Follow Us
মাধ্যম নির্বাচন করুন / Select Medium:
Eng (English) Beng (বাংলা) Hindi (हिन्दी)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) • শ্রেণি XI • Biology • অধ্যায় 14
আনুমানিক সময়: ৪৫ মিনিট
অগ্রগতি: অধ্যয়নে সক্রিয়

পরিপাক ও শোষণ

পরিপাক ও শোষণ হলো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যার মানব শারীরবিদ্যা এককের ভিত্তিপ্রস্তর অধ্যায়। এই অধ্যায়ে পৌষ্টিকনালীর ৪টি সংকেন্দ্রী কলাস্তর, মানুষের দন্তবিন্যাস সংকেত, যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের নালীতন্ত্র, ডিওডিনামে এন্টেরোকাইনেজ ক্যাসকেড, শর্করা-প্রোটিন-লিপিডের রাসায়নিক পরিপাক, মাইসেলি থেকে কাইলোমাইক্রন হয়ে ল্যাকটিয়েলে ফ্যাট শোষণ, পরিপাকের হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি রোগসমূহ (কোয়াশিওরকর বনাম ম্যারাসমাস) বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

অধ্যায়টির গুরুত্ব

পরিপাক ও শোষণ প্রক্রিয়া বোঝা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি বহিঃস্থ খাদ্য উপাদানকে ভেঙে কোষের ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের মূল ভিত্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞান, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, পুষ্টিবিজ্ঞান এবং বিপাকীয় রোগব্যাধি নিরাময়ে এই শারীরবৃত্তীয় জ্ঞান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অধ্যায়ের বিষয়সূচি ও রূপরেখা

1 মডিউল ১: পৌষ্টিকনালীর স্থূল শারীরস্...
2 মডিউল ২: মানুষের দন্তবিন্যাস, মৌখিক...
3 মডিউল ৩: প্রধান সহযোগী পরিপাক গ্রন্...
4 মডিউল ৪: পরিপাকের জৈব-রাসায়নিক বিক...
5 মডিউল ৫: শোষণ শারীরবিদ্যা ও পরিবহন...
6 মডিউল ৬: গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরম...

সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও ধারণাগত আলোচনা

মডিউল ১: পৌষ্টিকনালীর স্থূল শারীরস্থান ও আণুবীক্ষণিক কলাস্থান

মানব পৌষ্টিকতন্ত্র মূলত প্রায় ৮ থেকে ৯ মিটার দীর্ঘ একটি অবিচ্ছিন্ন পৌষ্টিকনালী (Alimentary canal) এবং এর সাথে যুক্ত কতগুলি সহযোগী পরিপাক গ্রন্থি (Digestive glands) নিয়ে গঠিত। মুখছিদ্র থেকে পায়ুছিদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত পৌষ্টিকনালীর প্রাচীরকে প্রস্থচ্ছেদে পর্যবেক্ষণ করলে গ্রাসনালীর মধ্যভাগ থেকে মলাশয় পর্যন্ত চারটি সুনির্দিষ্ট সংকেন্দ্রী কলাস্তর পরিলক্ষিত হয়।

কলাস্তর (বাহির থেকে ভেতরে) কলাস্থানিক উপাদান ও গঠন বিশেষ অভিযোজন ও শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব
১. সেরোসা (Serosa) সর্ববহিঃস্থ প্রতিরক্ষামূলক স্তর। এটি পাতলা একস্তরীয় আঁইশাকার মেসোথেলিয়াম (ভিসারাল পেরিটোনিয়াম) এবং নিচে কিছুটা শিথিল যোগকলা নিয়ে গঠিত। পৌষ্টিকনালীর ক্রমসংকোচনের সময় ঘর্ষণজনিত আঘাত প্রতিহত করে। গ্রাসনালীতে সেরোসার পরিবর্তে তন্তুময় 'অ্যাডভেনটিশিয়া' থাকে।
২. পেশী স্তর (Muscularis) অনৈতিক মসৃণ পেশীতন্তু দ্বারা গঠিত। এটি বাইরে অনুদৈর্ঘ্য পেশীস্তর এবং ভেতরে বৃত্তাকার পেশীস্তরে বিন্যস্ত। (পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ তির্যক পেশীস্তর থাকে)। দুই পেশীস্তরের মাঝখানে আউয়ারবাখ প্লেক্সাস (Auerbach's / Myenteric plexus) অবস্থিত, যা স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুর মাধ্যমে নালীর ক্রমসংকোচন (Peristalsis) নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. সাবমিউকোসা (Submucosa) রক্তজালক, লসিকাবাহ ও স্নায়ুতন্তু সমৃদ্ধ শিথিল অ্যারিওলার যোগকলা স্তর। এ স্তরে মেসনার প্লেক্সাস (Meissner's plexus) থাকে যা মিউকোসার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডিওডিনামের সাবমিউকোসায় ব্রুনার গ্রন্থি (Brunner's glands) থাকে যা ক্ষারীয় শ্লেষ্মা ক্ষরণ করে অম্ল কাইমকে প্রশমিত করে।
৪. মিউকোসা (Mucosa) সর্বভেতরের স্তর, যা লুমেন সংলগ্ন। এটি তিনটি উপস্তরে গঠিত: (a) স্তম্ভাকার আবরণীকলা, (b) ল্যামিনা প্রোপ্রিয়া এবং (c) মাসকিউলারিস মিউকোসি। পাকস্থলীতে ভাঁজ হয়ে রুগী (Rugae) এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে আঙুলের মতো প্রবর্ধক ভিলাই (Villi) গঠন করে (শোষণ তল প্রায় ৬০০ গুণ বৃদ্ধি পায়)। এতে শ্লেষ্মা ক্ষরণকারী গবলেট কোষ, জীবাণুনাশক প্যানেথ কোষ এবং লাইবারকুনের খাঁজ থাকে।

ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাসের আণুবীক্ষণিক গঠন

প্রতিটি ভিলাস (দৈর্ঘ্য ০.৫–১ মিমি) একস্তরীয় স্তম্ভাকার কোষ বা এন্টারোসাইট দ্বারা আবৃত, যার মুক্ত প্রান্তে প্রায় ৩০০০টি মাইক্রোভিলাই বা ব্রাশ বর্ডার থাকে। প্রতিটি ভিলাসের কেন্দ্রে একটি প্রশস্ত কেন্দ্রীয় লসিকানালী থাকে যাকে ল্যাকটিয়েল (Lacteal) বলে, যা রক্তজালক দ্বারা পরিবেষ্টিত। দুটি ভিলাসের মধ্যবর্তী খাঁজকে লাইবারকুনের খাঁজ (Crypts of Lieberkühn) বলে। এই খাঁজের গভীরে অবস্থিত জিংক-সমৃদ্ধ প্যানেথ কোষ (Paneth cells) জীবাণুনাশক লাইসোজাইম ও ডিফেনসিন ক্ষরণ করে ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস করে।

মডিউল ২: মানুষের দন্তবিন্যাস, মৌখিক শারীরস্থান ও লালাগ্রন্থি

মুখবিবরে খাদ্যের যান্ত্রিক চর্বণ এবং প্রাথমিক উৎসেচকীয় ভাঙন সম্পন্ন হয়। স্তন্যপায়ী হিসেবে মানুষের দন্তবিন্যাসে তিনটি সুস্পষ্ট শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়: থিকোডন্ট, ডাইফিওডন্ট এবং হেটেরোডন্ট।

১. থিকোডন্ট (Thecodont)

প্রতিটি দাঁত চোয়ালের অস্থির (ম্যাক্সিলা ও ম্যান্ডিবল) গভীর অস্থিগর্তে বা অ্যালভিওলাসে পেরিওডন্টাল লিগামেন্টের সাহায্যে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত থাকে।

২. ডাইফিওডন্ট (Diphyodont)

সমগ্র জীবনকালে ক্রমান্বয়ে দুই সেট দাঁত জন্মায়: শৈশবে অস্থায়ী বা দুধে দাঁত (Deciduous - ২০টি) এবং পরবর্তীকালে স্থায়ী দাঁত (Permanent - ৩২টি)।

৩. হেটেরোডন্ট (Heterodont)

দাঁতগুলি ভিন্ন গঠন ও কাজের জন্য ৪ প্রকারে বিভক্ত: কৃন্তন (I - ছেদন), ছেদক (C - বিদীর্ণকরণ), পুরোপেষক (PM - চূর্ণন), ও পেষক (M - পেষণ)।

অবস্থা দন্ত সংকেত (উর্ধ্ব চোয়ালের অর্ধেক / নিম্ন চোয়ালের অর্ধেক) মোট সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ $\frac{2.1.2.3}{2.1.2.3} \times 2$ ৩২টি দাঁত ৮টি কৃন্তন, ৪টি ছেদক, ৮টি পুরোপেষক এবং ১২টি পেষক (৪টি আক্কেল দাঁত সহ) উপস্থিত।
শিশু (দুধে দাঁত) $\frac{2.1.0.2}{2.1.0.2} \times 2$ ২০টি দাঁত শিশুর দাঁতে পুরোপেষক (Premolar) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত; তৃতীয় পেষকও জন্মায় না। মানুষের ১২টি দাঁত মনোফিওডন্ট (৮টি PM + ৪টি M3)।

