-সিলোম (Pseudocoelom) ধারণ করে।
মূল বিষয় 7
অ্যানেলিডার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃত মেটামেরিক খণ্ডীভবন, বদ্ধ সংবহনতন্ত্র এবং রেচনের জন্য মেটানেফ্রিডিয়া।
মূল বিষয় 8
আর্থ্রোপোডা হলো প্রাণীজগতের বৃহত্তম পর্ব (>৮০% প্রজাতি); বৈশিষ্ট্য হলো সন্ধিল উপাঙ্গ, কাইটিনাস বহিঃকঙ্কাল, হিমোসিল ও ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
মূল বিষয় 9
মোলাস্কা হলো কোমলদেহী প্রাণী, যাদের দেহ মস্তক, পেশল পদ ও আন্তরযন্ত্রীয় কুঁজে বিভক্ত এবং ম্যান্টল ও খাদ্য চর্বণে র‍্যাদুলা থাকে।
মূল বিষয় 10
একাইনোডার্মাটার লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রাণী পঞ্চ-অরীয় প্রতিসম; এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য নালীপদযুক্ত জলসংবহনতন্ত্র (Ambulacral system)।
মূল বিষয় 11
কর্ডাটার ৪টি মূল বৈশিষ্ট্য: পৃষ্ঠীয় নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা নার্ভকর্ড, গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র এবং পায়ু-পশ্চাৎ পুচ্ছ।
মূল বিষয় 12
কনড্রিকথিস হলো তরুণাস্থিময় মাছ (প্ল্যাকয়েড আঁশ, পটকা অনুপস্থিত); অস্টিকথিস হলো অস্থিময় মাছ (সাইক্লয়েড/টিনয়েড আঁশ, কানকো ও পটকা উপস্থিত)।
মূল বিষয় 13
চতুষ্পদী মেরুদণ্ডীদের মধ্যে উভচর (৩-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড, ত্বকীয় শ্বসন), সরীসৃপ (শুষ্ক আঁশযুক্ত ত্বক, ৩-প্রকোষ্ঠী তবে কুমিরে ৪-প্রকোষ্ঠী), পক্ষী (বায়ুপূর্ণ অস্থি, পালক, উষ্ণরক্তী, ৪-প্রকোষ্ঠী) এবং স্তন্যপায়ী (স্তনগ্রন্থি, লোমযুক্ত ত্বক, ৪-প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড ও জরায়ুজ প্রসব)।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
গোলকৃমির (অ্যাসকেলমিনথিস) দেহগহ্বরকে প্রকৃত সিলোম না বলে 'সিউডোসিলোম' বা ছদ্ম-সিলোম বলা হয় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রকৃত সিলোম বা ইউসিলোম মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা দেহতৃক ও অন্ত্র উভয় দিকেই আবৃত থাকে। গোলকৃমির দেহগহ্বরটি ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে উদ্ভূত এবং এর মেসোডার্ম কেবল দেহতৃকের নিচে বিক্ষিপ্ত থলি হিসেবে থাকে, অন্ত্রকে পরিবেষ্টন করে কোনো মেসোডার্মীয় পেরিটোনিয়াম পর্দা থাকে না। এই অসম্পূর্ণ আবরণের জন্য একে 'ছদ্ম-সিলোম' (Pseudocoelom) বলে।
2
'সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডাটা, কিন্তু সকল কর্ডাটা মেরুদণ্ডী নয়'—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উপপর্ব ভার্টিব্রাটা (মেরুদণ্ডী)-র সকল সদস্যের ভ্রূণাবস্থায় কর্ডাটার মৌলিক বৈশিষ্ট্য (নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় স্নায়ুরজ্জু, ফুলকারন্ধ্র) থাকে, যা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়; তাই সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রোটোকর্ডাটার অন্তর্ভুক্ত ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটায় নটোকর্ড থাকলেও তা কখনোই অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয় না এবং করোটিও গঠিত হয় না। মেরুদণ্ডবিহীন এই কর্ডাটাদের উপস্থিতির কারণেই সকল কর্ডাটা মেরুদণ্ডী নয়।
3
রেট্রোগ্রেসিভ মেটামরফোসিস (পশ্চাদমুখী রূপান্তর) কী এবং এটি কোন উপপর্বে দেখা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: রেট্রোগ্রেসিভ মেটামরফোসিস হলো এমন এক বিবর্তনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া যেখানে উন্নত ও সক্রিয় বৈশিষ্ট্যযুক্ত লার্ভা রূপান্তরিত হয়ে তুলনামূলক সরল ও অঙ্গহীন স্থানু পূর্ণাঙ্গে পরিণত হয়। এটি উপপর্ব ইউরোকর্ডাটাতে (যেমন: অ্যাসিডিয়া) দেখা যায়। এদের মুক্ত সাঁতারু লার্ভার লেজে নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় স্নায়ুরজ্জু ও সংবেদী অঙ্গ থাকে, কিন্তু রূপান্তরের পর লেজ, নটোকর্ড ও স্নায়ুরজ্জু খসে পড়ে এবং প্রাণীটি নিশ্চল বস্তা সদৃশ টিউনিকে আবৃত পূর্ণাঙ্গে পরিণত হয়।
4
উভচর প্রাণীরা সরীসৃপ বা পক্ষীর মতো ডাঙ্গায় শুকনো মাটিতে ডিম পাড়তে পারে না কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: উভচরদের ডিমে কোনো জলনিরোধক ক্যালকেরিয়াস খোলক (ক্লিডোয়িক খোলক) থাকে না এবং ভ্রূণকে জলীয় সুরক্ষা দেওয়ার মতো অতিরিক্ত ভ্রূণীয় পর্দা (অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন) অনুপস্থিত। বাতাস ও রোদে এদের ডিম দ্রুত শুকিয়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া উভচরদের পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) লেজযুক্ত সচল কোশ হওয়ায় বহিঃস্থ নিষেকের জন্য তরল জলের মাধ্যম অপরিহার্য। তাই উভচররা প্রজননের জন্য সম্পূর্ণভাবে জলের উপর নির্ভরশীল।
5
আর্থ্রোপোডার জীবন্ত জীবাশ্মটির নাম লেখো এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর অবদান কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: আর্থ্রোপোডার জীবন্ত জীবাশ্ম হলো লিমুলাস (Limulus) বা রাজকাঁকড়া (King Crab / Horseshoe Crab), যা প্রায় ৪০ কোটি বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর তামাযুক্ত নীল রক্তের অ্যামিবোসাইট কোশ থেকে 'লিমুলাস অ্যামিবোসাইট লাইসেট' (LAL) প্রস্তুত করা হয়। মানুষের শরীরে প্রয়োগযোগ্য যেকোনো ইনজেকশন, ড্রিপ, স্যালাইন ও ভ্যাকসিন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত এন্ডোটক্সিন মুক্ত কিনা তা দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা করার জন্য LAL বিশ্বজুড়ে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

প্রাণী রাজ্য অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।