মানব পৌষ্টিকতন্ত্র মূলত প্রায় ৮ থেকে ৯ মিটার দীর্ঘ একটি অবিচ্ছিন্ন পৌষ্টিকনালী (Alimentary canal) এবং এর সাথে যুক্ত কতগুলি সহযোগী পরিপাক গ্রন্থি (Digestive glands) নিয়ে গঠিত। মুখছিদ্র থেকে পায়ুছিদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত পৌষ্টিকনালীর প্রাচীরকে প্রস্থচ্ছেদে পর্যবেক্ষণ করলে গ্রাসনালীর মধ্যভাগ থেকে মলাশয় পর্যন্ত চারটি সুনির্দিষ্ট সংকেন্দ্রী কলাস্তর পরিলক্ষিত হয়।
| কলাস্তর (বাহির থেকে ভেতরে) | কলাস্থানিক উপাদান ও গঠন | বিশেষ অভিযোজন ও শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব |
|---|---|---|
| ১. সেরোসা (Serosa) | সর্ববহিঃস্থ প্রতিরক্ষামূলক স্তর। এটি পাতলা একস্তরীয় আঁইশাকার মেসোথেলিয়াম (ভিসারাল পেরিটোনিয়াম) এবং নিচে কিছুটা শিথিল যোগকলা নিয়ে গঠিত। | পৌষ্টিকনালীর ক্রমসংকোচনের সময় ঘর্ষণজনিত আঘাত প্রতিহত করে। গ্রাসনালীতে সেরোসার পরিবর্তে তন্তুময় 'অ্যাডভেনটিশিয়া' থাকে। |
| ২. পেশী স্তর (Muscularis) | অনৈতিক মসৃণ পেশীতন্তু দ্বারা গঠিত। এটি বাইরে অনুদৈর্ঘ্য পেশীস্তর এবং ভেতরে বৃত্তাকার পেশীস্তরে বিন্যস্ত। (পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ তির্যক পেশীস্তর থাকে)। | দুই পেশীস্তরের মাঝখানে আউয়ারবাখ প্লেক্সাস (Auerbach's / Myenteric plexus) অবস্থিত, যা স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুর মাধ্যমে নালীর ক্রমসংকোচন (Peristalsis) নিয়ন্ত্রণ করে। |
| ৩. সাবমিউকোসা (Submucosa) | রক্তজালক, লসিকাবাহ ও স্নায়ুতন্তু সমৃদ্ধ শিথিল অ্যারিওলার যোগকলা স্তর। | এ স্তরে মেসনার প্লেক্সাস (Meissner's plexus) থাকে যা মিউকোসার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডিওডিনামের সাবমিউকোসায় ব্রুনার গ্রন্থি (Brunner's glands) থাকে যা ক্ষারীয় শ্লেষ্মা ক্ষরণ করে অম্ল কাইমকে প্রশমিত করে। |
| ৪. মিউকোসা (Mucosa) | সর্বভেতরের স্তর, যা লুমেন সংলগ্ন। এটি তিনটি উপস্তরে গঠিত: (a) স্তম্ভাকার আবরণীকলা, (b) ল্যামিনা প্রোপ্রিয়া এবং (c) মাসকিউলারিস মিউকোসি। | পাকস্থলীতে ভাঁজ হয়ে রুগী (Rugae) এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে আঙুলের মতো প্রবর্ধক ভিলাই (Villi) গঠন করে (শোষণ তল প্রায় ৬০০ গুণ বৃদ্ধি পায়)। এতে শ্লেষ্মা ক্ষরণকারী গবলেট কোষ, জীবাণুনাশক প্যানেথ কোষ এবং লাইবারকুনের খাঁজ থাকে। |
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাসের আণুবীক্ষণিক গঠন
প্রতিটি ভিলাস (দৈর্ঘ্য ০.৫–১ মিমি) একস্তরীয় স্তম্ভাকার কোষ বা এন্টারোসাইট দ্বারা আবৃত, যার মুক্ত প্রান্তে প্রায় ৩০০০টি মাইক্রোভিলাই বা ব্রাশ বর্ডার থাকে। প্রতিটি ভিলাসের কেন্দ্রে একটি প্রশস্ত কেন্দ্রীয় লসিকানালী থাকে যাকে ল্যাকটিয়েল (Lacteal) বলে, যা রক্তজালক দ্বারা পরিবেষ্টিত। দুটি ভিলাসের মধ্যবর্তী খাঁজকে লাইবারকুনের খাঁজ (Crypts of Lieberkühn) বলে। এই খাঁজের গভীরে অবস্থিত জিংক-সমৃদ্ধ প্যানেথ কোষ (Paneth cells) জীবাণুনাশক লাইসোজাইম ও ডিফেনসিন ক্ষরণ করে ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস করে।