দাঁতের কলাস্থানিক গঠন ও মানবদেহের কঠিনতম পদার্থ

দাঁতের প্রধান তিনটি অংশ: ক্রাউন বা চূড়া, গ্রীবা ও মূল। ক্রাউনের বহির্ভাগে অবস্থিত এনামেল (Enamel) মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন নির্জীব পদার্থ (৯৬% অজৈব হাইড্রোক্সিঅ্যাপাটাইট স্ফটিক), যা ভ্রূণীয় এক্টোডার্মের অ্যামেলোব্লাস্ট কোষ দ্বারা ক্ষরিত হয়। এনামেলের নিচে থাকে মেসোডার্মাল ওডোন্টোব্লাস্ট কোষ নিঃসৃত সজীব ডেন্টিন (Dentin), যা কেন্দ্রস্থ স্নায়ু ও রক্তনালী সমৃদ্ধ মজ্জা গহ্বরকে (Pulp cavity) ঘিরে রাখে।

তিন জোড়া লালাগ্রন্থি ও লালারসের উপাদান

  • প্যারোটিড গ্রন্থি: বৃহত্তম জোড়া, কানের নিচে ও চোয়ালের পাশে অবস্থিত। এর ক্ষরণ স্টেনসেনের নালী (Stensen's duct) দিয়ে দ্বিতীয় উর্ধ্ব পেষক দাঁতের বিপরীতে উন্মুক্ত হয়। (মাম্পস ভাইরাসের সংক্রমণে প্যারোটিড ফুলে ওঠে)।
  • সাবম্যান্ডিবুলার / সাবম্যাক্সিলারি গ্রন্থি: নিম্ন চোয়ালের কোণে অবস্থিত। এর ক্ষরণ দীর্ঘতম নালী—হোয়ার্টনের নালী (Wharton's duct) দিয়ে জিহ্বার ফ্রেনুলামের পাশে খোলে।
  • সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি: ক্ষুদ্রতম জোড়া, জিহ্বার তলদেশে অবস্থিত। এর ক্ষরণ একাধিক ক্ষুদ্র রিভিনাসের নালী (Ducts of Rivinus / Bartholin's duct) দিয়ে উন্মুক্ত হয়।
  • লালারসের উপাদান: প্রতিদিন ১–১.৫ লিটার লালারস নিঃসৃত হয় ($\text{pH } 6.8$)। এতে ৯৯.৫% জল ছাড়াও ইলেকট্রোলাইট ($\text{Na}^+, \text{K}^+, \text{Cl}^-, \text{HCO}_3^-$), লালা অ্যামাইলেজ (টায়ালিন, $\text{Cl}^-$ দ্বারা সক্রিয়), জীবাণুনাশক লাইসোজাইম, অ্যান্টিবডি ($\text{IgA}$) ও মিউসিন থাকে।

মডিউল ৩: প্রধান সহযোগী পরিপাক গ্রন্থি: যকৃৎ, পিত্তাশয় ও অগ্ন্যাশয়

সহযোগী পরিপাক গ্রন্থিগুলি সরাসরি খাদ্য পরিবহন করে না, তবে খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় বাফার, সারফ্যাক্ট্যান্ট এবং শক্তিশালী উৎসেচক ডিওডিনামে সরবরাহ করে রাসায়নিক পরিপাক পরিচালনা করে।

১. যকৃৎ (Liver) ও পিত্তাশয়

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ (ওজন ১.২ থেকে ১.৫ কেজি)। এটি মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে উদর গহ্বরের ডান উপরিভাগে অবস্থিত এবং ফ্যালসিফর্ম লিগামেন্ট দ্বারা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত।

  • গঠনগত ও কার্যগত একক: বহুভুজাকার হেপাটিক লোবিউল, যা কেন্দ্রস্থ শিরার চারদিকে কর্ড আকারে সজ্জিত হেপাটোসাইট দ্বারা গঠিত। প্রতিটি লোবিউল একটি পাতলা যোগকলার আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে যাকে গ্লিসনস ক্যাপসুল (Glisson's capsule) বলে।
  • সাইনোসয়েড ও কুফার কোষ: যকৃৎ কোষ-কর্ডগুলির মাঝে অবস্থিত রক্তবাহী সাইনোসয়েডে ফ্যাগোসাইটিক কুফার কোষ (Kupffer cells) থাকে, যা রক্ত থেকে জীবাণু ও বিনষ্ট লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
  • পিত্ত নিঃসরণ ও জমা: যকৃৎ কোষ দিনে ৫০০–১০০০ মিলি পিত্তরস ($\text{pH } 7.6-8.6$) তৈরি করে, যা পিত্তাশয়ে (Gallbladder) জমা থাকে এবং প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত ঘনীভূত হয়।
  • অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পিত্তরসে কোনো প্রকার পাচক উৎসেচক থাকে না। এতে পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট, সোডিয়াম টরোকোলেট), পিত্তরঞ্জক (বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন), কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড (লেসিথিন) থাকে। এর প্রধান কাজ হলো চর্বির অবদ্রবণ বা ইমালসিফিকেশন এবং পাচক পরিবেশ ক্ষারীয় করা।

যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের নালী তন্ত্র (Duct System)

পরীক্ষায় এই নালী সংযোগের ক্রমান্বয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  1. ডান ও বাম হেপাটিক নালী যুক্ত হয়ে তৈরি করে $\to$ সাধারণ হেপাটিক নালী (Common Hepatic Duct)।
  2. সাধারণ হেপাটিক নালী ও পিত্তাশয়ের সিস্টিক নালী (Cystic Duct) মিলিত হয়ে তৈরি করে $\to$ সাধারণ পিত্তনালী (Common Bile Duct / Ductus Choledochus)।
  3. সাধারণ পিত্তনালী অগ্ন্যাশয়ের প্রধান নালীর (উইরসাং-এর নালী / Duct of Wirsung) সাথে মিলিত হয়ে তৈরি করে $\to$ হেপাটোপ্যানক্রিয়াটিক নালী বা অ্যাম্পুলা অফ ভ্যাটার (Ampulla of Vater)।
  4. এই নালীটি C-আকৃতির ডিওডিনামে উন্মুক্ত হয় এবং এর মুখটি মসৃণ পেশীর বলয় ওডির স্ফিংক্টার (Sphincter of Oddi) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

২. অগ্ন্যাশয় (Pancreas - মিশ্র গ্রন্থি)

ডিওডিনামের দুই বাহুর ফাঁকে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় একটি দ্বৈত কার্যকারী মিশ্র বা হেটেরোক্রাইন গ্রন্থি:

  • বহিঃক্ষরা অংশ (৯৯% অংশ): অ্যাসিনাস গুচ্ছ দ্বারা গঠিত, যা দিনে ১–১.৫ লিটার ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয় রস ($\text{pH } 7.8-8.2$, প্রচুর $\text{HCO}_3^-$ যুক্ত) ক্ষরণ করে। এতে নিষ্ক্রিয় প্রোএনজাইম (ট্রিপসিনোজেন, কাইমোট্রিপসিনোজেন, প্রোক্সি) এবং সক্রিয় উৎসেচক (অগ্ন্যাশয় অ্যামাইলেজ বা অ্যামাইলোপসিন, অগ্ন্যাশয় লাইপেজ বা স্টিয়াপসিন, নিউক্লিয়েজ) থাকে।
  • অন্তঃক্ষরা অংশ (১% অংশ): ছড়ানো আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) দ্বারা গঠিত, যাতে $\alpha$-কোষ (গ্লুকাগন), $\beta$-কোষ (ইনসুলিন), এবং $\delta$-কোষ (সোমাটোস্ট্যাটিন) থাকে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

মডিউল ৪: পরিপাকের জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া ও উৎসেচক ক্যাসকেড

পরিপাক হলো একটি জটিল যান্ত্রিক ও জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জটিল ও অপসরণীয় খাদ্য উপাদানগুলি বিভিন্ন আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচকের (হাইড্রোলেজ) উপস্থিতিতে ভেঙে ক্ষুদ্র, জলে দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য মনোমারে পরিণত হয়।

পর্যায় ১: মুখবিবরে পরিপাক (Oral Digestion)

চর্বণের ফলে খাদ্য লালারসের সাথে মিশে নরম বোলাস (Bolus) গঠন করে। লালা অ্যামাইলেজ (টায়ালিন) অম্লত্ব-ক্ষারত্বের $\text{pH } 6.8$ মাত্রায় শ্বেতসার পরিপাক শুরু করে:

$$\text{শ্বেতসার (Starch)} + n\text{H}_2\text{O} \xrightarrow[\text{pH } 6.8, \text{Cl}^-]{\text{টায়ালিন}} \text{মলটোজ} + \text{আইসোমলটোজ} + \alpha\text{-সীমিত ডেক্সট্রিন}$$

খাদ্যের মোট শ্বেতসারের প্রায় ৩০% মুখবিবরে আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়। মুখে প্রোটিন বা ফ্যাটের কোনো পরিপাক হয় না। বোলাস গ্রাসনালীর পেরিস্টালসিসের মাধ্যমে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে।

পর্যায় ২: পাকস্থলীতে পরিপাক (Gastric Digestion)

খাদ্য পাকস্থলীতে ৪–৫ ঘণ্টা থাকে এবং তীব্র অম্লীয় গ্যাস্ট্রিক রসের ($\text{pH } 1.5 - 2.5$) সাথে মিশে আধা-তরল মণ্ডে বা কাইমে (Chyme) পরিণত হয়। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিতে ৩ প্রকার প্রধান কোষ থাকে:

  • মিউকাস গ্রীবা কোষ: ক্ষারীয় শ্লেষ্মা ক্ষরণ করে পাকস্থলীর প্রাচীরকে $\text{HCl}$-এর ক্ষয়কারী ক্রিয়া থেকে বাঁচায়।
  • পেপটিক বা চিফ কোষ: নিষ্ক্রিয় প্রোএনজাইম পেপসিনোজেন এবং প্রোরেনিন ক্ষরণ করে।
  • অক্সিন্টিক বা প্যারাইটাল কোষ: তীব্র $\text{HCl}$ এবং ক্যাসলের ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর (যা ইলিয়ামে ভিটামিন $\text{B}_{12}$ শোষণে অপরিহার্য) ক্ষরণ করে।
$$\text{পেপসিনোজেন (নিষ্ক্রিয়)} \xrightarrow{\text{HCl / পেপসিন (স্ব-অনুঘটন)}} \text{পেপসিন (সক্রিয়)}$$
$$\text{প্রোটিন} \xrightarrow[\text{pH } 1.8]{\text{পেপসিন}} \text{প্রোটিওজ} + \text{পেপটন} + \text{লার্জ পলিপেপটাইড}$$
$$\text{প্রোরেনিন} \xrightarrow{\text{HCl}} \text{রেনিন}; \quad \text{দুগ্ধ প্রোটিন কেসিন} + \text{Ca}^{2+} \xrightarrow{\text{রেনিন}} \text{ক্যালসিয়াম প্যারাকেসিনেট (ছানা)} \xrightarrow{\text{পেপসিন}} \text{পেপটন}$$

রেনিন শিশুদের পাকস্থলীতে দুধকে জমিয়ে ছানায় পরিণত করে যাতে পেপসিন সহজে পরিপাক করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের পাকস্থলীতে রেনিন থাকে না।

পর্যায় ৩: ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক (অগ্ন্যাশয় রস ও পিত্তের ক্রিয়া)

অম্ল কাইম ডিওডিনামে এলে অগ্ন্যাশয় রস ও পিত্ত নিঃসৃত হয়। এই পর্যায়ের প্রধান সূচনা ঘটায় আন্ত্রিক ব্রাশ-বর্ডার উৎসেচক এন্টেরোকাইনেজ (Enterokinase):

$$\text{ট্রিপসিনোজেন} \xrightarrow{\text{এন্টেরোকাইনেজ}} \text{ট্রিপসিন (সক্রিয়)}$$
$$\text{কাইমোট্রিপসিনোজেন, প্রোক্সি} \xrightarrow{\text{ট্রিপসিন}} \text{কাইমোট্রিপসিন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ}$$
$$\text{প্রোটিন, পেপটন, প্রোটিওজ} \xrightarrow[\text{কার্বক্সিপেপটাইডেজ}]{\text{ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন}} \text{ডাইপেপটাইড}$$
$$\text{অবশিষ্ট শ্বেতসার (৭০\%)} \xrightarrow[\text{pH } 7.8-8.2]{\text{অ্যামাইলোপসিন}} \text{মলটোজ} + \text{আইসোমলটোজ}$$
$$\text{অবদ্রবীভূত ফ্যাট} \xrightarrow{\text{অগ্ন্যাশয় লাইপেজ (স্টিয়াপসিন)}} \text{ডাইগ্লিসারাইড} \to \text{মনোগ্লিসারাইড} + \text{ফ্যাটি অ্যাসিড}$$
$$\text{DNA / RNA} \xrightarrow{\text{অগ্ন্যাশয় নিউক্লিয়েজ (DNase, RNase)}} \text{নিউক্লিওটাইড}$$
পর্যায় ৪: আন্ত্রিক রসে (Succus Entericus) অন্তিম পরিপাক

লাইবারকুনের খাঁজ নিঃসৃত আন্ত্রিক রস ব্রাশ বর্ডারে উপস্থিত উৎসেচকের মাধ্যমে পরিপাক সম্পূর্ণ করে:

$$\text{ডাইপেপটাইড} \xrightarrow{\text{ডাইপেপটাইডেজ}} ২\text{টি অ্যামিনো অ্যাসিড}$$
$$\text{মলটোজ} \xrightarrow{\text{মলটেজ}} ২\text{টি গ্লুকোজ}$$
$$\text{ল্যাকটোজ} \xrightarrow{\text{ল্যাকটেজ}} \text{গ্লুকোজ} + \text{গ্যালাকটোজ}$$
$$\text{সুক্রোজ} \xrightarrow{\text{সুক্রেজ}} \text{গ্লুকোজ} + \text{ফ্রুকটোজ}$$
$$\text{নিউক্লিওটাইড} \xrightarrow{\text{নিউক্লিওটাইডেজ}} \text{নিউক্লিওসাইড} + \text{P}_i$$
$$\text{নিউক্লিওসাইড} \xrightarrow{\text{নিউক্লিওসাইডেজ}} \text{ক্ষারক} + \text{পেন্টোজ শর্করা}$$

ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পূর্ণ পরিপাককৃত ক্ষারীয় দুধের মতো সাদা তরলকে কাইল (Chyle) বলে।

মডিউল ৫: শোষণ শারীরবিদ্যা ও পরিবহন কৌশল

শোষণ হলো পরিপাকনালীর লুমেন থেকে পরিপাকলব্ধ সরল পরিপোষক উপাদানগুলির মিউকোসার আবরণী ভেদ করে রক্ত সংবহন বা লসিকা সংবহনে প্রবেশের জৈব-ভৌত প্রক্রিয়া। বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের গঠন ও দ্রাব্যতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল কার্যকর হয়।

পরিবহন কৌশল শক্তি ব্যয় ও প্রক্রিয়া শোষিত খাদ্য উপাদান
১. সরল ব্যাপন (Simple Diffusion) উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে নিষ্ক্রিয় পরিবহন; কোনো বাহক বা সরাসরি শক্তির প্রয়োজন নেই। অল্প পরিমাণ গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, জল এবং ক্লোরাইড আয়ন ($\text{Cl}^-$)।
২. সহায়ক পরিবহন (Facilitated Transport) মেমব্রেন বাহক প্রোটিনের মাধ্যমে ঘনত্বের অনুকূলে নিষ্ক্রিয় পরিবহন; ATP প্রয়োজন হয় না। ফ্রুকটোজ (Fructose) এবং কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড (GLUT-5 বাহক দ্বারা)।
৩. সক্রিয় পরিবহন (Active Transport) ঘনত্ব নতিমাত্রার বিপরীতে শক্তি (ATP) ব্যয় করে সোডিয়াম পাম্পের মাধ্যমে সহ-পরিবহন (Symport)। গ্লুকোজ, গ্যালাকটোজ (SGLT-1 দ্বারা), অধিকাংশ এল-অ্যামিনো অ্যাসিড এবং $\text{Na}^+$ আয়ন।

ফ্যাট বা লিপিড শোষণের ৫টি সুনির্দিষ্ট ধাপ

ফ্যাটি অ্যাসিড ও মনোগ্লিসারাইড জলে অদ্রবণীয় হওয়ায় সরাসরি রক্তজালকে প্রবেশ করতে পারে না। এদের শোষণের বিশেষ গতিপথ:

  1. মাইসেলি গঠন (Micelle Formation): অন্ত্রের গহ্বরে অদ্রবণীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ও মনোগ্লিসারাইড পিত্তলবণ ও লেসিথিনের সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষুদ্র গোলাকার কণিকা মাইসেলি (ব্যাস ৪–৭ ন্যানোমিটার) গঠন করে। এতে বাইরের তল জলগ্রাহী হওয়ায় এটি জলীয় মাধ্যমে ভাসতে পারে।
  2. আবরণী কোষে প্রবেশ: মাইসেলি আন্ত্রিক এন্টারোসাইটের ব্রাশ বর্ডারে পৌঁছালে লিপিড অংশটি সরল ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষপর্দা অতিক্রম করে কোষে প্রবেশ করে (পিত্তলবণগুলি অন্তরেই থাকে এবং পরে ইলিয়ামে পুনঃশোষিত হয়)।
  3. পুনঃসংশ্লেষ: এন্টারোসাইটের মসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (SER)-তে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল পুনরায় মিলিত হয়ে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি করে।
  4. কাইলোমাইক্রন সমাবেশ: গলগি বডিতে ট্রাইগ্লিসারাইডের চারপাশে ফসফোলিপিড, কোলেস্টেরল ও বিশেষ প্রোটিন আবরণ (ApoB-48) যুক্ত হয়ে জলে দ্রবণীয় লিপোপ্রোটিন কণা কাইলোমাইক্রন (Chylomicron) তৈরি হয় (ব্যাস ১০০–৫০০ ন্যানোমিটার)।
  5. ল্যাকটিয়েলে প্রবেশ: কাইলোমাইক্রন এক্সোসাইটোসিস দ্বারা কোষ থেকে নির্গত হয়। রক্তজালকের ছিদ্র ছোট হওয়ায় এটি রক্তে ঢুকতে পারে না; বরং ভিলাসের কেন্দ্রীয় প্রশস্ত লসিকানালী ল্যাকটিয়েলে (Lacteal) প্রবেশ করে। ল্যাকটিয়েল থেকে বক্ষীয় নালী (Thoracic duct) হয়ে বাম সাবক্ল্যাভিয়ান শিরার মাধ্যমে এটি রক্তস্রোতে মেশে।

পৌষ্টিকনালীর বিভিন্ন অংশে শোষিত পদার্থ

  • মুখবিবর: জিহ্বার নিচে রাখা নির্দিষ্ট কিছু লিপিড-দ্রবণীয় ওষুধ (যেমন সাবলিঙ্গুয়াল নাইট্রোগ্লিসারিন) সরাসরি রক্তজালকে শোষিত হয়।
  • পাকস্থলী: জল, সাধারণ শর্করা, অ্যালকোহল এবং অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ দ্রুত শোষিত হয়।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র: পুষ্টি উপাদান শোষণের প্রধান অঙ্গ (৯০% শোষণ এখানেই ঘটে)। ডিওডিনাম ও জেজুনামে গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ফ্যাট শোষিত হয়; টার্মিনাল ইলিয়ামে ভিটামিন $\text{B}_{12}$ ও পিত্তলবণ শোষিত হয়।
  • বৃহদন্ত্র: অতিরিক্ত জল, খনিজ লবণ এবং অন্ত্রের মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া উৎপাদিত ভিটামিন K ও $\text{B}_{12}$ শোষিত হয়; অপাচ্য অংশ মল হিসেবে মলাশয়ে জমা থাকে।

মডিউল ৬: গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরমোন, শক্তিমান ও পৌষ্টিক ব্যাধি

পৌষ্টিকনালীর কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্র ছাড়াও মিউকোসায় অবস্থিত এন্টেরোএন্ডোক্রাইন কোষ থেকে নিঃসৃত পেপটাইড হরমোন দ্বারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।

হরমোন ক্ষরণকারী কোষ ও স্থান উদ্দীপক কারণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকারিতা
গ্যাস্ট্রিন (Gastrin) পাকস্থলীর পাইলোরিক অংশের G-কোষ পাকস্থলীর প্রসারণ, পেপটাইড খাদ্য ও ভেগাস স্নায়ুর উদ্দীপনা প্যারাইটাল কোষ থেকে $\text{HCl}$ এবং চিফ কোষ থেকে পেপসিনোজেন ক্ষরণ বাড়ায়; পাকস্থলীর সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
সিক্রেটিন (Secretin) ডিওডিনাম মিউকোসার S-কোষ অম্ল কাইমের ($\text{pH} < 4.5$) ডিওডিনামে প্রবেশ অগ্ন্যাশয়নালী কোষ থেকে প্রচুর জল ও বাইকার্বোনেট ($\text{HCO}_3^-$) ক্ষরণ ঘটায় যাতে অ্যাসিড প্রশমিত হয়; পাকস্থলীর ক্ষরণ কমায়। (আবিষ্কৃত প্রথম হরমোন, ১৯০২)।
কোলেসিস্টোকাইনিন (CCK-PZ) ডিওডিনাম ও জেজুনামের I-কোষ কাইমে ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি পিত্তাশয়কে সংকুচিত করে পিত্ত নিঃসরণ ঘটায়, অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসিনাস থেকে উৎসেচক ক্ষরণ করায় এবং ওডির স্ফিংক্টার শিথিল করে।
গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড (GIP) ক্ষুদ্রান্ত্রের K-কোষ ডিওডিনামে গ্লুকোজ ও ফ্যাটের আধিক্য পাকস্থলীর ক্ষরণ ও চলন বন্ধ করে (এন্টেরোগ্যাস্ট্রোন ক্রিয়া) এবং অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ উদ্দীপিত করে।

খাদ্যের ক্যালোরি মান (স্থূল মান বনাম শারীরবৃত্তীয় মান)

  • স্থূল ক্যালোরি মান (Gross Calorific Value - বম্ব ক্যালোরিমিটারে দহন): কার্বোহাইড্রেট = ৪.১ kcal/g; প্রোটিন = ৫.৬৫ kcal/g; ফ্যাট = ৯.৪৫ kcal/g।
  • শারীরবৃত্তীয় ক্যালোরি মান (Physiological Value - মানবদেহের প্রকৃত তাপন মূল্য): কার্বোহাইড্রেট = ৪.০ kcal/g; প্রোটিন = ৪.০ kcal/g; ফ্যাট = ৯.০ kcal/g।
  • কারণ: প্রোটিনের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে ইউরিয়া তৈরি হয় এবং রেচনের মাধ্যমে শক্তি নির্গত হওয়ায় প্রোটিনের শারীরবৃত্তীয় মান স্থূল মানের চেয়ে কম হয়।

প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি (PEM): কোয়াশিওরকর বনাম ম্যারাসমাস

পার্থক্য নির্দেশক বিষয় কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) ম্যারাসমাস (Marasmus)
১. পুষ্টিগত কারণ কেবলমাত্র তীব্র প্রোটিনের ঘাটতি; খাদ্যে ক্যালোরির ঘাটতি থাকে না বললেই চলে। একই সাথে প্রোটিন এবং মোট ক্যালোরি উভয়েরই চরম ঘাটতি।
২. আক্রান্তের বয়স ১ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশু (পরবর্তী সন্তানের জন্মের পর মাতৃস্তন্য থেকে বঞ্চিত শিশু)। ১ বছরের কম বয়সের দুগ্ধপোষ্য শিশু (মাতৃদুগ্ধের অকাল অবসান ও পুষ্টিহীন খাদ্যের কারণে)।
৩. শোথ বা ইডিমা (Edema) শোথ বা ফোলা উপস্থিত থাকে (রক্তে অ্যালবুমিনের অভাবে কলাতলে জল জমে পা ও মুখ ফুলে যায়)। শোথ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (দেহ কঙ্কালসার ও জলশূন্য হয়)।
৪. ত্বকের নিচের চর্বি ত্বকের নিচে চর্বির স্তর বজায় থাকে। ত্বকের নিচের চর্বি সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষিত ও বিনষ্ট হয়।
৫. দৈহিক বাহ্যিক লক্ষণ স্ফীত পেট বা 'পট বেলি' (যকৃতে চর্বি জমা ও উদরী), চুলের রং লালচে হয়ে যাওয়া ('ফ্ল্যাগ সাইন'), ত্বক আঁশের মতো খসে পড়া। চরম শীর্ণতা, বুকের পাঁজর সুস্পষ্ট দৃশ্যমান, চামড়া কুঁচকানো ও পাতলা, মুখমণ্ডল "বৃদ্ধ মানুষের মতো" শুকনো দেখায়।

পৌষ্টিকতন্ত্রের সাধারণ রোগসমূহ

  • জন্ডিস: যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পিত্তনালী অবরুদ্ধ হলে রক্তে পিত্তরঞ্জক বিলিরুবিন জমা হয়ে চোখ ও ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
  • বমন (Vomiting): পাকস্থলীর খাদ্য মুখ দিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাইরে নির্গত হওয়া; এটি মেডালা অবলংগাটার বমন কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • ডায়রিয়া: অস্বাভাবিক ঘন ঘন পাতলা মলত্যাগ; এর ফলে পুষ্টি ও জল শোষণ ব্যাহত হয়ে মারাত্মক জলশূন্যতা দেখা দেয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: মল মলাশয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, যা খাদ্যে পর্যাপ্ত তন্তুর (রাফেজ) অভাবে ঘটে।
  • বদহজম (Indigestion): অপর্যাপ্ত উৎসেচক ক্ষরণ, অতিভোজন, মানসিক উদ্বেগ বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাদ্যের কারণে খাদ্য ঠিকমতো না হজম হওয়া।

গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক তত্ত্ব, পথ ও সংজ্ঞাসমূহ

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্থায়ী দন্ত সংকেত
৩২টি দাঁত (৮টি কৃন্তন, ৪টি ছেদক, ৮টি পুরোপেষক, ১২টি পেষক)
উর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়ালের প্রতিটি অর্ধাংশে উপস্থিত দাঁতের প্রকার ও সংখ্যা নির্দেশক সংকেত।
শিশুর দুধের দাঁতের সংকেত (Deciduous Formula)
২০টি দাঁত (৮টি কৃন্তন, ৪টি ছেদক, ০ পুরোপেষক, ৮টি পেষক)
শিশুর প্রাথমিক দাঁতে পুরোপেষক (Premolar) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে। মানুষের ১২টি দাঁত জীবনে একবারই জন্মায়।
লালা অ্যামাইলেজ দ্বারা শ্বেতসার পরিপাক সমীকরণ
মুখবিবরে মোট ভুক্ত শ্বেতসারের প্রায় ৩০% আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়
লালারসের টায়ালিন শ্বেতসারের আলফা-১,৪ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন ভেঙে ডাইস্যাকারাইডে পরিণত করে।
পাকস্থলীতে দুধের কেসিন জমাট বাঁধা (রেনিনের ক্রিয়া)
তরল দুধকে অদ্রবণীয় ছানায় পরিণত করে পেপসিনের পরিপাক ত্বরান্বিত করে
শিশুর পাকস্থলীতে রেনিন দুগ্ধ প্রোটিনকে জমিয়ে রাখে যাতে তা সহজে নির্গত না হয়ে উপযুক্ত পরিপাক পায়।
খাদ্য উপাদানের শারীরবৃত্তীয় তাপন মান
কার্বোহাইড্রেট: ৪ kcal/g | প্রোটিন: ৪ kcal/g | ফ্যাট: ৯ kcal/g
দেহের ভেতরে খাদ্য উপাদানের বিপাকীয় জারণে উৎপন্ন কার্যকর শক্তির পরিমাণ।
ডিওডিনামে এন্টেরোকাইনেজ ক্যাসকেড সক্রিয়করণ
অগ্ন্যাশয়ের প্রোএনজাইম সক্রিয় করার কেন্দ্রীয় সুইচ
ডিওডিনামের এন্টেরোকাইনেজ অগ্ন্যাশয় রসে উপস্থিত নিষ্ক্রিয় প্রোটিয়েজগুলিকে সক্রিয় করে আত্ম-পরিপাক রোধ করে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ও প্রয়োগ (Solved Examples)

উদাহরণ 1
মানব পৌষ্টিকনালীর প্রাচীরের চারটি সংকেন্দ্রী স্তরের আণুবীক্ষণিক গঠন বর্ণনা করো। ব্রুনার গ্রন্থি ও প্যানেথ কোষের কাজ কী? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রথম অংশ: পৌষ্টিকনালীর চারটি সংকেন্দ্রী স্তর (৩ নম্বর):
গ্রাসনালী থেকে মলাশয় পর্যন্ত পৌষ্টিক প্রাচীর ৪টি স্তরে বিন্যস্ত:
১. সেরোসা (Serosa): সর্ববহিঃস্থ স্তর, যা পাতলা আঁইশাকার মেসোথেলিয়াম (ভিসারাল পেরিটোনিয়াম) এবং নিচে কিছুটা শিথিল যোগকলা নিয়ে গঠিত। এটি অঙ্গসমূহের ঘর্ষণ কমায়।
২. পেশী স্তর (Muscularis): অনৈচ্ছিক মসৃণ পেশী দ্বারা গঠিত। বাইরে অনুদৈর্ঘ্য ও ভেতরে বৃত্তাকার পেশীস্তর থাকে। এদের মাঝে আউয়ারবাখ প্লেক্সাস থাকে যা পেরিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. সাবমিউকোসা (Submucosa): রক্তজালক, লসিকাবাহ ও স্নায়ুযুক্ত শিথিল যোগকলা স্তর। এতে মেসনার প্লেক্সাস থাকে যা মিউকোসার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. মিউকোসা (Mucosa): সর্বভেতরের স্তর যা লুমেনের দিকে থাকে। ক্ষুদ্রান্ত্রে এটি লক্ষ লক্ষ আঙুলের মতো প্রবর্ধক বা ভিলাই (Villi) তৈরি করে যা শোষণ তল প্রায় ৬০০ গুণ বৃদ্ধি করে। এতে গবলেট কোষ ও লাইবারকুনের খাঁজ থাকে।

দ্বিতীয় অংশ: ব্রুনার গ্রন্থি ও প্যানেথ কোষের কাজ (২ নম্বর):
• ব্রুনার গ্রন্থি (Brunner's Glands): এটি কেবল ডিওডিনামের সাবমিউকোসায় থাকে। এটি প্রচুর ক্ষারীয় শ্লেষ্মা ও বাইকার্বোনেট ($\text{HCO}_3^-$) ক্ষরণ করে পাকস্থলীর অম্ল কাইমকে প্রশমিত করে এবং ডিওডিনাম প্রাচীরকে ক্ষতের হাত থেকে রক্ষা করে।
• প্যানেথ কোষ (Paneth Cells): ক্ষুদ্রান্ত্রের লাইবারকুনের খাঁজের গভীরে অবস্থিত। এরা জীবাণুনাশক এনজাইম লাইসোজাইম ও ডিফেনসিন ক্ষরণ করে অন্ত্রের ক্ষতিকর রোগজীবাণু ধ্বংস করে।
উদাহরণ 2
মানুষের দন্তবিন্যাসের ক্ষেত্রে থিকোডন্ট, ডাইফিওডন্ট ও হেটেরোডন্ট বলতে কী বোঝায়? একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ বছরের শিশুর দন্ত সংকেত লেখো। [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রথম অংশ: মানব দন্তবিন্যাসের বৈশিষ্ট্য (৩ নম্বর):
১. থিকোডন্ট (Thecodont): চোয়ালের অস্থির (ম্যাক্সিলা ও ম্যান্ডিবল) গভীর গর্তে বা অ্যালভিওলাসে প্রতিটি দাঁত পেরিওডন্টাল লিগামেন্টের সাহায্যে প্রোথিত থাকাকে থিকোডন্ট বলে।
২. ডাইফিওডন্ট (Diphyodont): সমগ্র জীবনকালে দুই সেট দাঁত বেরোনোকে ডাইফিওডন্ট বলে। শৈশবে ২০টি ক্ষণস্থায়ী 'দুধে দাঁত' (Deciduous teeth) বেরোয় এবং পরে তা পড়ে গিয়ে ৩২টি 'স্থায়ী দাঁত' (Permanent teeth) গজায়।
৩. হেটেরোডন্ট (Heterodont): চোয়ালে ভিন্ন ভিন্ন গঠন ও কাজের চার প্রকার দাঁত থাকাকে হেটেরোডন্ট বলে: কৃন্তন (Incisor - কাটা), ছেদক (Canine - ছেঁড়া), পুরোপেষক (Premolar - চূর্ণ করা) ও পেষক (Molar - পেষণ করা)।

দ্বিতীয় অংশ: দন্ত সংকেত (২ নম্বর):
উর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়ালের প্রতিটি অর্ধেকের দাঁতের অনুপাত:
• প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দন্ত সংকেত: $\frac{2.1.2.3}{2.1.2.3} \times 2 = 32\text{ টি দাঁত}$
• ৫ বছরের শিশুর দন্ত সংকেত: $\frac{2.1.0.2}{2.1.0.2} \times 2 = 20\text{ টি দাঁত}$
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিশুর দুধে দাঁতে পুরোপেষক দাঁত সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ($\text{PM} = 0$) এবং তৃতীয় পেষক (আক্কেল দাঁত) জন্মায় না। মানুষের ১২টি দাঁত জীবনে মাত্র একবারই গজায় (মনোফিওডন্ট)।
উদাহরণ 3
ডিওডিনামে এন্টেরোকাইনেজ কীভাবে অগ্ন্যাশয় রসের নিষ্ক্রিয় উৎসেচকগুলিকে সক্রিয় করে? ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন পরিপাকের ক্রমান্বয়িক বিক্রিয়াগুলি লেখো। [২ + ৩ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রথম অংশ: এন্টেরোকাইনেজের ভূমিকা ও ক্যাসকেড সক্রিয়করণ (২ নম্বর):
অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিনভঙ্গক উৎসেচকগুলি নিষ্ক্রিয় জাইমোজেন হিসেবে থাকে যাতে অগ্ন্যাশয়ের নিজস্ব কলার ক্ষতি না হয়। ডিওডিনামে এদের সক্রিয়করণের ধাপসমূহ:
১. প্রাথমিক সক্রিয়ক: ডিওডিনাম মিউকোসার ব্রাশ-বর্ডার থেকে ক্ষরিত এন্টেরোকাইনেজ (Enterokinase) উৎসেচকটি প্রথমে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেনকে ভেঙে সক্রিয় ট্রিপসিনে রূপান্তরিত করে।
২. স্ব-অনুঘটন ক্যাসকেড: উৎপন্ন সক্রিয় ট্রিপসিন নিজে একটি মাস্টার অ্যাক্টিভেটর হিসেবে কাজ করে অবশিষ্ট ট্রিপসিনোজেনকে স্ব-অনুঘটনের মাধ্যমে সক্রিয় করে এবং অন্যান্য নিষ্ক্রিয় প্রোএনজাইমকে সক্রিয় করে:
• ট্রিপসিনোজেন $\xrightarrow{\text{এন্টেরোকাইনেজ}}$ ট্রিপসিন
• কাইমোট্রিপসিনোজেন $\xrightarrow{\text{ট্রিপসিন}}$ কাইমোট্রিপসিন
• প্রোক্সি $\xrightarrow{\text{ট্রিপসিন}}$ কার্বক্সিপেপটাইডেজ

দ্বিতীয় অংশ: ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন পরিপাকের ক্রমান্বয়িক বিক্রিয়া (৩ নম্বর):
১. অগ্ন্যাশয়ের এন্ডোপেপটাইডেজের ক্রিয়া (অভ্যন্তরীণ পেপটাইড বন্ধন ভাঙে):
$$\text{প্রোটিন, পেপটন, প্রোটিওজ} \xrightarrow[\text{pH } 7.8-8.2]{\text{ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন}} \text{পলিপেপটাইড} + \text{ডাইপেপটাইড}$$ ২. অগ্ন্যাশয়ের এক্সোপেপটাইডেজের ক্রিয়া (প্রান্তীয় C-টার্মিনাল পেপটাইড ভাঙে):
$$\text{পলিপেপটাইড} \xrightarrow{\text{কার্বক্সিপেপটাইডেজ}} \text{ডাইপেপটাইড} + \text{মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড}$$ ৩. আন্ত্রিক রসের (সাক্কাস এন্টেরিকাস) ব্রাশ-বর্ডার উৎসেচকের ক্রিয়া:
$$\text{ডাইপেপটাইড} \xrightarrow{\text{ডাইপেপটাইডেজ}} ২\text{টি মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড}$$ অ্যামিনোপেপটাইডেজ N-টার্মিনাল প্রান্ত থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড মুক্ত করে সম্পূর্ণ শোষণযোগ্য একক গঠন করে।
উদাহরণ 4
মানবদেহে ফ্যাট পরিপাক ও শোষণের ধাপগুলি আলোচনা করো। শোষিত চর্বি রক্তজালকে প্রবেশ না করে ভিলাসের ল্যাকটিয়েলে প্রবেশ করে কেন? [৩ + ২ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রথম অংশ: ফ্যাট পরিপাক ও শোষণের ধাপসমূহ (৩ নম্বর):
লিপিড জলে অদ্রবণীয় হওয়ায় এর পরিপাক ও শোষণ অত্যন্ত বিশেষায়িত কৌশলে ঘটে:
১. পিত্তলবণ দ্বারা ইমালসিফিকেশন: ডিওডিনামে পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও টরোকোলেট) চর্বির পৃষ্ঠটান কমিয়ে বৃহৎ চর্বি বিন্দুগুলিকে অতি ক্ষুদ্র ড্রপলেটে ভেঙে অবদ্রবণ বা ইমালশন তৈরি করে, যা লাইপেজের কার্যকরী তল বৃদ্ধি করে।
২. অগ্ন্যাশয় লাইপেজের ক্রিয়া: অগ্ন্যাশয় লাইপেজ (স্টিয়াপসিন) ইমালসিফাইড ফ্যাটকে ভাঙে:
$$\text{ট্রাইগ্লিসারাইড} \xrightarrow{\text{লাইপেজ}} \text{ডাইগ্লিসারাইড} \to \text{মনোগ্লিসারাইড} + \text{ফ্যাটি অ্যাসিড}$$ ৩. মাইসেলি গঠন ও কোষে প্রবেশ: ফ্যাটি অ্যাসিড ও মনোগ্লিসারাইড পিত্তলবণের সাথে যুক্ত হয়ে জলদ্রবণীয় মাইসেলি (ব্যাস ৪–৭ nm) গঠন করে এন্টারোসাইটের ব্রাশ বর্ডারে লিপিড পৌঁছে দেয়। লিপিড সরল ব্যাপনে কোষে ঢোকে।
৪. কাইলোমাইক্রন তৈরি: কোষের মসৃণ ER-এ পুনরায় ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি হয় এবং গলগি বডিতে এর ওপর প্রোটিন ও কোলেস্টেরল আবরণ যুক্ত হয়ে কাইলোমাইক্রন (ব্যাস ১০০–৫০০ nm) গঠিত হয়।

দ্বিতীয় অংশ: চর্বি রক্তজালকের পরিবর্তে ল্যাকটিয়েলে প্রবেশের কারণ (২ নম্বর):
• আকারের বাধা: কাইলোমাইক্রন অত্যন্ত বৃহৎ লিপোপ্রোটিন অণু (১০০–৫০০ nm)। রক্তজালকের ভিত্তি পর্দা অবিচ্ছিন্ন এবং রক্তজালকের এন্ডোথেলিয়ামের সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফেনেসট্রা (৫০–১০০ nm) দিয়ে এত বড় কাইলোমাইক্রন সরাসরি রক্তে ঢুকতে পারে না।
• ল্যাকটিয়েলের প্রাচীর গঠন: পক্ষান্তরে, ভিলাসের কেন্দ্রে অবস্থিত লসিকানালী ল্যাকটিয়েলের কোনো অবিচ্ছিন্ন ভিত্তি পর্দা থাকে না এবং এর এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলির সংযোগস্থলে বৃহৎ ফাঁক বা ক্লেফ্ট থাকে। ফলে বৃহদাকার কাইলোমাইক্রন সহজেই ল্যাকটিয়েলের গহ্বরে প্রবেশ করে লসিকার মাধ্যমে থোরাসিক ডাক্ট হয়ে সংবহনে পৌঁছায়।
উদাহরণ 5
পুষ্টিগত কারণ, বয়স, বাহ্যিক লক্ষণ, শোথ (ইডিমা) ও ত্বকের নিচের চর্বির উপস্থিতির ভিত্তিতে কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাসের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো। [৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টির (PEM) দুটি প্রধান রূপের মধ্যে তুলনামূলক সারণী:
পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) [প্রতি সঠিক পয়েন্টে ১ নম্বর] ম্যারাসমাস (Marasmus)
১. পুষ্টিগত কারণ খাদ্যে কেবলমাত্র তীব্র প্রোটিনের ঘাটতি; ক্যালোরির মাত্রা সাধারণত ঠিক থাকে। খাদ্যে প্রোটিন এবং মোট ক্যালোরি উভয়েরই চরম ঘাটতি (অনাহারজনিত অবস্থা)।
২. আক্রান্তের বয়স সাধারণত ১ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত ১ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
৩. শোথ বা ইডিমা (Edema) শোথ উপস্থিত থাকে (রক্তে প্রোটিন কমে যাওয়ায় পা, হাত ও মুখ ফুলে যায়)। শোথ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (দেহ চরম জলশূন্য ও শুষ্ক হয়)।
৪. ত্বকের নিচের চর্বি ত্বকের নিচে চর্বির স্তর বজায় থাকে। ত্বকের নিচের চর্বি সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৫. দৈহিক বাহ্যিক রূপ পেট ফোলা ('পট বেলি'), যকৃতে চর্বি জমা, চুলের বর্ণ পরিবর্তন ('ফ্ল্যাগ সাইন'), খসে পড়া ত্বক। কঙ্কালসার চেহারা, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট, ত্বক কুঁচকানো, মুখ "ছোটখাটো বৃদ্ধ মানুষের মতো" দেখায়।
উদাহরণ 6
মানব পৌষ্টিকনালীর অন্তঃখরা হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ আলোচনা করো। গ্যাস্ট্রিন, সিক্রেটিন, CCK-PZ এবং GIP হরমোনের উৎস ও সুনির্দিষ্ট কাজ লেখো। [১ + ৪ = ৫ নম্বর]
ধাপে ধাপে সমাধান / উত্তর:
প্রথম অংশ: পৌষ্টিকনালীর হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ ভূমিকা (১ নম্বর):
পৌষ্টিকনালীর বিভিন্ন অংশের মিউকোসায় অবস্থিত এন্টেরোএন্ডোক্রাইন কোষগুলি কতগুলি পেপটাইড হরমোন ক্ষরণ করে যা খাদ্যের গতিবিধির সাথে সংগতি রেখে বিভিন্ন পরিপাক গ্রন্থির ক্ষরণ ও নালীর চলন সমন্বয় করে।

দ্বিতীয় অংশ: চারটি প্রধান হরমোনের উৎস ও কাজ (৪ নম্বর, প্রতি হরমোনে ১ নম্বর):
১. গ্যাস্ট্রিন (Gastrin):
• উৎস: পাকস্থলীর পাইলোরাস ও ডিওডিনামের G-কোষ।
• কাজ: প্যারাইটাল কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ($\text{HCl}$) এবং চিফ কোষ থেকে পেপসিনোজেন ক্ষরণ বৃদ্ধি করে; পাকস্থলীর সঞ্চালন বাড়ায়।
২. সিক্রেটিন (Secretin - প্রথম আবিষ্কৃত হরমোন):
• উৎস: ডিওডিনাম মিউকোসার S-কোষ।
• কাজ: অম্ল কাইম দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষারীয় জল ও প্রচুর বাইকার্বোনেট ($\text{HCO}_3^-$) ক্ষরণ ঘটায় যাতে অম্লত্ব দূর হয়; পাকস্থলীর অম্ল ক্ষরণ বন্ধ করে।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন-প্যানক্রিওজাইমিন (CCK-PZ):
• উৎস: ক্ষুদ্রান্ত্রের (ডিওডিনাম ও জেজুনাম) I-কোষ।
• কাজ: ফ্যাট খাদ্যের উপস্থিতিতে পিত্তাশয়কে সংকুচিত করে পিত্ত নিঃসরণ ঘটায়; অগ্ন্যাশয়কে উদ্দীপিত করে উৎসেচক-সমৃদ্ধ অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করায় এবং ওডির স্ফিংক্টারকে শিথিল করে।
৪. গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড (GIP / এন্টেরোগ্যাস্ট্রোন):
• উৎস: ডিওডিনামের K-কোষ।
• কাজ: পাকস্থলীর অম্ল ক্ষরণ ও চলনকে বাধা দেয়; রক্তে গ্লুকোজ শোষণের পূর্বাভাস পেয়ে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ ঘটায়।

সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা (Common Traps)

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে পিত্তরসে চর্বি পরিপাককারী উৎসেচক থাকে।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

মনে করা যে কাইলোমাইক্রন সরাসরি রক্তজালকে শোষিত হয়।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাসের লক্ষণ এবং শোথ (ইডিমা) গুলিয়ে ফেলা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

পেপসিনোজেন কেবল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) দ্বারাই সক্রিয় হয় বলে মনে করা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

সাধারণ ভুল ধারণা

শিশুর দুধের দাঁতের সংকেতে পুরোপেষক (Premolar) দাঁতের সংখ্যা লেখা।

সঠিক পদ্ধতি ও সমাধান

চিত্রগত ব্যাখ্যা ও মডেল

১৪ পরিপাক ও শোষণ: পৌষ্টিকতন্ত্রের কলাস্থান, উৎসেচক ক্রিয়া ও শোষণ শারীরবিদ্যা পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক একাদশ শ্রেণি জীববিদ্যা • একক ৫: মানব শারীরবিদ্যা • সম্পূর্ণ ধারণামূলক রেখাচিত্র ১. পৌষ্টিকনালীর কলাস্থান ও দন্ত সংকেত মানুষের দন্তবিন্যাস (থিকোডন্ট, হেটেরোডন্ট) প্রাপ্তবয়স্ক: (I 2/2, C 1/1, PM 2/2, M 3/3) = ৩২ শিশু: ২১০২ / ২১০২ = ২০ (পুরোপেষক বা PM অনুপস্থিত) পৌষ্টিক প্রাচীরের ৪টি স্তর (বাইরে থেকে ভেতরে): ১. সেরোসা (Serosa - সর্ববহিঃস্থ স্তর) ভিসারাল পেরিটোনিয়াম • পাতলা মেসোথেলিয়াম ও যোগকলা ২. পেশী স্তর (Muscularis - মসৃণ পেশী) বাইরে অনুদৈর্ঘ্য + ভেতরে বৃত্তাকার পেশী (পাকস্থলীতে তির্যক) আউয়ারবাখ প্লেক্সাস → ক্রমসংকোচন (Peristalsis) নিয়ন্ত্রণ ৩. সাবমিউকোসা (Submucosa) শিথিল যোগকলা • রক্তবাহী জালক, স্নায়ু ও লসিকানালী ডিওডিনামে ব্রুনার গ্রন্থি (Brunner's) • মেসনার প্লেক্সাস ৪. মিউকোসা (Mucosa - সর্বভেতরের ক্ষরণকারী স্তর) পাকস্থলীতে রুগী (Rugae) • ক্ষুদ্রান্ত্রে ভিলাই ও মাইক্রোভিলাই গবলেট কোষ (শ্লেষ্মা) • প্যানেথ কোষ (জীবাণুনাশক লাইসোজাইম) লাইবারকুনের নিভৃত খাঁজ → আন্ত্রিক রস ক্ষরণ ভিলাসের অভ্যন্তরীণ গঠন: কেন্দ্রীয় লসিকাবাহ ল্যাকটিয়েল (Lacteal) + রক্তজালক ২. রাসায়নিক পরিপাক ও উৎসেচক ক্যাসকেড মুখবিবর (লালা অ্যামাইলেজ / টায়ালিন, pH 6.8) শ্বেতসার (৩০%) + জল → মলটোজ + আইসোমলটোজ বোলাস (Bolus) তৈরি • লাইসোজাইম (জীবাণুনাশক) পাকস্থলী (গ্যাস্ট্রিক রস, pH 1.5 - 2.5) অক্সিন্টিক কোষ → HCl + ক্যাসলের ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর (B₁₂) পেপসিনোজেন + HCl → সক্রিয় পেপসিন প্রোটিন → প্রোটিওজ + পেপটন (কাইম / Chyme) অগ্ন্যাশয় রস ও পিত্ত (ডিওডিনাম, pH 7.8-8.2) এন্টেরোকাইনেজ ক্যাসকেড সক্রিয়করণ ঘটায়: ট্রিপসিনোজেন → ট্রিপসিন (স্ব-অনুঘটনকারী সক্রিয়ক) কাইমোট্রিপসিনোজেন → কাইমোট্রিপসিন • প্রোক্সি → কার্বক্সি পিত্তলবণ (উৎসেচকহীন): ফ্যাটের অবদ্রবণ (ইমালসিফিকেশন) অ্যামাইলোপসিন (শ্বেতসার) • স্টিয়াপসিন (লাইপেজ) ওডির স্ফিংক্টার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সাধারণ নালী আন্ত্রিক রস (Succus Entericus - অন্তিম উৎসেচক) • মলটোজ → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ (মলটেজ) • ল্যাকটোজ → গ্লুকোজ + গ্যালাকটোজ (ল্যাকটেজ) • সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুকটোজ (সুক্রেজ) • ডাইপেপটাইড → অ্যামিনো অ্যাসিড (ডাইপেপটাইডেজ) • নিউক্লিওটাইড → নিউক্লিওসাইড → ক্ষারক + শর্করা অন্তিম ক্ষারীয় পরিপাককৃত তরল: কাইল (Chyle) ৩. শোষণ পদ্ধতি ও প্রোটিন অপুষ্টি (PEM) শোষণ কৌশল (মিউকোসাল কোষ) ১. সরল ব্যাপন: গ্লুকোজ (স্বল্প), অ্যামিনো অ্যাসিড, Cl⁻ ২. সহায়ক পরিবহন: ফ্রুকটোজ (বাহক প্রোটিন) ৩. সক্রিয় পরিবহন: গ্লুকোজ, গ্যালাকটোজ, Na⁺ (ATP) সোডিয়ামের সাথে গৌণ সক্রিয় সহ-পরিবহন ফ্যাট শোষণ: মাইসেলি থেকে ল্যাকটিয়েল ১. ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল + পিত্তলবণ → মাইসেলি (Micelle) ২. মাইসেলি আন্ত্রিক আবরণী কোষে প্রবেশ করে ৩. মসৃণ ER-এ পুনরায় ট্রাইগ্লিসারাইড সংশ্লেষ ৪. প্রোটিন আবরণী যুক্ত হয়ে → কাইলোমাইক্রন ৫. ভিলাসের ল্যাকটিয়েলে প্রবেশ → বক্ষীয় নালী → রক্ত প্রোটিন-ক্যালোরি অপুষ্টি (PEM) কোয়াশিওরকর (কেবল প্রোটিনের ঘাটতি) • বয়স: > ১ বছর • শোথ (Edema) উপস্থিত • পেট ফোলা, যকৃতে চর্বি সঞ্চয়, ত্বকের নিচে চর্বি বজায় থাকে • রক্তে অ্যালবুমিনের অভাবে জল জমা হয় ম্যারাসমাস (প্রোটিন + ক্যালোরি উভয়ের ঘাটতি) • বয়স: < ১ বছর (শিশু) • শোথ (Edema) অনুপস্থিত • চরম শীর্ণতা, চামড়ার নিচে কোনো চর্বি থাকে না, কুঁচকানো ত্বক • পাঁজর স্পষ্ট দেখা যায়, বৃদ্ধ মানুষের মতো চেহারা

অধ্যায় সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মূল বিষয় 1
মানব পৌষ্টিকনালীর প্রাচীর বাইরে থেকে ভেতরে ৪টি স্তরে গঠিত: সেরোসা (পেরিটোনিয়াম), পেশী স্তর (অনুদৈর্ঘ্য ও বৃত্তাকার), সাবমিউকোসা (ডিওডিনামে ব্রুনার গ্রন্থিযুক্ত) এবং মিউকোসা (ভিলাই ও গবলেট কোষযুক্ত)।
মূল বিষয় 2
পৌষ্টিক স্নায়ুতন্ত্রে পেশীস্তরের মাঝখানে আউয়ারবাখ প্লেক্সাস পেরিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাবমিউকোসায় মেসনার প্লেক্সাস গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল বিষয় 3
মানুষের দাঁত থিকোডন্ট (চোয়ালের অস্থির গর্তে প্রোথিত), ডাইফিওডন্ট (দুধে দাঁত ও স্থায়ী দাঁত) এবং হেটেরোডন্ট (কৃন্তন, ছেদক, পুরোপেষক ও পেষক)। প্রাপ্তবয়স্কের সংকেত 2123/2123 (৩২টি) এবং শিশুর সংকেত 2102/2102 (২০টি, পুরোপেষক অনুপস্থিত)।
মূল বিষয় 4
এনামেল মানবদেহের কঠিনতম নির্জীব পদার্থ যা অ্যামেলোব্লাস্ট দ্বারা ক্ষরিত; ডেন্টিন ওডোন্টোব্লাস্ট দ্বারা ক্ষরিত সজীব স্তর।
মূল বিষয় 5
লালাগ্রন্থি তিন জোড়া: প্যারোটিড (স্টেনসেনের নালী), সাবম্যান্ডিবুলার (হোয়ার্টনের নালী) ও সাবলিঙ্গুয়াল (রিভিনাসের নালী)। লালার টায়ালিন pH 6.8-এ শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙে।
মূল বিষয় 6
যকৃৎ লোবিউল গ্লিসনস ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত এবং কুফার কোষ দ্বারা জীবাণু ধ্বংস করে। পিত্তরসে কোনো উৎসেচক থাকে না; এটি পিত্তলবণের সাহায্যে ফ্যাটের ইমালসিফিকেশন ঘটায়।
মূল বিষয় 7
সাধারণ পিত্তনালী ও অগ্ন্যাশয়নালী মিলিত হয়ে হেপাটোপ্যানক্রিয়াটিক নালী গঠন করে, যা ওডির স্ফিংক্টার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে ডিওডিনামে উন্মুক্ত হয়।
মূল বিষয় 8
ডিওডিনামে এন্টেরোকাইনেজ ট্রিপসিনোজেনকে সক্রিয় ট্রিপসিনে রূপান্তরিত করে ক্যাসকেড সক্রিয়করণ ঘটায়; আন্ত্রিক রসের অন্তিম উৎসেচক খাদ্যকে শোষণযোগ্য এককে পরিণত করে।
মূল বিষয় 9
গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড সক্রিয় সহ-পরিবহনে শোষিত হয়; ফ্যাটি অ্যাসিড মাইসেলি গঠন করে কোষে ঢোকে এবং কাইলোমাইক্রন কণা তৈরি করে কেন্দ্রীয় ল্যাকটিয়েলে শোষিত হয়।
মূল বিষয় 10
প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টিতে কোয়াশিওরকর (কেবল প্রোটিন ঘাটতি, বয়স >১ বছর, শোথ ও পেট ফোলা বর্তমান) এবং ম্যারাসমাস (প্রোটিন ও ক্যালোরি উভয়ের ঘাটতি, বয়স <১ বছর, শোথ অনুপস্থিত, চরম কঙ্কালসার চেহারা)।

স্ব-মূল্যায়ন অনুশীলন (Check Your Understanding)

মূল ধারণাগত স্পষ্টতা যাচাই করার জন্য অনুশীলন প্রশ্ন। উত্তর দেখার আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো।

1
কোন গ্রন্থিটি কেবলমাত্র ডিওডিনামের সাবমিউকোসায় অবস্থান করে এবং এর ক্ষরণের শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: ব্রুনার গ্রন্থি (Brunner's glands) কেবল ডিওডিনামের সাবমিউকোসায় থাকে। এটি ক্ষারীয় ও শ্লেষ্মা সমৃদ্ধ রস ক্ষরণ করে যাতে প্রচুর বাইকার্বোনেট থাকে। এটি পাকস্থলীর তীব্র অম্ল কাইমকে প্রশমিত করে, ডিওডিনাম প্রাচীরকে আলসারের হাত থেকে বাঁচায় এবং অগ্ন্যাশয় ও আন্ত্রিক উৎসেচকের উপযুক্ত ক্ষারীয় পরিবেশ (pH 7.8–8.2) নিশ্চিত করে।
2
পিত্তরসে কোনো পাচক উৎসেচক না থাকা সত্ত্বেও একে পরিপাক রস হিসেবে গণ্য করা হয় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পিত্তরসে কোনো পরিপাককারী উৎসেচক না থাকলেও এতে সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও টরোকোলেটের মতো পিত্তলবণ থাকে, যা চর্বির পৃষ্ঠটান কমিয়ে বৃহৎ চর্বি বিন্দুকে অতি ক্ষুদ্র কণিকায় রূপান্তরিত করে (ইমালসিফিকেশন)। এর ফলে লাইপেজ উৎসেচকের কার্যকরী তল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া পিত্তরস ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে অগ্ন্যাশয় লাইপেজকে সক্রিয় করে।
3
রক্তজালক ও ল্যাকটিয়েলের গঠনের দুটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো যা ফ্যাট শোষণ পথকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: প্রথমত, রক্তজালকের ভিত্তি পর্দা অবিচ্ছিন্ন থাকে এবং এর এন্ডোথেলিয়ামের ক্ষুদ্র ছিদ্র বা ফেনেসট্রা দিয়ে বৃহৎ লিপোপ্রোটিন কণা কাইলোমাইক্রন (ব্যাস ১০০–৫০০ nm) ঢুকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ল্যাকটিয়েলের কোনো অবিচ্ছিন্ন ভিত্তি পর্দা থাকে না এবং এর এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলির সংযোগস্থলে বৃহৎ ফাঁক থাকে, যার মধ্য দিয়ে কাইলোমাইক্রন সহজেই লসিকানালীতে প্রবেশ করতে পারে।
4
কোনো ব্যক্তির পাকস্থলী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হলে কী মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: পাকস্থলী অপসারণ করলে খাদ্য সঞ্চয় ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পাশাপাশি প্যারাইটাল বা অক্সিন্টিক কোষগুলি হারিয়ে যাবে। ফলে ক্যাসলের ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টরের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাবে। ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর ছাড়া অন্ত্রের শেষ প্রান্তে ভিটামিন B12 শোষিত হতে পারে না, যার ফলে মারাত্মক রক্তাল্পতা বা পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেবে।
5
অগ্ন্যাশয়ের প্রোটিয়েজ সক্রিয়করণে এন্টেরোকাইনেজের ভূমিকা পরবর্তী ধাপগুলি থেকে কীভাবে পৃথক?
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন
উত্তর: এন্টেরোকাইনেজ হলো একটি প্রাথমিক বহিঃস্থ ট্রিগার যা আন্ত্রিক মিউকোসার ব্রাশ বর্ডারে থাকে এবং কেবল ট্রিপসিনোজেনকে ট্রিপসিনে রূপান্তরিত করে। এর পরবর্তী সমস্ত সক্রিয়করণ ট্রিপসিন নিজেই স্ব-অনুঘটন প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করে আরও ট্রিপসিনোজেন, কাইমোট্রিপসিনোজেন এবং প্রোক্সিকে সক্রিয় করে।
অধ্যায় পড়া শেষ হয়েছে?
অনুশীলন শুরু করো

অনলাইন মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করো

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বহু বিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) সমাধান করো। তাৎক্ষণিক ফলাফল, সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজের স্কোর জেনে নাও।

শ্রেণি 11 Biology — সকল অধ্যায়

অধ্যায় 1: সজীব বিশ্ব অধ্যায় 2: জীবের শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায় 3: উদ্ভিদ রাজ্য অধ্যায় 4: প্রাণী রাজ্য অধ্যায় 5: সপুষ্পক উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান অধ্যায় 6: সপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্গঠন অধ্যায় 7: প্রাণীদের গঠনগত সংগঠন অধ্যায় 8: কোষ: জীবনের একক অধ্যায় 9: জৈব অণুসমূহ অধ্যায় 10: কোষ চক্র ও কোষ বিভাজন অধ্যায় 11: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ অধ্যায় 12: উদ্ভিদে শ্বসন অধ্যায় 13: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্ধন অধ্যায় 14: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় 15: শ্বাসকার্য ও গ্যাসীয় বিনিময় অধ্যায় 16: দেহ তরল ও সংবহন অধ্যায় 17: রেচন পদার্থ ও তাদের নিষ্কাশন অধ্যায় 18: চলন ও গমন অধ্যায় 19: স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় অধ্যায় 20: রাসায়নিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

AI সহায়ক

তাত্ক্ষণিক সমাধান

পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আছে? আমাদের AI শিক্ষক থেকে সহজ সমাধান ও ব্যাখ্যা নিন।